শিল্পকলা একাডেমির বদলি করা ৮ জন কালচারাল অফিসারকে তিন দিনের মধ্যে জেলায় যোগদানের নির্দেশ দিয়েছে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক গত মঙ্গলবার এ নির্দেশ দেওয়া হয়।
মন্ত্রণালয়ের আদেশে বলা হয়, ‘আপিল বিভাগের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে বদলিকৃত কর্মকর্তাদের আগামী তিন দিনের মধ্যে বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদান নিশ্চিত করে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতে হবে।’
গত বছর ২৪ জুন ওই আট কর্মকর্তাকে জেলায় বদলির আদেশ দিয়েছিল সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। নির্দেশনা অনুযায়ী, আফসানা খান রুনাকে মুন্সীগঞ্জ, শহিদুল ইসলামকে সাতক্ষীরা, ফারহানা রহমানকে শেরপুর, চাকলাদার মোস্তফা আল মাসউদকে চুয়াডাঙ্গা, এরশাদ হাসানকে টাঙ্গাইল, আল হেলালকে নওগাঁ, আসাফ-উদ-দৌলাকে বরগুনা এবং হাসান মাহমুদকে দিনাজপুরে বদলি করা হয়। ৩০ জুনের মধ্যে তাদের কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এরপর ৩০ জুন মন্ত্রণালয়ের বদলির আদেশ বাতিল করে আট কর্মকর্তাকে নিজ নিজ পদে বহাল থাকার পাল্টা আদেশ দেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। এরই মধ্যে ২৪ জুন বদলি করা কর্মকর্তারা মন্ত্রণালয়ের আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করেন। আট কর্মকর্তার পক্ষে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন আইনজীবী আবদুল মতিন সরকার। গত ৯ মার্চ হাইকোর্ট বিভাগ ওই বদলির আদেশ স্থগিত করে। গত ২৩ মে স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করলে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বিভাগ সেই আদেশ স্থগিত করে।
‘৮ কর্মকর্তার বদলি নিয়ে শিল্পকলা একাডেমি বিভক্ত’ শিরোনামে গত বছর ৮ জুলাই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল দেশ রূপান্তর। ওই প্রতিবেদনে শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক দেশ রূপান্তরকে বলেছিলেন, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের বদলির আদেশ ‘শিল্পকলা একাডেমি আইন, ১৯৮৯’-এর লঙ্ঘন। অন্যদিকে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বলেছিলেন, আইন মেনেই বদলির সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিল্পকলা একাডেমির পরিষদ সভা। মন্ত্রণালয় পরিষদ সভার সিদ্ধান্তই বাস্তবায়ন করছে।
জানা গেছে, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে আফসানা খান রুনা মুন্সীগঞ্জে এবং এরশাদ হাসান টাঙ্গাইলের কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন। তবে অন্য কর্মকর্তারা যোগ দেননি।
