সহস্রাধিক ড্রাইভিং লাইসেন্স আটকা

আপডেট : ০৮ জুন ২০২২, ১২:৪৫ এএম

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্র্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) পেশাদার গাড়িচালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্সের ক্ষেত্রে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করেছে। গত ৩০ জানুয়ারি থেকে এ নির্দেশনা কার্যকর হলেও কুষ্টিয়া জেলায় এখনো চালু হয়নি ডোপ টেস্ট সুবিধা। এ কারণে জেলায় গত পাঁচ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়ন কাজ। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন জেলার কয়েক হাজার পেশাদার চালকসহ পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। 

ডোপ টেস্টের তাগাদা দিয়ে সিভিল সার্জন কার্যালয়ে চিঠি দিয়েছে বিআরটিএ, জবাবে নিজেদের সীমাবদ্ধতা জানিয়ে বিআরটিএ-কে চিঠি পাঠিয়েছে সিভিল সার্জন কার্যালয়।   

কুষ্টিয়া বাস মালিক সমিতির কার্যকরী সভাপতি নূরুল ইসলাম বলেন, ‘কুষ্টিয়ায় ডোপ টেস্ট যারা করবেন তাদের কাছে বারবার গিয়েও কাজ হচ্ছে না। এদিকে পেশাদার চালকরা গাড়ি নিয়ে রাস্তায় নামতে পারছেন না। পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।’ 

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের পেশাদার মোটর ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদনকারী মো. মক্কেল ম-ল বলেনÑ ‘আমি লিখিত, মৌখিক ও প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষা দিয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স পাই। সেই লাইসেন্স নবায়নের আবেদন করেছি কিন্তু বিআরটিএ নিয়ম করেছে নবায়নের জন্য ডোপ টেস্ট লাগবে। গত ২৪ মার্চ বিআরটিএ অফিস আমার ডোপ টেস্ট করার জন্য কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন অফিসে চিঠি দিয়েছে। ওখানে গিয়ে শুনলাম কুষ্টিয়ায় এই পরীক্ষা হয় না। তাহলে আমরা কী করব? রাস্তায় নামলে পুলিশ হয়রানি করে।’

বিআরটিএ কুষ্টিয়া জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আতিকুল আলম বলেন, ‘ডোপ টেস্ট সনদ না মেলায় পাঁচ মাস ধরে পেশাদার গাড়িচালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়নের কাজ বন্ধ আছে। ইতিমধ্যে ৩৫০ জনের ডোপ টেস্ট সনদের জন্য কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন অফিসে চিঠি দিয়েছি। ডোপ টেস্টের কাগজ না পাওয়ায় আমরা লাইসেন্স দিতে পারছি না।’

ডোপ টেস্টের সক্ষমতার সংকট স্বীকার করেছেন কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ারুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘নতুন করে সরকারের নেওয়া একটি সিদ্ধান্ত তৃণমূল পর্যন্ত চূড়ান্ত ভাবে বাস্তবায়ন করতে একটু সময় লাগে। এ কাজটি তো আর সিভিল সার্জন তার ব্যক্তিগত অর্থ ব্যয়ে করবেন না। সে কারণে বিষয়টি এতদিন ধরে ঝুলে আছে। পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যুর ক্ষেত্রে যে ডোপ টেস্টের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে; তা বাস্তবায়ন করতে ইতিমধ্যে ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। আশা করছি চলতি জুন মাসের ১৫ তারিখের মধ্যেই আবেদনকারীদের ডোপ টেস্ট  শুরু করা যাবে।’

আপাতত কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগে নমুনা দিয়ে ডোপ টেস্ট করিয়ে নেওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনার পর জানুয়ারিতে বিআরটিএ একটি পরিপত্র জারি করে। সেখানে বলা হয়, সারা দেশের সকল পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালে এবং ঢাকা মহানগরীর ক্ষেত্রে ৬টি প্রতিষ্ঠানে অথবা মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানে পেশাদার চালকরা ডোপ টেস্ট  করতে পারবে। এজন্য সংশ্লিষ্ট বিআরটিএ অফিস থেকে নির্ধারিত ফরমে অনুরোধ জানিয়ে ডোপ টেস্টকারী প্রতিষ্ঠানে চিঠি দিতে হবে। প্রতিষ্ঠানটি ডোপ টেস্ট  রিপোর্ট  অনলাইনে  বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালককে পাঠাবে এবং মূল কপি লাইসেন্সপ্রার্থীকে দেবে। বিআরটিএ অফিস অনলাইন কপি ও মূল কপি যাচাই করে মাদকাসক্ত না হলে লাইসেন্স দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত