ফিফা র্যাংকিংয়ে বাহরাইন পাক্কা ৯৯ ধাপ এগিয়ে বাংলাদেশের চেয়ে। শেষ পাঁচটি এশিয়ান কাপের চূড়ান্তপর্বে খেলা বাহরাইন ‘ই’ গ্রুপের ফেভারিট। তাদের হারিয়ে বাছাইয়ের তৃতীয়পর্বের অভিযান শুরু করবে বাংলাদেশ এমনটা কারও ভাবনায়ই ছিল না। শুধু দেখার ছিল প্রবল প্রতিপক্ষকে কতটা আটকে রাখা যায়। প্রায় ৩৩ মিনিট সেটা পেরেছে হাভিয়ের কাবরেরার শিষ্যরা। এরপরই রক্ষণের ভুলের মাশুল গোনা শুরু। ৯ মিনিটের ব্যবধানে বাহরাইন এগিয়ে যায় ২-০ গোলে। দ্বিতীয়ার্ধে মালয়েশিয়ার বুকিত জলিল স্টেডিয়ামে উপস্থিত কয়েকশ প্রবাসী বাংলাদেশির সামনে জামাল ভূঁইয়ারা পারেননি চমকজাগানিয়া কিছু করতে। প্রথমার্ধের ব্যবধানটা ধরে রেখে অনুমিত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে মধ্যপ্রাচ্যের দলটি।
আসলে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের কাছে প্রথমার্ধে ২ গোল হজমের পর ঘুরে দাঁড়াতে আক্রমণভাগে যে রসদ মজুদ থাকা দরকার, সেটাই নেই এই বাংলাদেশের। শেষ ২৫ মিনিটে অনভিজ্ঞ কোচ কাবরেরা ৫টি পরিবর্তন করে চেষ্টা করেছেন। বাহরাইনও দু’ গোলের লিড ধরে রাখায় মনোযোগী হওয়ায় বাংলাদেশ পেয়েছিল আক্রমণ গোছানোর সুযোগ। তবে সে সুযোগ কাজে লাগানোর লোকের বড্ড অভাব কাবরেরার দলের। যে দলের মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগে এমন দৈন্য, সে দলের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন একটা নিরেট রক্ষণ আর তেকাঠির নিচে বিশ্বস্ত ও সাহসী এক যোদ্ধা। গ্লাভস হাতে জিকো তার কাজটা ঠিকই করেছেন। তবে টুটুল হোসেন বাদশা, বিশ্বনাথ ঘোষ, ইয়াছিন আরাফাত, রিমন হোসেনরা পারেননি বাহরাইনের সংঘবদ্ধ আক্রমণকে বেশিক্ষণ থামিয়ে রাখতে। র্যাংকিং, ফুটবল মানের মতোই শরীরী সামর্থ্যওে এগিয়ে থাকা বাহরাইন শুরুতে চেষ্টা করেছে নিজেদের সহজাত পাসিং ও হাই প্লেসিং ফুটবলে গোল পেতে। বাঁ দিকটা ব্যবহার করে তারা চেয়েছে আক্রমণ শানাতে। লেফট উইঙ্গার মাহদি ফয়সাল বারবার বলের জোগান দিয়ে গেলেও শুরুতে বাংলাদেশের ৯ জনের জমাট রক্ষণে চিড় ধরাতে পারেনি বাহরাইন। ম্যাচের দশম মিনিটে শুরু জিকোর পরীক্ষা দেওয়া। মাহদি ফয়সালের কর্নারে মোহামাদ বেনাদ্দির দুর্বল হেড ঝাঁপিয়ে পড়ে আটকান জিকো, এরপর দ্রুত ক্লিয়ার করেন কাল বেশিরভাগ সময় নিজেদের রক্ষণের দায়িত্ব পালন করা হোল্ডিং মিডফিল্ডার আতিকুর রহমান ফাহাদ। ২২ মিনিটে কোমাইল হাসান আল আসওয়াদের ফ্রি কিক সহজেই গ্লাভসবন্দি করেন জিকো। একটু পর আলি আব্দুল্লাহ হারামের বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া জোরালো শট ফিস্ট করে দৃঢ়তার পরিচয় দেন তিনি।
২৬ মিনিটে পাল্টা আক্রমণ থেকে সুযোগ এসেছিল বাংলাদেশের। তবে বাঁদিক থেকে রাকিব হোসেনের আড়াআড়ি ক্রস গোলমুখে এলেও তার নাগাল পাননি ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষের প্রীতি ম্যাচে অভিষিক্ত নাম্বার নাইন সাজ্জাদ হোসেন। তিন মিনিট পর সতীর্থের ব্যাক হিলে রাশেদ খলিলের কোনাকুনি শট আটকে দেন জিকো। ৩৪ মিনিটে আর পারেননি বসুন্ধরা কিংসের গোলকিপার। আল আসওয়াদের কর্নার থেকে সøাইডিং হেডে চকিতে গোল করেন অভিজ্ঞ সেন্টারব্যাক আব্দুল্লাহ হারাম। তার মার্কার টুটুল হোসেন বাদশা ছিলেন দর্শক হয়ে। ৪২ মিনিটে আসওয়াদ ব্যবধান দ্বিগুণ করেন বক্সের বাইরে থেকে চলন্ত বলে বাঁ পায়ের জোরালো শটে।
বিরতি থেকে ফিরে বাহরাইন আক্রমণের গতি কমিয়ে মনোযোগী হয় বলের নিয়ন্ত্রণে রেখে সময় ক্ষেপণে। তারপরও আক্রমণে তারাই ছিল এগিয়ে। ৫৫ মিনিটে নিশ্চিত গোল সেভ করেন জিকো। সতীর্থের নিখুঁত পাস অফসাইডের ফাঁদ ভেঙে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গোলরক্ষককে একা পেয়ে যান স্ট্রাইকার ইউসুফ হেলাল। তবে দীর্ঘকায় এই ফরোয়ার্ডের প্রচেষ্টা শুয়ে পড়ে রুখে দেন জিকো। বাহরাইন গতি কমালে বাংলাদেশ মাঝমাঠে বল চালাচালির সুযোগ পেয়েছিল। তবে উদ্দেশ্যহীন পাসে তারা সে সুযোগ নষ্ট করেছে। জামাল ভূঁইয়া কিছুক্ষণ আড়াআড়ি পাস খেললেও সামনে রাকিব, ইব্রাহিম অথবা সাজ্জাদকে বলের জোগানটা ঠিকঠাক দিতে পারেননি। বদলি নেমে সোহেল রানাও পারেননি তার সহজাত কাজটা করতে। তাই মারাজ আহমেদ, ফয়সাল আহমেদ ফাহিম, পাপন সিংদের নামার সার্থকতা খুঁজে পাওয়া যায়নি।
ফলে ১৯৭৯ সালে প্রেসিডেন্টস কাপে প্রথম সাক্ষাতের মতো বাহরাইনের কাছে ২-০ হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে বাংলাদেশকে। ম্যাচের আগে অবশ্য বাংলাদেশ অধিনায়ক জামাল বলেছিলেন বাহরাইনের দুর্বল জায়গায় আঘাত হেনে চমকে দেওয়ার কথা। সেটার খোঁজ কালকের ৯০ মিনিটে মেলেনি। উল্টো নিজেদের দৈন্যগুলো প্রকাশিত হয়ে থাকল বাকি দুই প্রতিপক্ষের কাছে। তাই শনিবার তুর্কমেনিস্তান পরীক্ষাটা আরও কঠিন হওয়ার কথা কাবরেরার দলের।
বাংলাদেশ দল : আনিসুর, ইয়াছিন আরাফাত, টুটুল হোসেন, বিশ্বনাথ ঘোষ, রিমন হোসেন, জামাল ভূঁইয়া, আতিকুর রহমান, বিপলু আহমেদ, মোহাম্মদ ইব্রাহিম, রাকিব হোসেন, সাজ্জাদ হোসেন। হলুদ কার্ড : রাকিব (বাংলাদেশ)।
