বৈশ্বিক সম্প্রদায়কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী

অভিবাসীদের পুনর্বাসনের দায়িত্ব নিতে হবে

আপডেট : ০৫ জুন ২০২২, ০৩:৩৮ এএম

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, জলবায়ুর কারণে বাস্তুচ্যুত অভিবাসীদের পুনর্বাসনের দায়িত্ব বৈশ্বিক সম্প্রদায়কে ভাগাভাগি করে নিতে হবে। তাদের উচিত জলবায়ু অভিবাসীদের পুনর্বাসনের বোঝা ভাগ করে নেওয়া।

স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এসআইপিআরআই) আয়োজিত ‘শান্তির পরিবেশ : ঝুঁকির নতুন যুগে ন্যায্য ও শান্তিপূর্ণ উত্তরণ সুরক্ষিত’ শীর্ষক বৈঠকে যোগ দিয়ে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ বৈঠকটি শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ সফরে তিনি সুইডেনের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ও সহযোগিতা বিষয়ক মন্ত্রী মাতিলদা এরনক্রানসের সঙ্গেও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। এছাড়া জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল এবং জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির (ইউএনইপি) নির্বাহী পরিচালক ইনগার অ্যান্ডারসেনের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন।

ওই বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন যে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় লাখ লাখ ‘জলবায়ু অভিবাসীদের’ জন্য যথেষ্ট কাজ করছে না। যারা প্রায়শই বিভিন্ন ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং শোষণের শিকার হয়। তিনি জলবায়ু-নিরাপত্তা নেক্সাস এবং চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি এনফোর্সমেন্ট মেকানিজম সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা তৈরির তাৎপর্যের ওপর জোর দেন।

ড. মোমেন সুইডেনের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতা বিষয়ক মন্ত্রী মাতিলদা এরনক্রানসের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে জলবায়ু পরিবর্তন, শিক্ষা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা কীভাবে বাড়ানো যায় সে বিষয়ে আলোচনা করেন। জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে সুইডিশ মন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান। জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল এবং জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির (ইউএনইপি) নির্বাহী পরিচালক ইনগার অ্যান্ডারসেনের সঙ্গে সাক্ষাতে কীভাবে পরিবেশ ও জলবায়ু সংক্রান্ত বিষয়ে ইউএনইপির সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করা যায় সে বিষয়ে আলোচনা করেন ড. মোমেন।

ইনগার অ্যান্ডারসেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশের সফল প্রক্রিয়ার প্রশংসা করেন। তিনি জলবায়ু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইউএনইপি কর্র্তৃক আয়োজিত জলবায়ু প্রযুক্তি তহবিল থেকে বাংলাদেশকে সহায়তা করার প্রস্তাব করেন।

অপর এক সেশনে অংশ নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতি, ধর্ম, বর্ণ এবং রাজনৈতিক বিভাজন ভুলে সবার জন্য একটি টেকসই এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ভবিষ্যতের জন্য প্রযুক্তি এবং অর্থনৈতিক স্বার্থের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি জলবায়ু অভিযোজন, প্রশমন ও স্থিতিস্থাপকতায় বিনিয়োগ বাড়ানো, খাদ্য উৎপাদন ও ব্যবহারের ধরন পরিবর্তন এবং প্রাকৃতিক বাসস্থান ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি বন্ধের করার সুপারিশ করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত