ছাত্রলীগ ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতিকে স্বপদে বহাল

জয়-লেখকের বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ

আপডেট : ১২ জুন ২০২২, ০৩:২৪ এএম

ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের দুর্বলতা কাটিয়ে তুলতেই আওয়ামী লীগের শীর্ষ সারির কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতার আদিষ্ট হয়ে জালিয়াতির অভিযোগে অব্যাহতি পাওয়া মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি ইব্রাহিম হোসেনকে আবার স্বপদে ফেরানো হয়েছে। সাত মাস না পেরুতেই ঘোরতর জালিয়াতিতে জড়ানো ইব্রাহিমকে স্বপদে বহাল রেখে ছাত্রলীগের দ্বিতীয় প্রেস রিলিজ দেওয়া হয় গতকাল শনিবার।

অভিযোগ উঠেছে, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেন করে ইব্রাহিমের অব্যাহতিপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের কৌশলে ভাগে নিয়েছেন জয়-লেখক।

ছাত্রলীগের সহসভাপতি পদের এক নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, শিক্ষা সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র জাল করে ২০১৮ সালের ৩১ জুলাই সভাপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন ইব্রাহিম হোসেন। বাবা-মায়ের নাম পরিবর্তন করে নেতা হওয়া ইব্রাহিম গত বছরের ৩০ নভেম্বরে পদ থেকে অব্যাহতি পান। প্রেস রিলিজের মধ্য দিয়ে ছাত্রলীগ সভাপতি জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক যৌথ স্বাক্ষরে অব্যাহতি প্রদান করেন তাকে। অব্যাহতি দেওয়া প্রেস রিলিজে যেমন কোন অভিযোগে ইব্রাহিমকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে জানানো হয়নি, তেমনি প্রত্যাহার করার প্রেস রিলিজেও কোনো কারণ তুলে ধরা হয়নি।

ছাত্রলীগের সম্পাদক পদের একাধিক নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, জয়-লেখক প্রেস রিলিজ নির্ভর নেতা। তারা নিজেরা যেমন প্রেস রিলিজে নেতা হয়েছেন তেমনি প্রেস রিলিজের মাধ্যমেই তারা পুরো সংগঠন ঢাকায় বসে পরিচালনা করছেন। মন চাইলে কাউকে অব্যাহতি দেন আবার মন চাইলে প্রত্যাহারও করে নেন প্রেস রিলিজেই। সম্মেলন ছাড়া ঢাকায় বসে প্রেস রিলিজের মাধ্যমে অসংখ্য কমিটি দিয়েছেন আবার অব্যাহতি দিয়েছেন। জয়-লেখকের নেতৃত্বের ছাত্রলীগকে এখন ‘প্রেস রিলিজ ছাত্রলীগ’ খ্যাতি দিয়েছেন ওই সংগঠনের নেতারা।

ইব্রাহিমের নামে আরেকটি ঘোরতর অপরাধের ঘটনা রয়েছে। গত বছর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরসঙ্গী হিসেবে জলবায়ু সম্মেলনে গিয়েছিলেন ছাত্রলীগ নেতা ইব্রাহিম হোসেন। ফিরে আসার সময়ে ১৪ নভেম্বর তাকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দর এলাকায় অবস্থান নেয় তার কর্মী-সমর্থকরা। এতে বিমানবন্দর সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। যানজটের কারণে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের হলে পৌঁছাতে বেশ বেগ পোহাতে হয়। এ ঘটনায় বেশ সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ওইদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানানো হয়নি অথচ ইব্রাহিমকে স্বাগত জানানো হয়।

ছাত্রলীগের একজন কেন্দ্রীয় সহসভাপতি নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশ রূপান্তরকে বলেন, সংগঠনে নিয়মনীতির বালাই না করে জয়-লেখক যা তা করে বেড়াচ্ছে। এতে সংগঠনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হতে চলেছে।

এ প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানতে গতকাল শনিবার রাতে ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের মোবাইল ফোনে বেশ কয়েকবার ফোন করা হয়। কিন্তু দুজনের কেউ ফোন ধরেননি।  

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত