লিওনেল মেসির আগে আর্জেন্টিনার দুই ফুটবলার এক ম্যাচে একাই ৫ গোল করেছিলেন। তবে সর্বশেষটি ৮০ বছর আগে। সেই দুজন হুয়ান মারভেতসি ও হোসে মরেনো। ১৯৪১ কোপা আমেরিকাজয়ী আর্জেন্টিনা দলের সদস্য ছিলেন দুজনই। সেই টুর্নামেন্টেই ইকুয়েডরের বিপক্ষে ৬-১ গোলের জয়ে মারভেতজি করেন ৫ গোল। এক বছর পর একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ১২-০ গোলে জিতেছিল আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচেই ৫ গোল করেন হোসে মরেনো।
আন্তর্জাতিক ম্যাচে পাঁচ বা এর বেশি গোল করার কীর্তি দেখা গেছে ৮৯ বার। সর্বাধিক ১৩ গোল করার অবিশ্বাস্য রেকর্ডও আছে। ১০ বা এর বেশি গোল আছে তিনবার। ১৩ গোল করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার আর্চি থম্পসন ২০০১ সালে আমেরিকান সামোয়ার বিপক্ষে বিশ্ব রেকর্ড ৩১-০ গোলের জয়ে থম্পসন সতীর্থ ডাভিড দ্রিলিচও করেন ৮ গোল।
১৯৩৭ সালে চেকোসেøাভাকিয়ার বিপক্ষে খেলতে নেমে হাঙ্গেরির জর্জ সারোসি স্ট্রাইকার ৭ গোল করেছিলেন। ম্যাচ শেষ হয়েছিল ৮-৩ স্কোরে। ১৯৯৩ সালে উত্তর ও মধ্য আমেরিকার মহাদেশীয় অঞ্চলের টুর্নামেন্ট গোল্ডকাপে মার্তিনিকের বিপক্ষে ৯-০ গোলে জিতেছিল মেক্সিকো। সেই ম্যাচে ৭ গোল করেন লুইস আলভেস। ২০০৭ সালে সিঙ্গাপুরের নুর আলম শাহিনও লাওসকে দুঃস্বপ্ন উপহার দিয়ে ‘লাকি সেভেন’-এর দেখা পেয়েছিলেন। ম্যাচের স্কোর ছিল ১১-০। তবে দুঃস্বপ্নের কথা বললে গুয়ামের ধারেকাছে কেউ থাকবে না। ২০০৫ সালে চার দিনের ব্যবধানে হংকং ও উত্তর কোরিয়ার কাছে যথাক্রমে ১৫ ও ২১ গোল হজম করেছিল দলটি। হংকংয়ের চান সিউ হি এবং উত্তর কোরিয়ার কিম কোয়াং-হিয়োক করেছিলেন ৭টি করে গোল।
ম্যাচে একজন স্কোরারের ৬ গোল দেখা গেছে ১৬ বার। ১৯৭৭ ইউরোপে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে মাল্টার বিপক্ষে দলের ৯ গোলের ৬টিই ছিল অস্ট্রিয়ার হান্স ক্র্যাঙ্কির। ২০১৭ এশিয়া কাপ বাছাইপর্বে ভুটানের বিপক্ষে ওমানের আবদুল আজিজ আল মুকবালির। ৬ গোলের তিনটি ঘটনা অলিম্পিকে। বাকি ১১টি প্রীতি ম্যাচে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মালদ্বীপের আলি আশফাক গোল করেন ৯ বছর আগে।
৫ গোল করেছেন সব মিলিয়ে ৬৪ ফুটবলার। ২৭টি প্রীতি ম্যাচে, বাকিগুলো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ। বিশ্বকাপও একবার সাক্ষী হয়েছে এই কীর্তির। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে ক্যামেরুনের বিপক্ষে রাশিয়ার ৬-১ গোলের জয়ে একাই ৫ গোল করেছিলেন ওলেগ সালেঙ্কো। ইউরোর বাছাইপর্বের ম্যাচে ৫ গোল করেছেন চারজন। এর দুজন নেদারল্যান্ডসের। কিংবদন্তির মার্কো ফন বাস্তেন ১৯৯০-এ মাল্টার বিপক্ষে করেছিলেন ৫ গোল।
