বাবার খোঁজে ডিএনএ নমুনা দিল সাত মাসের ফাইজা

আপডেট : ০৭ জুন ২০২২, ০২:০৬ এএম

সীতাকুণ্ডের বিএম কনটেইনার ডিপোতে বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহত স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের পরিবেশ। গতকাল সোমবার সেখানে নমুনা সংগ্রহ করছিলেন সিআইডির ফরেনসিক দলের সদস্যরা। ওই নমুনার সঙ্গে মিলিয়েই শনাক্ত করা হবে পুড়ে বিবৃত হয়ে যাওয়া ১৮ মরদেহের পরিচয়। 

বিএম কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে নিখোঁজ হয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির তত্ত্বাবধায়ক আবদুস সোবহান। নিহতদের মধ্যে তার লাশ আছে কি না সেটি নিশ্চিত হতে তারও হবে ডিএনএ টেস্ট। এজন্য নেওয়া হয়েছে তার সাত মাসের মেয়ে ফাইজা রহমানের ডিএনএ নমুনা।

গতকাল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মামার কোলে চড়ে নমুনা দিতে চমেক হাসপাতালে আসে সাত মাসের শিশু ফাইজা। পরে ফুপির কোলে বসিয়ে নেওয়া হয় তার নমুনা। সে সময়  কখনো সামনে থাকা কলম নিয়ে খেলছিল, কখনো ফুপির হাত ধরে হাসছিল। বাবার অন্তিম পরিণতি সম্পর্কে এখনো যে জানার বয়স হয়নি বাঁশখালীর শেখেরখীল গ্রামের সোবহানের মেয়ে ফাইজার। সে সময় কথা হয় ফাইজার মা ইস্ফাহান সুলতানার সঙ্গে। তিনি জানান, গত শনিবার রাতে ডিপোতে আগুন লাগার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান সোবহান। সেখানে গিয়ে তাকে ভিডিও কল দিয়ে আগুনের ভয়াবহতা দেখাচ্ছিলেন। ভিডিও কলে প্রায় ৪-৫ মিনিট কথা বলার পর হঠাৎ বিকট বিস্ফোরণ ঘটে। পরে ফোনের লাইন কেটে যায়। এরপর আর খোঁজ মেলেনি কোথাও। তিনি জানান, দুই বছর আগে তাদের বিয়ে হয়েছে। সাত মাস আগে জন্ম নিয়েছে তাদের মেয়ে ফাইজা রহমান। স্বামীর খোঁজ না পাওয়ায় দিশেহারা ইস্ফাহান। মেয়েকে নিয়ে কীভাবে বেঁচে থাকবেন বারবার বলছিলেন সে কথা। ইস্ফাহানের সঙ্গে চমেক হাসপাতালে আসেন আবদুস সোবহানের ভাই রায়হান উদ্দিনও। তারও ডিএনএ নমুনা নেওয়া হয়েছে।

ইস্ফাহানের মতো দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে নিখোঁজ কার্ভাড ভ্যানচালক স্বামী মো. শাহজাহানের (২৭) খোঁজ পেতে চমেক হাসপাতালে নমুনা দিতে আসেন রেশমা বেগম। সঙ্গে আসেন রেশমার বাবা মো. কালু ও নিখোঁজ শাহজাহানের বোন সূচনা আক্তার। নেওয়া হয় তাদের নমুনাও।

এদিকে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও সিভিল সার্জনের সংশোধিত তথ্যানুসারে নিহত ৪১ জনের মধ্যে ২৩ জনের মরদেহ ইতিমধ্যে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ডিএনএ নমুনা নেওয়া ও শনাক্তের বিষয়ে ফরেনসিক ডিপার্টমেন্ট সিআইডির অ্যাডিশনাল এসপি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জানান, লাশ শনাক্তে প্রত্যেক পরিবারের দুজন সদস্যের কাছ থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। বিষয়টি খুবই জটিল এবং স্পর্শকাতর। এ কারণে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এসব নিতে হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এসব রিপোর্ট দেওয়া হবে। তাতে এক মাসের মতো সময় লাগতে পারে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত