বন্যাকবলিত ৬ জেলার কৃষিঋণ আদায় স্থগিত

আপডেট : ০৬ জুন ২০২২, ১১:০৭ পিএম

বন্যাকবলিত এলাকার কৃষকরা আগের ঋণ পরিশোধ করতে না পারলেও নতুন ঋণ পাবেন। ফসল চাষ, মৎস্য, পোলট্রি ও প্রাণিসম্পদ খাতে প্রকৃত চাহিদা ও বাস্তবতার নিরিখে দ্রততার সঙ্গে কৃষকদের নতুন ঋণ বিতরণে নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে দেওয়া  নির্দেশনায় বলা হয়, সম্প্রতি দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলাসহ পাশর্^বর্তী মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনা জেলায় ভারী বৃষ্টিপাত ও নদ-নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় কৃষির প্রধান প্রধান খাতগুলোর সঙ্গে জড়িত কৃষকরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠে কৃষকরা যাতে কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকে সে লক্ষ্যে নতুন ঋণপ্রাপ্তি সহজ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়, কৃষক পর্যায়ে ৪ শতাংশ সুদে ঋণ বিতরণের জন্য গঠিত বাংলাদেশ ব্যাংকের ৩ হাজার কোটি টাকার বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের আওতায় ২০০ কোটি টাকা বিতরণের লক্ষ্যে ব্যাংকের অব্যবহৃত স্থিতির ন্যূনতম ২০ শতাংশ সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনা জেলায় বিতরণ করতে হবে। সার্কুলার জারির তারিখ থেকে পরবর্তী ৬ মাস পর্যন্ত ওই জেলাগুলোর

কৃষকদের কাছ থেকে কৃষিঋণ আদায় স্থগিত রাখতে বলা হয়েছে। ব্যাংক-ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে বিতরণ করা ঋণও ৬ মাস আদায় স্থগিত রাখতে বলা হয় সার্কুলারে।

এই সময়ে এককালীন নগদ জমার শর্ত শিথিল করে খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল করার সুযোগ পাবেন কৃষকরা। তবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কাছ থেকে এককালীন নগদ জমা ছাড়াই ঋণ পুনঃতফসিল সুবিধা দিতে পারবে ব্যাংক। তাছাড়া কোনো কৃষকের আগের ঋণের কিস্তি বকেয়া থাকলেও তাকে নতুন ঋণ দিতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

কৃষকরা ঋণ পরিশোধ না করতে পারলেও তাদের নামে নতুন করে কোনো সার্টিফিকেট মামলা না করতে নির্দেশনা দেওয়া হয় ব্যাংকগুলোকে। যেসব মামলা আছে সেগুলোর তাগাদাও আপাতত বন্ধ রেখে সোলেনামার মাধ্যমে মামলা নিষ্পত্তি করতে নির্দেশনা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত