দশ বছর আগে দেশ থেকে ওষুধের কাঁচামাল রপ্তানি হতো বছরে ৫ কোটি টাকা। এখন এ খাতের কাঁচামাল রপ্তানি হচ্ছে বছরে ১৬১ কোটি টাকা। তা ছাড়া করোনা মহামারীর পর ওষুধের কাঁচামাল রপ্তানি বেড়েছে দ্বিগুণ।
২০২০ সালে দেশ থেকে ওষুধের কাঁচামাল রপ্তানি হয় ৮৬ কোটি ১৯ লাখ টাকার। এর পরের বছর এ খাতের রপ্তানি বেড়ে হয় ১৬০ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।
করোনা মহামারী শুরুর পর বছরে দেশে ওষুধের কাঁচামাল উৎপাদন ও রপ্তানিতে এমনই অভূতপূর্ব উন্নয়নসাধিত হওয়ার এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ‘বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২২’-এ।
গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে আসন্ন ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপনকালে বিগত বছরের অর্থনীতির বিভিন্ন তথ্য-সংবলিত এই সমীক্ষাও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
সমীক্ষায় তুলে ধরা তথ্যে দেখা যায়, ২০১১ সালে দেশে উৎপাদিত ৪২১ কোটি টাকার ওষুধ রপ্তানি হয়। ২০২০ সালে এ খাতের রপ্তানি ছিল ৪ হাজার ৬৯ কোটি টাকা। এর পরের বছর অর্থাৎ ২০২১ সালে ওষুধ রপ্তানি এক লাফে ৬ হাজার ৫৪৮ কোটি টাকায় উন্নীত হয়।
ওষুধ ও কাঁচামাল রপ্তানির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১১ সালে ওষুধ ও ওষুধের কাঁচামাল রপ্তানি থেকে দেশ আয় করে ৪২৬ কোটি ১৫ লাখ টাকা। ২০২১ সালে ওষুধ ও কাঁচামাল রপ্তানি থেকে দেশের আয় দেড় হাজার শতাংশ বেড়ে ৬ হাজার ৭০৯ কোটি টাকায় উন্নীত হয়।
অর্থনৈতিক সমীক্ষায় বলা হয়, স্বাধীনতার অর্জনের পর বাংলাদেশে ওষুধপ্রাপ্তি মূলত আমদানির ওপর নির্ভরশীল ছিল। ফলে অনেক উচ্চ মূল্যে জনগণকে ওষুধ কিনতে হতো। বর্তমানে দেশের চাহিদার প্রায় ৯৮ শতাংশ ওষুধ দেশে উৎপাদিত হয়। বর্তমানে বায়েসিমিলার প্রোডাক্ট, অ্যান্টি ক্যানসার ড্রাগ, ভ্যাকসিনসহ কিছু হাইটেক প্রোডাক্ট আমদানি হচ্ছে।
এতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ ইতিমধ্যে ওষুধ আমদানিকারক দেশ থেকে রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে। সারা বিশ্বে বাংলাদেশের মানসম্পন্ন ওষুধ সুনাম অর্জন করেছে। বর্তমানে বাংলাদেশের উৎপাদিত ওষুধ ও কাঁচামাল যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের ১৫৭টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। দশ বছর আগে ওষুধ ও কাঁচামাল রপ্তানি হতো ৮৭টি দেশে। সেই দিক থেকে রপ্তানি গন্তব্যও বেড়েছে বাংলাদেশের ওষুধের।
বাংলাদেশের ওষুধ ও এর কাঁচামাল রপ্তানি ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০১২ সালে দেশ থেকে ৫৫১ কোটি টাকার ওষুধ ও কাঁচামাল রপ্তানি হয়। ২০১৩ সালে এই রপ্তানি বেড়ে ৬২০ কোটি টাকায় উন্নীত হয়। ২০১৪ সালে ওষুধ ও কাঁচামাল রপ্তানি হয় ৭৩৩ কোটি টাকা। ২০১৫ সালে ওষুধ ও কাঁচামাল রপ্তানি হয় ১ হাজার ৮ কোটি টাকার। ২০১৬ সালে এ খাতের রপ্তানি দ্বিগুণ বেড়ে হয় ২ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা। ২০১৭ সালে ৩ হাজার ১৯৬ কোটি টাকার ওষুধ ও কাঁচামাল রপ্তানি করে বাংলাদেশ। ২০১৮ সালে এ খাতের রপ্তানি আরও বেড়ে ৩ হাজার ৫১৪ কোটি টাকা হয়। ২০১৯ সালে ওষুধ ও কাঁচামাল রপ্তানি থেকে ৪ হাজার ৯০ কোটি টাকা আয় করে দেশ। ২০২০ সালে ওষুধ ও কাঁচামাল রপ্তানি করে দেশ আয় করে ৪ হাজার ১৫৫ কোটি টাকা। ২০২১ সালে ওষুধ ও কাঁচামাল রপ্তানি থেকে দেশ আয় করে এক লাফে ৬ হাজার ৭০৯ কোটি টাকায় উন্নীত হয়।
