ডিক্যাব টকে জাপানের রাষ্ট্রদূত

বাংলাদেশে ভালো নির্বাচন দেখতে চায় জাপান

আপডেট : ০৮ জুন ২০২২, ১২:৩৩ এএম

বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি বলেছেন, পদ্মা সেতু বাংলাদেশের আস্থার প্রতীক। এ সেতুর ফলে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আরও আস্থার পরিবেশ তৈরি হবে। এছাড়া ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচন থেকে আসন্ন সব নির্বাচন ভালো করার জন্য সরকার পদক্ষেপ নেবে বলে প্রত্যাশা করে জাপান।

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ডিক্যাব (ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ) আয়োজিত ‘ডিক্যাব টক’-এ জাপানের রাষ্ট্রদূত এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন কীভাবে দেখছে দেশটি সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমি আশা করব, গতবারের তুলনায় ভালো নির্বাচন এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সরকার পদক্ষেপ নেবে। আপনারা হয়তো শুনে অবাক হতে পারেন ঢাকায় জাপান দূতাবাস ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের নির্বাচনের পরপরই উদ্বেগ জানিয়ে বিবৃতি প্রচার করেছিল। সেখানে মূল উদ্বেগের প্রসঙ্গ ছিল নির্বাচনকালীন সহিংসতা। প্রত্যেক নাগরিক যাতে অবাধে ভোটাধিকারের চর্চা করতে পারে, এটি জরুরি। এ পরিস্থিতিতে গণমাধ্যমের ভূমিকাকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘জাপান বাংলাদেশে যে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন দেখতে চায়, তা নিয়ে সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আমরা অব্যাহতভাবে বিষয়টি তুলে ধরব।’

আগামী বছরের শেষে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘গণমাধ্যম প্রতিদিন খবর প্রচার করছে, যা নিয়ে কূটনীতিকদের এক ধরনের আগ্রহ থাকার কথা। নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমি সরকারের দিক থেকে কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি লক্ষ করেছি। এগুলোর মধ্যে রয়েছে নতুন আইন প্রণয়ন ও নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের মতো বিষয়গুলো।’

নির্বাচনের সঙ্গে গণমাধ্যমের অবাধে দায়িত্ব পালনের বিষয়টি ওতপ্রোতভাবে জড়িত জানিয়ে ইতো নাওকি বলেন, ‘ভালো নির্বাচন আয়োজনের স্বার্থে গণমাধ্যমের স্বাধীনভাবে কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। জনগণের আকাক্সক্ষার বিষয়টি গণমাধ্যমে কীভাবে প্রতিফলিত হতে পারে সেটি গুরুত্বপূর্ণ।’

তিনি বলেন, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে ঘিরে এ মুহূর্তে সাংবাদিকদের মধ্যে বিতর্ক চলছে। তাই এখন থেকে নির্বাচন পর্যন্ত গণমাধ্যমকর্মীদের অবাধে কাজ করার সুযোগ থাকবে।’

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে জাপানি রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘জাপান রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান চায়। সংখ্যায় কম হলেও দ্রুত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করাটা জরুরি। রোহিঙ্গা সংকটকে এ অঞ্চলের জন্য অস্থিতিশীলতার কারণ হতে দেওয়া উচিত নয়।’

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ইন্দো-প্যাসিফিক ইকোনমিক ফোরাম যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগ। বাংলাদেশ এ ফোরামে যোগ দেবে কি না সেটা বাংলাদেশকে ভালোভাবে অনুধাবন করতে হবে। তবে আমরা চাই, একটি মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক গড়তে। যেন সব দেশ লাভবান হতে পারে।’

জাপানের রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘ঢাকা-টোকিওর মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ শিগগিরই আমরা শুরু করতে চাই। কভিড পরিস্থিতির জন্য এটা শুরু করা সম্ভব হয়নি। বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে জাপান। এর মধ্যে মেট্রোরেল একটি। ডিসেম্বরে এর প্রথম ফেস চালু হবে। মেট্রোরেল চালু হলে এ শহরের মানুষ স্বস্তিতে চলাচল করতে পারবে বলে আশা করি।’

ইতো নাওকি বলেন, ‘১০ বছরে বাংলাদেশে জাপানি কোম্পানির সংখ্যা তিন গুণ বেড়েছে এবং তাদের মধ্যে ৬৮ শতাংশ এখানে তাদের ব্যবসা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, ভূ-রাজনৈতিক কৌশলগত অবস্থান, মেগা অবকাঠামো প্রকল্প, বৈচিত্র্যময় সাপ্লাই চেইনের সম্ভাবনা এবং আরএমজি রপ্তানি বাজার এবং শক্তিশালী রেমিট্যান্সের ভিত্তি হলো আরও বেশি জাপানি কোম্পানি এ দেশে ব্যবসা করতে উৎসাহিত করার প্রধান কারণ।’

রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, ‘২০২৬ সালের মধ্যে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) গ্রুপ থেকে মধ্যম আয়ে উন্নীত হওয়ার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশের আরও বেশি সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘টোকিও বাংলাদেশের কাছে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিক্রি করতে আগ্রহী কারণ ঢাকা বর্তমানে প্রতিরক্ষা ক্রয়ের উৎসে বৈচিত্র্য আনার কথা বিবেচনা করেছে। জাপানও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিক্রির ক্ষেত্রে তাদের বিধিবিধান শিথিল করেছে। টোকিও ইতিমধ্যে ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন এবং আসিয়ান দেশগুলোতে কিছু প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানি করছে।’

নাওকি বলেন, ‘প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিশেষ করে বিমানবাহিনীর জন্য রেডার কেনার ক্ষেত্রে আগ্রহ সম্পর্কে জানতে একটি জাপানি প্রাইভেট কোম্পানি ইতিমধ্যে বাংলাদেশ সফর করেছে।’

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ডিক্যাবের সভাপতি রেজাউল করিম লোটাস ও সাধারণ সম্পাদক একেএম মঈনুদ্দিন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত