কৌশলে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি চাপে পড়বে শিল্প কৃষি

আপডেট : ০৬ জুন ২০২২, ০২:৫১ এএম

বাসাবাড়িতে দুই চুলার গাসের দাম বেড়েছে ১০৫ টাকা। আর এক চুলায় বেড়েছে ৪০ টাকা। যানবাহনে ব্যবহৃত সিএনজির দাম বাড়েনি। এই দুটি খাতে গ্যাসে দাম বাড়লে সাধারণত ব্যাপক হইচই হয়। সে কারণে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এই দুটি খাতের একটির দাম বাড়িয়েছে অল্প, অন্যটিতে বাড়ায়নি।

তবে ভোক্তা পর্যায়ে গড়ে দাম বাড়ানো হয়েছে প্রায় ২৩ শতাংশ। কৃষির বড় উপকরণ সারকারখানায় ব্যবহৃত গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে প্রায় ২৬০ শতাংশ, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পের সব খাতেও বাড়ানো হয়েছে। এতে করে শিল্প ও কৃষি চাপে পড়বে, ঘুরেফিরে বৃহৎ ও ক্ষুদ্র অর্থনীতির ওপরই সেই চাপ গিয়ে পড়বে।

গতকাল রবিবার অনলাইন মাধ্যমে সংবাদ সম্মেলন করে গ্যাসের নতুন দাম ঘোষণা করেন বিইআরসির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু ফারুক। সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্য ছিলেন কমিশনের সদস্য মকবুল ই ইলাহী চৌধুরী, বজলুর রহমান ও কামরুজ্জামান।

গ্যাসের নতুন দাম জুন থেকে কার্যকর হবে অর্থাৎ আগামী মাসে বাড়তি বিল দিতে হবে গ্রাহকদের।

গ্যাসের দাম বাড়ানোর সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এই খাতে ১১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ঘাটতি হবে। এই টাকার মধ্যে সরকার ৬৮০০ কোটি টাকা ভর্তুকি হিসেবে বাজেটে বরাদ্দ রাখবে। অন্যদিকে জ্বালানি নিরাপত্তা তহবিল ও কোম্পানিগুলোর লভ্যাংশ থেকে সমন্বয় করা হবে ৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকা।

সরকার উৎপাদন পর্যায়ে কোনো ভর্তুকি দেবে না বলেই সারে এতটা দাম বাড়ানো হয়েছে। সরকার ভোক্তা পর্যায়ে এই ভর্তুকি দেবে বলে সারে গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আবাসিক গ্রাহকদের প্রতি মাসে এক চুলার বর্তমান দর ৯৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯৯০ টাকা, দুই চুলা ৯৭৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০৮০ টাকা করা হয়েছে। প্রি-পেইড মিটার ব্যবহারকারী গ্রাহকদের বর্তমান দর প্রতি ইউনিট ১২ টাকা ৬০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১৮ টাকা, সারকারখানায় ব্যবহৃত গ্যাসের দাম ঘনমিটার ৪ দশমিক ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৬ টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ ২৫৯ দশমিক ৫৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া বৃহৎ শিল্পে ১১ দশমিক ৯৬ শতাংশ, বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ব্যবহৃত গ্যাসে ১২ দশমিক ৮১ শতাংশ, ক্যাপটিভে ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ দাম বাড়ানো হয়েছে।

প্রতি ঘনমিটারের দাম বিদ্যুতে ৫ দশমিক ০২ টাকা, ক্যাপটিভে ১৬ টাকা, শিল্পকারখানায় ১১ দশমিক ৯৮ টাকা, মাঝারি শিল্পে ১১ দশমিক ৭৮ টাকা, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে ১০ দশমিক ৭৮ টাকা, চা শিল্পে ১১ দশমিক ৯৩ টাকা, বাণিজ্যিকে ২৬ দশমিক ৬৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফিড গ্যাস সিএনজির দাম প্রতি ঘনমিটার আগের ৪৩ টাকা অপরিবর্তিত রয়েছে।

সব খাত মিলিয়ে গ্যাসের দাম গড়ে ২২ দশমিক ৭৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।

এর আগে সবশেষ ২০১৯ সালে গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছিল।

গ্যাসের দাম বাড়ানোর বিষয়ে জানতে চাইলে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহ-সভাপতি জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. শামসুল আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বরাবরের মতো গণশুনানি প্রহসনে পরিণত হলো। কোনো যুক্তি তথ্যই আমলে নেওয়া হয়নি। গণশুনানিতে দাম বাড়ানোর যৌক্তিকতা প্রমাণ করতে পারেনি বিতরণ কোম্পানি ও পেট্রোবাংলা। কিন্তু ঠিকই তারা দাম বাড়িয়ে দিল।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত