‘পদ্মা সেতু উদ্বোধনের আগে নাশকতার শঙ্কা’

আপডেট : ১৪ জুন ২০২২, ০১:৫৭ এএম

পদ্মা সেতু উদ্বোধন সামনে রেখে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর ষড়যন্ত্র করছে একটি গোষ্ঠী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ লিফলেট ও পোস্টারের মাধ্যমে ছড়াচ্ছে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য। গোষ্ঠীটি পরিকল্পিতভাবে সাধারণ জনগণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত ও একাধিক মামলায় আদালতে দণ্ড পাওয়া শহীদ উদ্দিন খান বিদেশে বসে এ ষড়যন্ত্রের কলকাঠি নাড়ছেন। সম্প্রতি বিভ্রান্তিমূলক তথ্যের লিফটেলসহ গ্রেপ্তার হওয়া এক যুবকের দেওয়া তথ্যের বরাতে পুলিশ বলছে, লিফলেট-পোস্টারে তথ্য, ছাপানো ও বিলি করার অর্থ শহীদ উদ্দিন দিয়েছেন। 

পুলিশ জানায়, গত শনিবার রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেট থেকে কৌশিকুর রহমান নামের এক যুবককে লিফলেট বিলির সময় আটক করা হয়। কৌশিকুর ১৫-২০ দিনে ঢাকার লালবাগ, ধানমন্ডি ও মতিঝিল এলাকায় দুই থেকে তিন হাজার লিফলেট বিতরণ করেছেন। আটকের সময় তার কাছ থেকে শহীদ উদ্দিনের ছবিসহ ৩৯৫টি লিফলেট উদ্ধার করা হয়। লিফলেটের বাম পাশে শহীদ উদ্দিনের ছবি, ডান পাশে মুষ্টিবদ্ধ তিনটি হাতের মোটিফ রয়েছে। মাঝখানে লেখা রয়েছে ‘হঠাও মাফিয়া, বাঁচাও দেশ, শহীদ স্যারের নির্দেশ’। ১০ দফা দাবিসংবলিত লিফলেটের নিচে লেখা ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’।

কৌশিকুরকে সাত দিনের রিমাণ্ডে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা। তিনি জানান, কৌশিকুর রহমান জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন পদ্মা সেতু উদ্বোধন সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে সুশৃঙ্খল বাহিনীর সদস্যসহ জনগণকে বিভ্রান্ত করতে শহীদ উদ্দীন লিফলেট বিতরণ ও পোস্টার লাগানোর জন্য কিছু লোককে মাঠে নামিয়েছেন। কৌশিকুর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন, শহীদ উদ্দীনের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা পেয়ে তার সহযোগী খোকন ও বাবু এই লিফলেট প্রিন্ট করে তাকে বিতরণের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তিনিও টাকার বিনিময়ে সেই দায়িত্ব নিয়েছেন।

এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ১২ জুন পল্টন থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে চারজনকে আসামি করে মামলা করেছে। কৌশিকুর ছাড়াও অন্য আসামিরা হলেন শহীদ উদ্দিন, তার ঘনিষ্ঠ খোকন, বাবু।

ডিবির মতিঝিল বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এজাহারভুক্ত অপর তিন আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ঢাকা ও ঢাকার বাইরের সব থানাকে এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। শহীদ উদ্দীন ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার করা গেলে ঘটনার নেপথ্যে পুরো চক্রের নাম জানা যাবে।

আয়কর ফাঁকির মামলায় দন্ডপ্রাপ্ত শহীদ উদ্দীন খানের কর্নেল পদবি গত বছর বাতিল করা হয়। শহীদ উদ্দীন খানের বিরুদ্ধে প্রবাসে পলাতক থাকা অবস্থায় রাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। অস্ত্র আইন, আয়কর ফাঁকির মামলায় শহীদ উদ্দীন বিভিন্ন মেয়াদে সাজা পেয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী তিনি এখন যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত