তথ্য লুকিয়ে অপ্রয়োজনীয় ভবন নির্মাণ জাবিতে!

আপডেট : ১৪ জুন ২০২২, ০২:০৯ এএম

কাগজে-কলমে আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়। তবে বাস্তবে প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থীর আবাসনের ব্যবস্থা নেই। শিক্ষক-কর্মকর্তাদেরও সিকিভাগ আবাসন সুবিধা পান। অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্যও পর্যাপ্ত অবকাঠামো নেই। এসব সংকট মেটাতে ২০১৮ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ হাজার ৪৪৫ কোটি ৩৬ লাখ টাকার উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এই প্রকল্পের মাধ্যমে আবাসন সুবিধা নিশ্চিত হচ্ছে ঠিকই। কিন্তু অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমের জন্য পর্যাপ্ত অবকাঠামো নিশ্চিত করা হয়নি। অথচ দুটি প্রশাসনিক ভবন থাকার পরও প্রকল্পের আওতায় ১৩৭ কোটি টাকা ব্যয়ে আরও একটি ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী-শিক্ষক থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিপুল অর্থ ব্যয় করে নতুন প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ অর্থের অপচয় ছাড়া কিছুই না।

গত ৮ জুন প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপে নতুন একটি প্রশাসনিক ভবনসহ ১৪টি স্থাপনার নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে যে ইতিমধ্যে একটি নতুন প্রশাসনিক ভবন নির্মিত হয়েছে সেটির ব্যাপারে উন্নয়ন প্রকল্পের ডিটেইল প্রজেক্ট প্ল্যানে (ডিপিপি) উল্লেখ নেই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল কার্যালয় সূত্র জানায়, ২০১৬ সালে নির্মাণকাজ শেষ হওয়া পাঁচতলা প্রশাসনিক ভবনটি মূল পরিকল্পনার একটি অংশ মাত্র। এই ভবন নির্মাণের নথিপত্র ঘেঁটেও এর সত্যতা মিলেছে। ভবনটিকে দক্ষিণ ব্লক হিসেবে বলা হয়েছে। ভবনটি নির্মাণের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই প্রশাসনিক ভবনের উত্তর, পশ্চিম ও পূর্ব পাশে আরও তিনটি ব্লক তৈরির নকশা ছিল। সম্প্রসারণের সুবিধার্থে ভবনের পাশে রড বের করে রাখা হয়েছে। এই ব্লকগুলোর একটি নির্মাণ করতে পারলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কার্যালয়কে এ ভবনের আওতায় আনা যাবে। ভবনটি পূর্ণাঙ্গ করতে ৩৫ কোটি টাকার মতো ব্যয় হতে পারে। অথচ এই ভবনের কোনো তথ্যই ডিপিপিতে উল্লেখ নেই। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন প্রশাসনিক ভবনকে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনার একমাত্র ভবন হিসেবে দেখানো হয়েছে। এই লুকোচুরির মাধ্যমে নতুন আরও একটি প্রশাসনিক ভবনের বরাদ্দ আনা হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক আদিল মুহম্মদ খান বলেন, ‘দুটি ভবন থাকার পরও আরও একটি প্রশাসনিক ভবন নির্মাণের অর্থ হচ্ছে অন্যান্য অ্যাকাডেমিক ভবনের সংকটকে আমলে না নেওয়া। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে মানানসই নয়। এই অন্যায্য পরিকল্পনা থেকে সরে আসা উচিত।’

উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) প্রকৌশলী মো. নাসির উদ্দিন বলেন, ‘এ প্রকল্পের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে একটি টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সেই কমিটি বলেছে, একটি পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক ভবন যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের পাশে হয়, তাহলে দাপ্তরিক কাজের জন্য বাইরে থেকে আসা লোকজন সহজে কাজ সারতে পারবে। মন্ত্রণালয়ের মতামতের ভিত্তিতে এই প্রশাসনিক ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত পাস হয়।’

ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সভাপতি রাকিবুল হক বলেন, ‘প্রধান ফটকে দুর্গের মতো একটা প্রশাসনিক ভবনের দরকার নেই। বাইরের মানুষজন তো প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসবেই। আর শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা প্রশাসনিক ভবনে নয়, এখন তো এগুলো অনলাইনেই থাকা উচিত। এই টাকায় অন্য অ্যাকাডেমিক ভবন নির্মাণের চিন্তা বিশ্ববিদ্যালয় করতে পারে।’

এসব বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নূরুল আলম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত