ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির নামে গ্রাহকের অর্থ আত্মসাৎ করে পাচারের অভিযোগে করা মামলায় বিচারিক আদালতে দন্ডপ্রাপ্ত ৪৫ জনের সাজা বাড়াতে উচ্চ আদালতে আবেদন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আবেদন করা হয়।
গতকাল শনিবার দেশ রূপান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। তিনি বলেন, ‘মামলায় চার বছরের কারাদন্ড পাওয়া ডেসটিনি গ্রুপের প্রেসিডেন্ট ও সাবেক সেনাপ্রধান হারুন-অর-রশিদ ও অন্য ৪৪ জনের সাজা বাড়ানোর আরজি জানানো হয়েছে আবেদনে।’ বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদারের নেতৃত্বে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে আজ রবিবার আবেদন শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হবে বলে জানান দুদকের এই আইনজীবী।
গত ১২ মে এই মামলার রায় দেয় ঢাকার চতুর্থ বিশেষ জজ আদালত। এতে ডেসটিনি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রফিকুল আমীনকে ১২ বছর কারাদন্ড ও ২০০ কোটি টাকা অর্থদন্ড, হারুন-অর-রশিদকে ৪ বছর কারাদন্ড ও সাড়ে ৩ কোটি টাকা অর্থদন্ডে, ডেসটিনি-২০০০ লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেনকে ১০ বছর কারাদন্ড ও দেড় কোটি টাকা অর্থদন্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া আরও ৪৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড ও অর্থদন্ডে দেয় বিচারিক আদালত। দন্ডপ্রাপ্তদের অর্থদন্ডের মোট পরিমাণ ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা।
সাজা বাড়ানোর আরজির ব্যাখ্যায় অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এটি একটি সংঘবদ্ধ অপরাধ। অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের যে গুরুতর অভিযোগ তাতে বিচারিক আদালতে শুধু রফিকুল আমীনের সর্বোচ্চ সাজা হয়েছে। অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় অপর আসামিদের সাজা কম হয়েছে বলে আমাদের কাছে মনে হয়েছে। তাই তাদের ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ ১২ বছর সাজার আরজি জানানো হয়েছে।’
এ মামলায় দন্ড-প্রাপ্ত হারুনের করা জামিনের আবেদন গত বৃহস্পতিবার খারিজ করে দেয় হাইকোর্ট। তবে সাজা থেকে খালাস চেয়ে তার করা আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করে মামলার নথি তলব করে আদালত। একই সঙ্গে এ মামলায় বিচারিক আদালতে দন্ডপ্রাপ্ত কিন্তু পলাতক ৩৯ জনকে গ্রেপ্তারে রেড নোটিস জারির ব্যবস্থা করতে পুলিশ মহাপরিদর্শককে নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।
২০১২ সালের জুলাইয়ে দুদক ডেসটিনির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে মামলাটি করে। প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ডেসটিনি ট্রি প্লান্টেশন প্রজেক্টের অর্থ আত্মসাতের আরেকটি মামলা ঢাকার সংশ্লিষ্ট আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণের পর্যায়ে রয়েছে।
