আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, শেখ হাসিনার কিছু হলে আওয়ামী লীগ ঘরে বসে আঙুল চুষবে না। রাজপথে আছি, রাজপথে থেকে তার সমুচিত জবাব দেওয়া হবে।
গতকাল শুক্রবার বিকেলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের গেটে শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকির প্রতিবাদে মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ মিছিলপূর্ব সমাবেশে ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ‘শেখ হাসিনাকে কটূক্তি করলে আমাদের আবেগে লাগে, বঙ্গবন্ধুকে খারাপ কথা বললে আমাদের খারাপ লাগে, বঙ্গবন্ধু পরিবারকে অপমান করলে আমরা অপমান বোধ করি। শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকি দিলে আমাদের আবেগ আহত হয়, আমরা সহ্য করতে পারি না। আমরা কাউকে গালি দিই না, আমরা কারও বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করি না। যেটা বিএনপি শুরু করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘গোটা ঢাকা মহানগরীর রাজপথ আজ আওয়ামী লীগের দখলে, আওয়ামী লীগ জেগেছে। আওয়ামী লীগ রাজপথে ছিল, আওয়ামী লীগ রাজপথে আছে, আওয়ামী লীগ রাজপথে থাকবে।’
প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমি বলে দিতে চাই, পঁচাত্তর আর ২০২২ এক কথা নয়। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে খুনিদের পুরস্কৃত করেছে, ইনডেমনিটি দিয়েছে। ঢাকা মহানগর উত্তরের মতো দক্ষিণ আওয়ামী লীগ রাজপথে থেকে দেখিয়ে দিয়েছে, আমরাও পারি। আমরা বঙ্গবন্ধু কন্যার অপমান কোনো দিন সহ্য করব না, আমরা প্রতিবাদ করব, আমরা প্রতিশোধ নেব।’
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সুশৃঙ্খল ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অংশ নিয়ে বিজয়ের বন্দরে পৌঁছাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার উন্নয়ন দেখে যখন দেশের মানুষ খুশি, তখন বিএনপি নেতাদের মুখে কালো মেঘ ঘনীভূত হয়েছে। বিএনপি দিনে আলোতে রাতের অন্ধকার দেখতে পায়, শেখ হাসিনার উন্নয়ন তারা দেখে না।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘২৫ তারিখ পদ্মা সেতু, কর্ণফুলী টানেল আসছে, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেস আসছে, এক্সপ্রেস ওয়ে আসছে, মাতারবাড়ি আসছে। কত উন্নয়ন দেখবেন, একের পর এক শেখ হাসিনা যখন উদ্বোধন করবেন আপনাদের চোখে তখন সরষে ফুল দেখবেন। নিজেরা তো কিছু করতে পারেন না, অন্যকে চোর বলেন? নিজেরা চোর হয়ে অন্যকে চোর বলেন, যে লুটপাট করেছে সে অন্যকে লুটপাটকারী বলেন। এইসব অপপ্রচারের আমরা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সমুচিত জবাব দেব।’
আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, কামরুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, মির্জা আজম, শ্রমবিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, কেন্দ্রীয় সদস্য শাহাবউদ্দিন ফরাজী, সানজিদা খাতুন ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস বক্তব্য রাখেন।
