আইপিএল শেষ, আন্তর্জাতিক সিরিজ না থাকায় ভারতের সম্প্রচারস্বত্ব পাওয়া স্টার স্পোর্টসের লাইভ টেলিকাস্টে বিরতি থাকার কথা। অথচ চ্যানেলটিতে চোখ পড়তেই দেখা গেল সরাসরি খেলা দেখাচ্ছে। টুর্নামেন্টের নাম সৌরাষ্ট্র প্রিমিয়ার লিগ। মাত্র দ্বিতীয় মৌসুমে পা দেওয়া আসরটি এখনো নতুন। তবে আইপিএলের পর ভারতে বেশ জনপ্রিয় কর্নাটক ও তামিলনাড়– প্রিমিয়ার লিগ। দুই টুর্নামেন্টই পার করেছে যথাক্রমে ৮ ও ৫ মৌসুম। রাজশাহীর একটি টুর্নামেন্ট স্বপ্ন দেখছে বিপিএলের পর ভারতের ওই দুই টুর্নামেন্টের মতো সফল হওয়ার। স্বপ্ন দেখছেন রাজশাহী বিভাগের ক্রিকেটাররা। যারা এই বিভাগে খেলেই বড় হয়েছেন, বিভাগের হয়ে জাতীয় লিগে শিরোপা জিতেছেন। এই অঞ্চলে পিছিয়ে পড়া ক্রিকেটকে আবার জাগ্রত করতে চান। ক্রিকেটার তুলে আনতে চান সেরা পর্যায়ের জন্য। এই লক্ষ্যেই দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজন করেছেন ৬ দলের বঙ্গবন্ধু রাজশাহী টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২০২২।
গত ডিসেম্বরে রাজশাহীতেও প্রথম আসর আয়োজন করে রাজশাহীর ক্রিকেটাররা। রাজশাহী ডিভিশনাল ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (আরডিসিএ) নামে নিজেদের সংগঠন গড়ে তুলে এই উদ্যোগ নেন জহুরুল ইসলাম অমি, ফরহাদ রেজা, সাব্বির হোসেন, মিজানুর রহমান, সানজামুল ইসলামরা। তাদের চেষ্টাতেই কয়েক মাসের ব্যবধানে হচ্ছে টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় আসর। গতবারের চেয়ে এবারের আসর আলোকিত হয়েছে বেশি। জাতীয় দলের আফিফ হোসেন, সাইফউদ্দিন, সৌম্য সরকাররা খেলছেন। সঙ্গে বিদেশি ক্রিকেটার হিসেবে শ্রীলঙ্কান থিসারা পেরেরাও আছেন। টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনালে শহীদ আফ্রিদি, সেক্কুগে প্রসন্ন ও আফগানিস্তানের বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারের আসার কথা রয়েছে।
নিজেদের চেষ্টায় এমন আসর আয়োজন করে অনেক দূর যাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন জহুরুল ইসলাম অমি। জাতীয় দলের হয়ে খেলা রাজশাহীর এ ক্রিকেটার বলেন, ‘গতবারও বড় পরিসরে হয়েছিল। মানুষ খেয়াল করেনি। ওই সময় উইন্ডিজ সিরিজ চলছিল। এবার বিদেশি ক্রিকেটার এসেছে, তাই একটু বেশি নজরে আসছে। এই টুর্নামেন্ট দিয়ে আমাদের লক্ষ্য নিজের বিভাগের ক্রিকেটার তুলে আনা। রাজশাহী বিভাগের ৮ জেলায় নিজস্ব দল থাকবে। সব দল মিলে নিজস্ব প্রিমিয়ার লিগ হবে যেমন ভারতের তামিলনাড়ু, কর্নাটকে হয়ে থাকে। ৮টি ভেন্যুতে হওয়ার স্বপ্ন দেখছি। এ দুবার রাজশাহীতে হয়েছে। পরেরবার চেষ্টা করব বগুড়া স্টেডিয়ামকে যুক্ত করতে।’
জহুরুলরা বিফল হননি। গতবারই তাদের লিগ থেকে একদম নতুন ক্রিকেটার উঠেছিলেন তিনজন। সাজিদ নামে এক তরুণ অনূর্ধ্ব-১৯ জাতীয় দলে সরাসরি খেলেছেন। দলের সঙ্গে কয়েক সিরিজে থাকলেও বিশ্বকাপ দলে জায়গা হয়নি তার। এ ছাড়া হৃদয় ও ইদ্রিস আলি (লেগস্পিনার) এ টুর্নামেন্টে পারফরম করে জাতীয় লিগে রাজশাহী দলের সেরা ৩০ জনে নাম লেখান।
নিজেদের উন্নতির তাড়না থেকেই আরডিসিএ গঠন করেন রাজশাহীর ক্রিকেটাররা। জাতীয় লিগে তারা ৬ বারের চ্যাম্পিয়ন। ২০০৮-০৯ থেকে ২০১১-১২ পর্যন্ত টানা চারবার ও সাত মৌসুম পর সবশেষ সাফল্য পেয়েছে ২০১৮-১৯ মৌসুমে। যা জহুরুল অমিদের কাছে অসন্তুষ্টির ব্যাপার। জেলা লিগের স্থবিরতা, করোনার বাধা মিলিয়ে রাজশাহীর ক্রিকেটাররা মাঠের বাইরেই থাকছিলেন প্রায়। তাদের ব্যাটে-বলে ফেরানোর চেষ্টায় অনেকটাই সফল আরডিসিএ। এমন টুর্নামেন্ট করার পরিকল্পনা সম্পর্কে জহুরুল বলেন, ‘আমাদের এখানে অনেক অ্যাকাডেমি, কিন্তু ছেলেগুলোর পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ নেই কোনো উদ্দেশ্য নেই। জুনিয়রদের কাছ থেকে অনুরোধে একটি টুর্নামেন্ট করার অনুপ্রেরণা পাই। জেলা প্রিমিয়ার লিগ আয়োজনের জন্য ছোটাছুটি করি, কিন্তু লাভ হয়নি। এরপর নিজেদের উদ্যোগে গতবার মাত্র ১১ দিনের চেষ্টায় বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপ করি।’
টুর্নামেন্টের জন্য রাজশাহীর ৮ জেলার ক্রিকেটারদের নিয়ে ড্রাফট হয়। এই ক্রিকেটারদেও ‘স্থানীয়’ হিসেবে ধরা হয়েছে। সিনিয়র ক্রিকেটার ও কোচদের সহযোগিতায় হয় ক্রিকেটার বাছাই। যোগ্যতা হলো ঢাকার প্রথম বিভাগে খেলা অথবা দ্বিতীয় বিভাগে ভালো পারফরম। টুর্নামেন্ট কমিটি (আরডিসিএ) নিজেরাই এই ৮ জেলার ক্রিকেটারদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করে থাকে। কমিটির চেয়ারম্যান রাজশাহী মেয়র এ.এএইচ.এম খাইরুজ্জামান লিটন। রাজশাহী বিভাগের বাইরের ক্রিকেটারদের ধরা হয় বিদেশি হিসেবে। এই কোটায় দেশে বা দেশের বাইরে থেকে দুজন ক্রিকেটারকে নিতে পারবে কোনো দল। ফাইটার রাজশাহী যেমন এবার বিদেশি কোটায় সৌম্য ও সাইফউদ্দিনকে খেলাচ্ছে। রাইমা রেঞ্জার্স যেমন থিসারা পেরেরা ও আফিফ হোসেনকে।
এবারের সাড়া থেকেই জহুরুলের আশা পরেরবার তাদের টুর্নামেন্ট আরও প্রসার পাবে। ভবিষ্যতে টিভিতে সরাসরি সম্প্রচারেরও স্বপ্ন দেখছে আরডিসিএ।
