স্কোরবোর্ড ফলাফলটায় জানায়, মাঠে একটি দল কতটুকু নিংড়ে দিল তা দেখায় না। ফুটবল গোলের খেলা কিনা, এখানে জয়-পরাজয়টায় বড় হয়ে দাঁড়ায়।
দীর্ঘ দুই দশক পর তুর্কমিনিস্তানের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতে বাংলাদেশ কেমন সাহসী ফুটবল খেলল, তা স্কোরবোর্ড দিয়ে বোঝালে ভুল হবে। হারলেও পুরো ম্যাচে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করেছে হাভিয়ের কাবরেরার দল।
এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বের প্রথম ম্যাচে বাহরাইনের বিপক্ষে ২-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। আসরের মূলপর্বে জায়গা পাওয়ার আশা বাঁচিয়ে রাখতে হলে তুর্কমিনিস্তানের বিপক্ষে জয় পেতে হতো লাল-সবুজদের।
সেই লক্ষ্যে মাঠে নেমে লড়লেন জামাল ভূঁইয়ারা। কিন্তু ফের আক্রমণভাগের একের পর এক ভুল ও গোল মিসের মহড়ার মাশুল গুনতে হলো বাংলাদেশকে। শনিবার কুয়ালালামপুরের বুকিত জলির স্টেডিয়ামে ‘ই’ গ্রুপে তুর্কমিনিস্তানের বিপক্ষে ২-১ গোলে হেরেছে কাবরেরার দল।

সেই সঙ্গে এশিয়ান কাপের মূলপর্বে খেলার স্বপ্নও বিসর্জন দিল বাংলাদেশ। গ্রুপের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে ১৪ জুন স্বাগতিক মালয়েশিয়ার মুখোমুখি হবে লাল-সবুজরা।
২০০২ সালের অক্টোবরে এশিয়ান গেমসে প্রথমবার তুর্কমিনিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। সেবার ৩-১ ব্যবধানে হারে লাল-সবুজরা। এরপর ২০ বছর পেরিয়ে দ্বিতীয় সাক্ষাৎ, এবারও জয়ী দলের নাম তুর্কমিনিস্তান। তবে জয় পেতে ঘাম ঝরাতে হয়েছে তাদের।
ম্যাচের মাত্র ৭ম মিনিটে কর্নার কিক থেকে জটলার ভেতর আলমিরাত আন্নাদুরদিয়ুর গোলে এগিয়ে যায় মধ্য এশিয়ান দেশটি। ব্যবধান বেশিক্ষণ ধরে রাখতে দেয়নি কাবরেরার দল। পাঁচ মিনিট পর মোহাম্মদ ইব্রাহিমের গোলে সমতায় ফেরে বাংলাদেশ।
বিশ্বনাথের লম্বা থ্রোয়ে রাগিবের হেডে হাত লাগান তুর্কমিনিস্তানের গোলরক্ষক। তবে সামনে থাকা ইব্রাহিম হেডে বল জালে পাঠিয়ে দেন। এরপর আক্রমণ-প্রতিআক্রমণ। দু’দলের রক্ষণভাগকে দিতে হয়েছে বেশ কয়েকটি কঠিন পরীক্ষা।
বিরতির পরও লড়াই ছিল সমানে সমানে। ৫৪তম মিনিটে এক ফাউলকে কেন্দ্র করে হাতাহাতির পর্যায়ে যাচ্ছিল দু’দলের খেলোয়াড়েরা। তবে রেফারি তা দারুণভাবে সামাল দেন।
বাংলাদেশের একের পর গোলের সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার মাশুলটা শেষ পর্যন্ত দিতে হয়েছে। ৭৭তম মিনিটে একটু ঝিমিয়ে পড়া কাবরেরোর শিষ্যদের দুর্বল রক্ষণভাগের সুযোগে তুর্কমিনিস্তানকে এগিয়ে দেন আরসালানমিরাত আমানাউ। উইং ধরে বিপজ্জনক সীমায় ঢুকে পড়া সতীর্থের বাড়ানো পাসে পা লাগান এই ফরোয়ার্ড। ডি-বক্সে এক প্রকার মার্কহীন ছিলেন তিনি।

গোল শোধে পরের মিনিটে আক্রমণে যায় বাংলাদেশ। কিন্তু এবারও ব্যর্থ। এরপরও কাবরেরোর শিষ্যদের সমতায় ফেরার বেশ কয়েকটি সুযোগ আসে। কখনো মাঝমাঠে বিপলুর চোখ ধাঁধানো একক প্রচেষ্টা শেষ সতীর্থকে বাড়ানো বল, কখনো বিশ্বনাথের লম্বা থ্রোইং— কাজে লাগাতে পারলে ফলাফলটা অন্যরকম হতো।
শেষদিকে তো ঝুম বৃষ্টি আশীর্বাদ হয়ে হয়ে এসেছিল বাংলাদেশের জন্য। ভেজা মাঠে খেলা অপরিচিত নয় সাজ্জাদ-বিপুলদের। তবে সেই সুযোগও কাজে লাগাতে পারেননি তারা।
নায়ক হওয়া সুযোগ পেয়েছিলেন বাদশা। নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে জামালের ফ্রি-কিকে ঠান্ডা মাথায় পা লাগালে গোল পেতো বাংলাদেশ। পাশে ছিল তার আরও দুই সতীর্থ। তুর্কমিনিস্তানের গোলরক্ষকেরর সামনে বল পায়ে ঠিকই লাগিয়েছিলেন এই ডিফেন্ডার। কিন্তু সেই বল চলে যায় গোলপোস্টের ওপর দিয়ে।
পুরো ম্যাচে জামাল মাঝমাঠে এবং টুটুল রক্ষণভাগে দারুণ ছিলেন। গ্লাভসহাতে জিকোও ছিলেন চেনারূপে। তারপরও পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে বাংলাদেশকে।
