ঈদুল আজহা উপলক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য সহনীয় রাখতে ও ভর্তুকি মূল্যে নিম্ন আয়ের প্রায় এক কোটি উপকারভোগী পরিবারের মাঝে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) পণ্য বিক্রি শুরু হচ্ছে ২২ জুন।
সরকার নির্ধারিত উপকারভোগীরা এবার ৫৫ টাকায় এক কেজি চিনি, ৬৫ টাকা কেজি দরে দুই কেজি মসুর ডাল ও ১১০ টাকা লিটার দরে দুই লিটার সয়াবিন তেল কিনতে পারবেন।
এ বিষয়ে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আরিফুল হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, আগামী ২২ জুন থেকে নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে স্বল্পমূল্যে সয়াবিন তেল, ডাল ও চিনি বিক্রি শুরু করা হবে। তিনি আরও বলেন, ‘টিসিবির পণ্য কিনতে এখন থেকে গ্রাহককে ট্রাকের পেছনে লম্বা লাইনে দাঁড়াতে হবে না। ভোগান্তি কমাতে নির্ধারিত ডিলারদের স্থায়ী দোকান অথবা জেলা প্রশাসনের কার্যালয় নির্ধারিত বিক্রয় কেন্দ্র থেকে সরাসরি ভর্তুকি মূল্যে টিসিবির পণ্য কিনতে পারবেন ফ্যামিলি কার্ডধারী নিম্ন আয়ের মানুষ।’
টিসিবির চেয়ারম্যান বলেন, দেশের যেসব এলাকায় অ্যাপ চালু হয়েছে সেখানে অ্যাপের মাধ্যমে বিক্রি করা হবে। আর যেসব এলাকায় এখনো অ্যাপ চালু করা যায়নি। সেখানে আগের নিয়মে কার্ডের মাধ্যমেই পণ্য বিক্রি করা হবে। পর্যায়ক্রমে সারা দেশেই বিক্রয় কার্যক্রম অ্যাপের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, প্রথমবারের মতো ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি ও অ্যাপের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করবে টিসিবির ডিলাররা। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকার জন্য প্রস্তুত করা এসব কার্ড টিসিবির কাছে হাস্তান্তর করা হবে দ্রুত। ইতিমধ্যে দুই কোটি লিটার সয়াবিন তেল, ১০ হাজার টন চিনি ও ২০ হাজার টন মসুর ডাল সারা দেশে জেলা প্রশাসকদের কাছে পৌঁছানো শুরু হয়েছে।
পূর্ব নির্ধারিত ঘোষণা অনুযায়ী, গত ১৬ মে টিসিবির মসুর ডাল, চিনি ও সয়াবিন তেল বিক্রির কথা ছিল। কিন্তু ১৫ মে রাতে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বিক্রয় কার্যক্রম অনিবার্য কারণ দেখিয়ে স্থগিত করে। পরবর্তীকালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব তপন কান্তি ঘোষ সাংবাদিকদের বলেন, ট্রাকের পেছনে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে টিসিবির পণ্য কেনার চিত্র খুব ভালো দেখায় না। তাই ট্রাক সেল বন্ধ করে ডিলারের দোকান থেকে পণ্য বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১৬ জুন থেকে টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরু করার কথা থাকলেও চাহিদামতো সয়াবিন তেল না পাওয়ায় এক সপ্তাহ পিছিয়ে ২২ জুন থেকে শুরু করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দ্বিতীয় কিস্তির পণ্য ৩০ জুনের পরিবর্তে ৫ জুলাই বিক্রি করা হবে বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
দাম বাড়াতে চেয়েছিল টিসিবি : বর্তমান বাজার মূল্যের সঙ্গে টিসিবির ভোক্তা মূল্যের পার্থক্য বেশি হওয়া এবং কালোবাজারি ঠেকাতে সয়াবিন তেল ও মসুর ডালের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিল টিসিবি। টিসিবি প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম ১১০ টাকার পরিবর্তে ১৩০ টাকা ও প্রতি কেজি মসুর ডাল ৬৫ টাকার পরিবর্তে ৭৫ টাকা নির্ধারণ করার প্রস্তাব করেছিল। সরকার দাম বাড়াতে রাজি হয়নি।
