চলমান মেগা প্রকল্পগুলো শেষ দিকে যেন অর্থ সংকটে না পড়ে, সে জন্য আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) সেগুলোকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। এডিপির উল্লেখযোগ্য অংশ খরচ হবে সরকারের মেগা প্রকল্পগুলোতে। চলতি মাসে উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা পদ্মা সেতু প্রকল্পেও বড় বরাদ্দ রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তব্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে এসব প্রকল্পে প্রায় ৫৮ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের এই শীর্ষ ১০ মেগা প্রকল্পে ৫৪ হাজার ৪৫১ কোটি টাকার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।
১০ মেগা প্রকল্পের মধ্যে শীর্ষ বরাদ্দে না থাকলেও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প পদ্মা সেতু পাচ্ছে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। শেষ পর্যায়ে থাকা কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বঙ্গবন্ধু টানেল প্রকল্প পাচ্ছে ২ হাজার কোটি টাকা। পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর সংশ্লিষ্ট দুই প্রকল্প পাচ্ছে ৮০০ কোটি টাকা। দোহাজারী-রামু হয়ে কক্সবাজার রেল প্রকল্প পাচ্ছে ১২০ কোটি টাকা। উল্লিখিত প্রকল্পগুলো শেষের দিকে থাকায় আগের বছরের চেয়ে বরাদ্দ কমেছে। তবে এডিপির আরও কয়েকটি প্রকল্পে বড় ধরনের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্র : মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রে আগামী অর্থবছরে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৬ হাজার ৫৫৪ কোটি টাকা। চলতি বছর ছিল ৬ হাজার ১৬২ কোটি টাকা। এ প্রকল্পের আওতায় মাতারবাড়িতে একটি গভীর সমুদ্রবন্দরও তৈরি হবে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র : দেশের প্রথম এ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পটির ব্যয় ১ লাখ ১৪ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকার। টাকার অঙ্কে এটি দেশের সবচেয়ে বড় প্রকল্প। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে এর কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। আগামী এডিপিতে সবচেয়ে বড় বরাদ্দ ১৩ হাজার ৩৯৬ কোটি টাকা পাচ্ছে এ প্রকল্প। এ প্রকল্পে সর্বশেষ বরাদ্দ ছিল ১৪ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা।
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল : ২১ হাজার ৩৯৯ কোটি টাকার প্রকল্পের আওতায় যাত্রীবাহী টার্মিনাল ভবন, রাস্তাঘাট, বিমানবন্দর এপ্রোন, পার্কিং লট, কার্গো কমপ্লেক্সসহ অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। এ প্রকল্পের জন্য আসছে বছরের এডিপিতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩ হাজার ৪৩৩ কোটি টাকা। আগামী বছরের অক্টোবরের মধ্যে টার্মিনালটি চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মেট্রোরেল : আগামী ডিসেম্বরে চালু হওয়ার কথা রয়েছে দেশের প্রথম মেট্রোরেল। ইতিমধ্যে প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হয়েছে। প্রথমে উত্তরা থেকে আগারগাঁও এবং পরে কমলাপুর পর্যন্ত যাবে এ রেল। ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (মেট্রোরেল-৬) আগামী অর্থবছরে ২ হাজার ৮৮৩ কোটি টাকা বরাদ্দ পাচ্ছে। চলতি বছরের শুরুতে ৪ হাজার ২৩৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও আরএডিপিতে বরাদ্দ কমিয়ে ৪ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছিল।
ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে : রাজধানীর সঙ্গে দেশের ৩০ জেলাকে সংযুক্ত করেছে আবদুল্লাহপুর-আশুলিয়া-বাইপাইল-চন্দ্রা করিডোর। ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নামের এ প্রকল্পের জন্য আসছে অর্থবছর এডিপিতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৩ হাজার ৭০৩ কোটি টাকা।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু : যমুনা নদীর ওপর এ সেতুর জন্য এডিপিতের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২ হাজার ১৭৭ কোটি টাকা। প্রাথমিকভাবে সেতুর অনুমোদিত নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিল ৯ হাজার ৭৩৪ কোটি ৭ লাখ টাকা। বর্তমানে নির্মাণ ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৭৮০ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাপানি আন্তর্জাতিক সংস্থা (জাইকা) ১২ হাজার ১৪৯ কোটি টাকা সহায়তা প্রদান করবে। বাকি টাকা দেবে বাংলাদেশ সরকার।
পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প : ৩৯ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়ন হচ্ছে পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ প্রকল্পটি। দেশের দক্ষিণ অংশকে রাজধানী ঢাকা ও অপর অংশের সঙ্গে রেলপথে যুক্ত করবে এ রেললাইন। আগামী অর্থবছর এতে বরাদ্দ থাকছে ৬ হাজার ১৩৭ কোটি টাকা।
এডিপিতে উল্লিখিত প্রকল্পগুলোর পাশাপাশি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আরও কয়েকটি প্রকল্পে বড় বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের মানোন্নয়নে চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির (পিইডি-৪) জন্য ৬ হাজার ১৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকছে আসছে অর্থবছরের এডিপিতে। বিদ্যুৎ বিভাগের এক্সপানশন অ্যান্ড স্ট্রেংদেনিং অব পাওয়ার সিস্টেম নেটওয়ার্ক আন্ডার ডিপিডিসি এরিয়া প্রকল্পে থাকছে ৩ হাজার ৭০৩ কোটি টাকা বরাদ্দ। আর করোনা মহামারীর জন্য জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে কভিড-১৯ ইমার্জেন্সি রেসপন্স অ্যান্ড প্যানডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেসের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৪ হাজার ২৫৪ কোটি টাকা।
