কিস্তির টাকা পকেটে, কাজ বন্ধ

আপডেট : ১৫ জুন ২০২২, ০১:৫৪ এএম

রাজধানীর চাঁনখারপুল মোড়ে বহুতল মার্কেট তৈরির জন্য দুই বছর সময় নির্ধারণ করে কাজে হাত দেয় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। কিন্তু কাজ শুরু করে বছর দুয়েক আগে মাত্র বেসমেন্ট নির্মাণ শেষ করা হয়। এরপর থেকেই শুরু হয় গড়িমসি। কিছু পিলার উঠলেও এখন কাজ বন্ধ।

এরই মধ্যে দোকান বরাদ্দ পাওয়া লোকজনের কাছ থেকে নিয়ম অনুযায়ী টাকাও নেওয়া হয়েছে। ২৮১ জন বরাদ্দগ্রহীতা টাকা জমা দিয়ে এখন বিপাকে পড়েছেন। বছরের পর বছর অপেক্ষা করেও দোকান পাচ্ছেন না তারা। কবে নাগাদ দোকান পাওয়া যাবে তারও কোনো সদুত্তর মিলছে না।

দীর্ঘদিন অপেক্ষার পরও দোকান না পেয়ে ক্ষুব্ধ বরাদ্দগ্রহীতারা। তারা বলছেন, এমনও শোনা যাচ্ছে যে তাদের জমা দেওয়া টাকা অন্য খাতে ব্যয় করা হচ্ছে। কোনো কিছুই নিয়ম মেনে হচ্ছে না।

চাঁনখারপুল মার্কেটে দোকান বরাদ্দ পাওয়া খায়রুল হক নামে এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ক্ষোভ জানিয়ে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘লটারির মাধ্যমে দোকান পাইছি আগের মেয়রের (সাঈদ খোকন) আমলে। হেই মেয়র মার্কেটের কাজ শুরু কইরা কিছু দূর গিয়া পরে আর করে নাই। এরপর মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস দায়িত্ব নিলেন। এরপর নতুন করে কিস্তির টাকাও নিলেন। এখন তিনিও টাকা নিয়ে বইসা আছেন। কাজ আর শুরু করেন না।’

ওই ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমরা ছোটখাটো দোকানদার। যা টাকা-পয়সা ছিল তা সিটি করপোরেশনকে দিছি। এখন কোন আমলে দোকান পামু হের কোনো ঠিকঠিকানা নাই।’

বরাদ্দগ্রহীতা আরেক ব্যবসায়ী বলেন, কাজের কোনো অগ্রগতি নেই। কিন্তু নিয়ম মেনে কিস্তির টাকা ঠিকই আদায় করা হয়েছে। কাজ আবার কবে নাগাদ শুরু হবে তা কেউ বলছেন না।

বরাদ্দ পাওয়া অন্য একজন বলেন, এখানে প্রায় ১২ হাজার টাকা বর্গফুটে দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। নিচতলা আর দোতলা ছাড়া বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেও বাজারদর এতটা হয় না। যারা ৫-৬ তলায় দোকান পেয়েছেন তাদের ১০০ বর্গফুটের দোকানের জন্য প্রায় ১২ লাখ টাকা দিতে হচ্ছে। এরমধ্যে ৫ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। কিন্তু দোকানের কোনো অস্তিত্ব নেই।

এ বিষয়ে ডিএসসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী (মার্কেট নির্মাণ সেল) তৌহিদ সিরাজ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চাঁনখারপুলে নির্মাণাধীন মার্কেট নিয়ে কিছুটা জটিলতা আছে। সেখানে প্রথমে যে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কাজ করছিল তাদের সঙ্গে চুক্তি বাতিল হয়েছে। নতুন করে ঠিকাদার নিয়োগ করা হবে। আর বাকি কাজটুকু আমরা মার্কেট সেল থেকেই করব।’ কবে নাগাদ কাজ শুরু হবে এমন প্রশ্নের উত্তরে এ প্রকৌশলী বলেন, ‘শুনেছি আগের ঠিকাদারের কাজ বাতিল করে নতুনভাবে কাজ শুরুর ফাইলটি উচ্চ পর্যায়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। সেখান থেকে পাস হয়ে এলে আমরা কাজ শুরু করতে পারব।’

ডিএসসিসি সূত্রে জানা যায়, চাঁনখারপুল মার্কেটের কাজ শুরু হয় ২০১৭ সালের অক্টোবরে। তার আগে লটারির মাধ্যে দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে ২০১৯ সালের অক্টোবরে কাজ শেষ করতে বলা হয়। ১২তলা ভিত্তির ওপর ৬তলা ভবনে হবে ২৮১টি দোকান। এর জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২৯ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। প্রতিটি দোকানের আকারভেদে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১১ থেকে ১২ লাখ টাকা। এরই মধ্যে দুই দফা কিস্তির মাধ্যমে ডিএসসিসির রাজস্ব বিভাগ ৫ লাখ টাকা করে আদায়ও করেছে। নিয়ম অনুযায়ী, বাকি টাকা নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিয়ে সালামি হিসেবে নেওয়া হবে।

ডিএসসিসির বাজার শাখার উপ-প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মিয়া মো. জুনাইদ আমীন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা নির্ধারিত টাকা জমা নিয়েছি। এরপর আর নতুন করে কিস্তি নেওয়া হচ্ছে না। মার্কেট নির্মাণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত এলে পরে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সংস্থার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফরিদ আহাম্মদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রথম যে ঠিকাদার কাজ করেছেন তিনি নিয়মের ব্যত্যয় করায় তার সঙ্গে চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। এখন নতুন করে ঠিকাদার নিয়োগ করা হবে। সেই প্রক্রিয়া শেষ করতে কিছুটা সময় লাগছে।’ তিনি বলেন, ‘হতাশ হওয়ার কিছু নেই। আমরা দুই তিন মাসের মধ্যে আশা করছি নতুনভাবে কাজ শুরু করতে পারব। আমরা নিয়মমাফিক বরাদ্দগ্রহীতাদের কাছ থেকে টাকাও নিচ্ছি। ফলে কাজ না করার কোনো কারণ নেই।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত