আর্থিক ক্ষতি সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা!

আপডেট : ০৬ জুন ২০২২, ০২:৫৬ এএম

সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বিপুল ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। যদিও এই ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোতে (আইসিডি) রাখা তিন হাজারের বেশি কনটেইনারের মধ্যে কতসংখ্যক আমদানি-রপ্তানি পণ্যবোঝাই কনটেইনার পুড়ে গেছে বা ধ্বংস হয়েছে তার সুনির্দিষ্ট হিসাব এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে সম্পদহানির পরিমাণ টাকার অঙ্কে কত হতে পারে সে হিসাব তাৎক্ষণিকভাবে মেলানো যায়নি।

তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানি-রপ্তানি পণ্যের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১০০ মিলিয়ন ডলার বা এক হাজার কোটি টাকা হতে পারে। সেই সঙ্গে ডিপোর ক্ষতির পরিমাণ প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা। সব মিলিয়ে সম্পদের ক্ষতি সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা হবে বলে ধারণা করছেন তারা। তারা বলছেন, অর্থনীতিতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বড় ক্ষতের সৃষ্টি করবে এ অগ্নিকাণ্ড।

ব্যবসায়িক সংগঠনগুলো বলছে, এ ঘটনায় আরও বেশি উদ্বেগের কারণ হলো দেশের কমলাপুরসহ ১৯টি আইসিডির মধ্যে এমন ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড এই প্রথম। জানমালের ক্ষয়ক্ষতি এবং ঘটনার ভয়াবহতার দিক থেকে যা অবিশ^াস্য ও মর্মান্তিক। এ অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহতা ঢাকার সাভারে ২০১২ সালে তাজরীন গার্মেন্টসে অগ্নিকাণ্ডে মানুষের অসহায় মৃত্যুর করুণ কাহিনী এবং ১৯৯৮ সালে সিলেটের মাগুরছড়া গ্যাস ফিল্ডে ভয়ংকর বিস্ফোরণ ও কয়েক হাজার কোটি টাকার মজুদ গ্যাস বা সম্পদহানির কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। তাজরীনের আগুনে ছিল কর্মীদের মৃত্যুর মিছিল, মাগুরছড়ার গ্যাস ফিল্ডে হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদহানি এবং সর্বশেষ, বিএম কনটেইনার ডিপোর অগ্নিকাণ্ডে যুগপৎ তিন শতাধিক মানুষ হতাহত ও আমাদানি-রপ্তানি পণ্যের বিপুল ক্ষতি। এছাড়া বিএম কনটেইনার ডিপোসহ ১৯টি কনটেইনার ডিপোর নিরাপত্তা ও সেগুলোতে পণ্যভেদে কনটেইনার রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়টি এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে।

গতকাল রবিবার ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাইনুদ্দিন মালিক কর্তৃপক্ষের গাফিলতিকে দোষারোপ করেছেন। তিনি বলেছেন, এখানে রাসায়নিকবাহী কনটেইনারগুলো সুনির্দিষ্ট কোনো ট্র্যাকে রাখা হয়নি এবং তা চিহ্নিত করা নেই। ফলে আগুন নেভাতে ফায়ার কর্মীদের ভীষণ বেগ পেতে হয়েছে এবং তাদের অনেককে জীবন পর্যন্ত দিতে হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়াল অ্যাডমিরাল এম শাহজাহানও গতকাল ওই দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে বিভিন্ন কনটেইনার ডিপোর অবহেলার জন্য ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেন।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোস অ্যাসোসিয়েশনের (বিকডা) চেয়ারম্যান নুরুল কাইয়ুম খানকে প্রশ্ন করা হলে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আইসিডিগুলো আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার সার্টিফিকেটপ্রাপ্ত এবং শতভাগ কমপ্লায়েন্ট। এখানে নিরাপত্তার বিষয় নিয়ে অভিযোগ সঠিক নয়। দুর্ঘটনা যেকোনো ক্ষেত্রে ঘটতে পারে।’ তার ভাষায়, ‘অ্যাকসিডেন্ট ইজ পিওরলি এন অ্যাকসিডেন্ট।’

এ দুর্ঘটনা নিয়ে কাস্টমস কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থার পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠনের কথা উল্লেখ করে নুরুল কাইয়ুম বলেন, ‘ভয়াবহ এ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১০০ মিলিয়ন ডলারের আমদানি-রপ্তানি পণ্য পুড়ে গেছে বা বিনষ্ট হয়েছে। আর ধ্বংসপ্রাপ্ত ডিপোর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দুই থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকা।’

সর্বশেষ প্রাপ্ত খবরে জানা যায়, মালিকপক্ষের একটি কারখানায় উৎপাদিত হাইড্রোজেন পার-অক্সাইডবোঝাই একটি রপ্তানিমুখী কনটেইনারে বিস্ফোরণের ঘটনা থেকে এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত। বিস্ফোরণে ওই কনটেইনার উড়ে গিয়ে অন্য কনটেইনারে পড়লে তাতে একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে এবং আগুনের লেলিহান শিখা ডিপোর ভেতরে এবং বাইরের জনপদের প্রায় চার বর্গকিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

আইসিডি স্থাপনের ইতিহাসে এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনা আর কখনো কেউ দেখেনি বা ঘটেনি উল্লেখ করে বিকডা চেয়ারম্যান নুরুল কাইয়ুম খান বলেন, ‘বিএম কনটেইনার ডিপোর অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহতা ও বিপুল আর্থিক ক্ষতি জাতীয় অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলবে। এটি জাতীয় অর্থনীতির জন্য যেমন দুর্ভাগ্য, আমাদের সবার জন্যও এ মন্দাকালে বড় দুর্ভাগ্য।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত