যে ৩৮ সেবায় আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক

আপডেট : ১০ জুন ২০২২, ০৮:৪৬ এএম

আপনার যদি উপজেলা, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন এবং সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে চান কিংবা কিংবা সন্তানকে যদি ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলে ভর্তি করাতে চান অথবা আপনার ক্রেডিট কার্ড থাকলে বা নতুন কার্ড নিতে চাইলে তাহলে নতুন অর্থবছর থেকে আপনাকে আয়কর রিটার্ন দেওয়ার প্রমাণপত্র দেখাতে হবে।

করদাতার সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি করদাতা শনাক্তকরণ নম্বরধারীদের (টিআইএন) আয়কর রিটার্ন দাখিলে বাধ্য করতে এরকম ৩৮ ধরনের ক্ষেত্রে প্রমাণপত্র দেখানোর বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে বাজেটে। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বৃহস্পতিবার ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য এই বাজেট প্রস্তাব সংসদে তোলেন।

এসব ক্ষেত্রে আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ হিসেবে তিন ধরনের নথির যে কোনো একটি জমা দিলেই চলবে। ১. আয়কর রিটার্ন জমার বিষয়ে এনবিআরের প্রাপ্তিস্বীকার পত্র, ২. করদাতার নাম, টিন, কর দেওয়ার বছর উল্লেখ করে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে এনবিআরের দেওয়া সনদ, অথবা ৩. করদাতার নাম, টিন, কর দেওয়ার বছর উল্লেখ করে কর উপ কমিশনারের দেওয়া সনদ।

যে ৩৮ সেবায় আয়কর রিটার্ন দেওয়ার প্রমাণপত্র দেখাতে হবে, তার মধ্যে রয়েছে- 

ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে পাঁচ লাখ টাকার বেশি ঋণ নিতে; কোনো কোম্পানির পরিচালক বা উদ্যোক্তা পরিচালক হতে; আমদানি-রপ্তানি ব্যবসার সনদ থাকলে বা নতুন সনদ নিতে; সিটি বা পৌর এলাকায় ট্রেড লাইসেন্স থাকলে বা নতুন সনদ নিতে; ক্রেডিট কার্ড থাকলে বা নতুন কার্ড নিতে চাইলে; ডাক্তার, আইনজীবী, চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট, প্রকৌশলী, স্থপতি, সার্ভেয়ারের মত পেশাজীবীদের সংগঠনের সদস্য হয়ে থাকলে বা সদস্য হতে চাইলে; বিবাহ নিবন্ধকের লাইসেন্স পেতে হলে; কোনো বাণিজ্য সংগঠনের সদস্য হলে বা সদস্য হতে চাইলে; ড্রাগ লাইসেন্স থাকলে বা করাতে চাইলে; দেশের যে কোনো জায়গায় বাণিজ্যিক বা শিল্প কারখানায় গ্যাস লাইন এবং সিটি করপোরেশন এলাকায় বাসা বাড়ির গ্যাস সংযোগ নিতে এবং আগের সংযোগ বজায় রাখতে; নৌযানের সার্ভে সার্টিফিকেটের জন্য; ইটভাটার অনুমোদন নিতে।

এছাড়া আছে ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলে বা জাতীয় কারিকুলামের ইংরেজি ভার্সনের স্কুলে সন্তান বা পোষ্য ভর্তি করাতে; সিটি করপোরেশন এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে; অস্ত্রের লাইসেন্স; আমদানির এলসি খুলতে; ডাকবিভাগে ৫ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়ী হিসাব খুলতে; যে কোনো ধরনের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের স্থিতি ১০ লাখ টাকার বেশি হলে; ৫ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র কিনতে; উপজেলা, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন এবং সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে; জমি বা বাসা ভাড়া দিলে, পরিবহন সেবার ব্যবসা করলে;  এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা মাসে ১৬ হাজার টাকার বেশি পেলে; চার চাকার যে কোনা মোটরগাড়ি নিবন্ধন, ফিটনেস নবায়ন , মালিকানা হস্তান্তর করতে; অনলাইনে যে কোনো ধরনের পণ্য বা সেবা বিক্রি করলে; সোসাইটি রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্টের অধীনে গঠিত কোনো ক্লাবের সদস্য হলে; পণ্য সরবরাহের ঠিকাদারি কাজে টেন্ডার জমা দিতে; আমদানি-রপ্তানির বিল অব এন্ট্রি জমা দিতে; ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী বা খুলনায় ভবন নির্মাণের নকশা অনুমোদনের জন্য।

এছাড়া, স্বীকৃত প্রভিডেন্ট ফান্ড, অনুমোদিত গ্র্যাচুইটি ফান্ড, পেনশন ফান্ড, অনুমোদিত সুপারএন্যুয়েশন ফান্ড এবং শ্রমিক অংশগ্রহণ তহবিল ব্যতীত অন্যান্য ফান্ডের রিটার্ন দাখিলের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। আর কর না দিলে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির মত সেবা বন্ধের প্রস্তাব রেখেছেন আ হ ম মুস্তফা কামাল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত