পাচার অর্থ ফেরাতে সহযোগিতা করবে বিজিএমইএ

আপডেট : ১৪ জুন ২০২২, ০১:৪৯ এএম

দেশ থেকে পাচার রোধে এবং পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে সরকার চাইলে সহযোগিতা করবে তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ। পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে সরকারের সিদ্ধান্ত অনেকের পছন্দ না হলেও মেনে নিয়ে এগিয়ে আসা উচিত বলে মনে করেন সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট ফারুক হাসান। এ ছাড়া তিনি পোশাক রপ্তানিতে উৎসে কর চলতি বছরের মতো দশমিক ৫০ শতাংশ রাখার দাবি করেন, যেটা আগামী অর্থবছরে ১ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়েছে সরকার।

গতকাল সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট এবং সমসাময়িক বিষয় নিয়ে বিজিএমইএ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় সংগঠনের ভাইস প্রেসিডেন্ট শহীদুল্লাহ আজীম, ডিরেক্টর শেহরিন সালাম, আব্দুল্লাহ হিল রাকিব প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ফারুক হাসান বলেন, পোশাক রপ্তানির পেমেন্ট দেয় ব্যাংকের মাধ্যমে। আমরা প্রণোদনা পাওয়ার জন্য শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে লেনদেন করি। অর্থ পাচার কেউ চাইলে বিভিন্নভাবে করতে পারে। শুধু আমদানি-রপ্তানির মাধ্যমে করা সম্ভব, বিষয়টা তেমন নয়। তাই পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে এবং পাচার রোধে সরকার আমাদের কাছে যে সহযোগিতা চাইবে আমরা তা করব।

আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ৭ শতাংশ কর দিয়ে বিদেশে পাচার করা অর্থ ফেরানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। এটা বিজিএমইএ সমর্থন করে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে জবাবে ফারুক হাসান বলেন, সরকারের অনেক সিদ্ধান্ত অনেকের কাছে পছন্দ হবে, অনেকের হবে না। আমি মনে করি সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটা মেনে আমাদের এগিয়ে যাওয়া উচিত।

তিনি বলেন, বিশ^ব্যাপী নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ায় ডলারের ওপর চাপ পড়েছে। আমরা কেন ভয় পাচ্ছি। যখনই মূল্যস্ফীতি বাড়ে, তখন একজন মানুষের প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এ কারণে বিশে^ পোশাকের চাহিদা কমে যাচ্ছে। আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। পোশাক রপ্তানি কমে গেলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যেতে পারে। তাই সরকার ডলারের রিজার্ভটা ঠিক রাখতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।

বাজেটকে সামগ্রিকভাবে ইতিবাচক জানিয়ে প্রশংসা করলেও বাড়তি উৎসে কর প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন বিজিএমইএ সভাপতি। তিনি বলেন, বর্তমান বৈশি^ক প্রেক্ষাপটে বাড়তি উৎসে কর পোশাকশিল্পের জন্য অত্যন্ত দুরূহ হবে। শিল্প এই মুহূর্তে মহামারী থেকে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে, কর বাড়ানোর জন্য এটি সঠিক সময় নয়। বর্তমান বিশ^ বাণিজ্য পরিস্থিতি আমাদের পোশাকশিল্পের জন্যও বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

রপ্তানির সঙ্গে উৎসে কর আদায় বাড়ার ধারাবাহিক এই অগ্রগতি তুলে ধরে আগামী কয়েক বছর তা অব্যাহত থাকবে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন ফারুক হাসান বলেন, পোশাকশিল্পের রপ্তানি বাড়িয়ে বাড়তি করের সমান কর সরকারি কোষাগারে দেওয়া সম্ভব হবে। তিনি জানান, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৪৫ বিলিয়ন ডলার পোশাক রপ্তানি হলে এবং শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ হার উৎসে কর বহাল রাখা হলে ২ হাজার ৭০ কোটি টাকা দেওয়া হবে।

রাজধানীর কয়েকটি পোশাক কারখানায় শ্রমিক বিক্ষোভের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ফারুক হাসান বলেন, বেশ কয়েকটি কারখানা শ্রমিকদের কম দামে চাল-ডালসহ খাদ্যসামগ্রী দেয়। এটা আমরা বাড়ানোর চেষ্টা করছি। এ ছাড়া টিসিবির মাধ্যমে শ্রমিকদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিক্রি করা হয়। ভবিষ্যতে টিসিবি যাতে আরও বেশি পণ্য পোশাকশ্রমিকদের কাছে বিক্রি করে, সেই চেষ্টা করব।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে শ্রমিকদের বেতন বাড়ানোর বিষয়ে বিজিএমইএর প্রেসিডেন্ট বলেন, নতুন মজুরিকাঠামো তৈরির জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাবনা দিয়েছি। কাজ চলছে। মালিক-শ্রমিক-সরকার আলোচনা করে ঠিক করে খুবই দ্রুতই বাস্তবায়ন করা হবে। কভিডের সময় যাদের চাকরি চলে গিয়েছিল, আমরা তাদের খুঁজে বেড়াচ্ছি। কীভাবে কাজে ফেরানো যায়। প্রতি বছর মিনিমাম একটা ইনক্রিমেন্ট দেওয়ার চেষ্টা করছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত