সন্ধ্যায়ও কয়েকটা স্পটে ছিল উচ্চ তাপের বিকিরণ

আপডেট : ০৭ জুন ২০২২, ০২:০৭ এএম

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়ি এলাকায় বিএম কনটেইনার ডিপোতে গতকাল সোমবার সন্ধ্যার দিকেও স্যাটেলাইট ইমেজ বা ছবিতে কয়েকটা স্পটে উচ্চ তাপের বিকিরণ (হাই হিট এক্সপোজার) দেখা যাচ্ছিল। তবে আগের দিনের তুলনায় আগুন ও বিস্ফোরণের কারণে ছড়িয়ে পড়া তাপের বিস্তার ও মাত্রা ছিল অনেক কম। গতকাল সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ডিপোর চারদিকে আড়াই বর্গকিলোমিটার পর্যন্ত তাপ ছড়িয়ে ছিল। তখন ডিপো থেকে চট্টগ্রামের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিকে তাপপ্রবাহের গতি ছিল ঘণ্টায় ১৭ কিমি। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে তা কমে ডিপোর চারদিকে প্রায় ১ কিলোমিটার এলাকায় (শূন্য দশমিক ৭৬ কিমি) নেমে আসে। এ সময় তাপপ্রবাহের গতিও ছিল কম।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আর্থ জুমের স্যাটেলাইট ইমেজ বা ছবি বিশ্লেষণ করে গতকাল তাপপ্রবাহের সর্বশেষ এই তথ্য জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের ডান্ডি বিশ্ববিদ্যালয়ের জিওগ্রাফি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগের শিক্ষক ও গবেষক ড. নন্দন মুখার্জি।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়ি এলাকায় বিএম কনটেইনার ডিপোতে গত শনিবার রাত ৯টার দিকে আগুন লাগে। সেখানে সংরক্ষিত হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড কনটেইনার বিস্ফোরণের কারণে চারদিকে তীব্র তাপপ্রবাহ ছড়িয়ে পড়ে। গত রবিবার বিকেল পর্যন্ত সরাসরি বিস্তার ছিল ডিপো থেকে আড়াই বর্গকিলোমিটার এলাকা এবং পরোক্ষভাবে তাপ ছড়িয়ে পড়েছিল ১০ বর্গকিলোমিটার পর্যন্ত। বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২২ কিমি। বিকেল সাড়ে ৫টার পর বাতাসের গতিবেগ কমে ঘণ্টায় ১৮ কিমিতে নেমে আসে। কমতে থাকে তাপও।

গতকাল সন্ধ্যা ৭টার দিকে ড. নন্দন মুখার্জি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পরিস্থিতি সারা দিন পর্যবেক্ষণ করেছি। আগুনের তাপ কমে এসেছে। সকাল (গতকাল) থেকে সন্ধ্যা (৭টা) পর্যন্ত তাপপ্রবাহের বিস্তার ছিল শূন্য দশমিক ৭৬ বর্গকিলোমিটার এলাকা পর্যন্ত। গত রবিবার তাপ অনেক গভীর ছিল। এখন সেটা নেই। গত রবিবার যেখানে তাপপ্রবাহের গতিবেগ ছিল কেন্দ্র থেকে দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে ঘণ্টায় ২৪ কিমি, আজ (গতকাল) সকালে সেটা কমে ঘণ্টায় ১৭ কিমিতে নেমে এসেছে। বাতাসের গতিবেগ অনুযায়ী তাপ ছড়ায়।’

এ গবেষক বলেন, ‘এখন যেটা দেখা যাচ্ছে, শুধু ডিপো এলাকার চারপাশে এক বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে তাপপ্রবাহ আছে। এখন তা অনেক কমে গেছে। রবিবার তাপপ্রবাহের যে রঙ ছিল ডিপ, এখন সেটা ফিকে হয়ে এসেছে। স্যাটেলাইট জুম থেকে ডিপোর আকৃতি বোঝা যাচ্ছে। রবিবার তাপের কারণে ডিপোর ভেতরে কিছু বোঝা যাচ্ছিল না। এখন ভেতরটা বোঝা যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘তাপপ্রবাহ খুব বেশি ডানে-বাঁয়ে বা ওপরে ছড়ায়নি। কারণ সীতাকুন্ডে যে পাহাড়গুলো আছে, বাতাস সেখানে বাধা পেয়ে যত ওপরে উঠেছে, ততই ঠা-া হয়েছে এবং তাপও কমে এসেছে। সীতাকুন্ডের পাহাড়ের নিচে অগ্নিকান্ডা ও বিস্ফোরণ হওয়ায়, তাপ পাহাড়ে বাধা পেয়ে যতই ওপরে উঠেছে, ততই ঠান্ডা হয়েছে। তাপপ্রবাহের ক্ষতিকর প্রভাবটা খুব বেশি ছড়াতে পারেনি। পাহাড় পরিবেষ্টিত হওয়ার কারণে তাপটা অন্য কোনো দিকে যেতে পারেনি।’

পানির দূষণ রোধে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের প্রশংসা করেন ড. নন্দন মুখার্জি। তিনি বলেন, ‘সরকার খুব ভালো কাজ করেছে। বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গেই ছড়িয়ে পড়া কেমিক্যালে যাতে কোনোভাবেই পানি দূষিত না হয়, সেজন্য ডিপোর চারদিকে বাঁধ দিয়েছে, সব নালা ব্লক করে দিয়েছে। দূষণ ঠেকাতে এটা একটা ভালো উদাহরণ। তাপপ্রবাহ দ্রুত কমে আসায় আমাদের পরিবেশ ও প্রতিবেশের যে ক্ষতির আশঙ্কা করা হয়েছিল, সেটাও কমেছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত