পেটসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি

আপডেট : ১৫ জুন ২০২২, ১১:২৪ পিএম

ধানমন্ডি আইডিয়াল কলেজের অধ্যক্ষ ও দুজন শিক্ষক ভুয়া পিএইচডি ডিগ্রিধারী বলে ধরা পড়েছেন এবং সাময়িকভাবে চাকরিচ্যুত হয়েছেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রাইম এশিয়ায় ছয়জন ভুয়া পিএইচডিধারী শিক্ষকের সংবাদ গণমাধ্যমে এসেছে, তাদের একজন আবার ডাবল পিএইচডি এবং দুটোই ভুয়া। একটি সুপরিচিত প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী এমনই পিএইচডিধারী, টিভি প্রতিবেদনে দেখিয়েছে। আমেরিকান ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি জোগাড় করেছেন অনেকেই। পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের হিসাবে দেশে ভুয়া ডক্টরেট ডিগ্রিধারী ব্যক্তির সংখ্যা সাড়ে আট হাজারের মতো বলে একটি গণমাধ্যম জানিয়েছে। তাদের মধ্যে আপনার-আমার পরিচিত কজন তো থাকবেনই।

ডক্টরেট ডিগ্রিধারীদের নিয়ে ঠাট্টা-মশকরার শেষ নেই। সৈয়দ মুজতবা আলীও ছাড়েননি। মার্কিনি গল্পটির বিভিন্ন ভার্সন রয়েছে। গল্পটি মোটামুটি এ রকম : ঘোড়দৌড়ে পদকবিজয়ী এক ঘোড়ায় চেপে বিদ্যার্থী জ্ঞানের অন্বেষণে ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুটলেন যুক্তরাষ্ট্রের রাজপথে। হঠাৎ চোখে পড়ল একটি পথনির্দেশক তীরচিহ্ন, এ সড়কে সেই বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে সবচেয়ে কম সময়ে কম খরচে পিএইচডি ডিগ্রি দেওয়া হয়।

ঘোড়ার গতি কমিয়ে তিনি নির্দেশিত পথে এগিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছালেন। প্রসপেক্টাস ঘাঁটলেন। মাত্র একশ ডলার। তিনি একশ ডলার জমা দিয়ে রিসিট দাখিল করলেন, রেজিস্ট্রার অফিসে, কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স ডিপার্টমেন্টে। কিছুক্ষণ অপেক্ষার পালা। ভেন্ডিং মেশিনে কয়েকটা মুদ্রা ফেলে শীতল এক ক্যান পানীয় কিনলেন। এ সময়ই ডাক পড়ল অ্যাকাডেমিক হলে। এখানেই ডিগ্রিপ্রাপ্তদের অ্যাকাডেমিক গাউন পরিয়ে দেওয়া হয়। প্রবল করতালির মধ্যে ভাইস চ্যান্সেলর পোশাক পরিয়ে দিলেন। ডায়াসে খুব বড় হরফে লেখা নলেজ ইজ পাওয়ার।

সদ্য ডিগ্রি লাভ করা এই ডক্টরেট ঘোড়া ছুটিয়ে টগবগ করে ফিরে যাচ্ছেন, যাওয়ার সময় মাথায় নতুন চিন্তা হলো। মাত্র একশ ডলারই তো। তাহলে ঘোড়াটার জন্যও একটা পিএইচডি হোক না। অ্যাবাউট টার্ন করে আবার সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে। একশ ডলার জমা দিতে চাইলেন ঘোড়ার নামে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ টাকাটা ফিরিয়ে দিলে বলল, দুঃখিত, আমরা ঘোড়াদের পিএইচডি দিই না, কেবল গাধাদের দিয়ে থাকি।

ডগটরেট!

২২ বছর আগে ৫ অক্টোবর ২০০০ এএফপির রিলিজ করা এ খবরটি ৬ অক্টোবর অনেক পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। পেটসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় এর মধ্যেই বাণিজ্য ও সামাজিক বিজ্ঞান শাখায় সাতটি ব্যাচেলর্স ডিগ্রি দিয়েছে। স্নাতকোত্তরও একটি। ডিগ্রি নিশ্চয়নের সনদটি লাতিন, ফ্রেঞ্চ কিংবা ইংরেজি ভাষায় হতে পারে। এর জন্য ৪০ থেকে ৬০ ডলার খরচ করতে হবে। ডক্টরেটও দেওয়া হবে।

এএফপি মিথ্যা খবর দেয়নি। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে শুধু পোষা জন্তু-জানোয়ারদের উচ্চতর ডিগ্রি দেওয়া হয়। ডিগ্রিজ ফর পেট এনিম্যালস। জন্তুর মালিক নির্ধারিত ফর্মে জন্তুটির মেধা ও বুদ্ধিমত্তার বিস্তৃত বিবরণ লিখে দুজন উপযুক্ত অ্যাকাডেমিক রেফারির নাম-ঠিকানা ই-মেইলসহ পেটসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠিয়ে দেবেন। রিসার্চ কাউন্সিল প্রথম দফা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন। তারপর যাবে অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলে। ইন্টার্নাল এবং এক্সটার্নাল ঠিক করা হবে, ব্যাস। কাগজ এবং ছবিই (জন্তুটির পাসপোর্ট সাইজ ছবি) ডিফেন্ডার হিসেবে কাজ করবে। জন্তুটিকে সরেজমিনে যেতে হবে না।

আসলে পড়াশোনা, ডিগ্রিপ্রাপ্তি এসব ডেকোরেটিভ বিষয় মানুষের একচেটিয়া কারবার অন্য প্রজাতি ভালো চোখে দেখছে না। এনিম্যাল রাইটস অ্যাক্টিভিস্টারও সক্রিয়। আর যুক্তরাষ্ট্র হচ্ছে গ্রেটেস্ট মেল্টিং পট অব দ্য আর্থ। সাদা বা কালো, বামন বা লম্বু, মানুষ বা জানোয়ার সব মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। মানুষ আর কুকুর বিড়ালে কী এমন তফাৎ! নতুন সহস্রাব্দে পেটসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় (পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় নয়) পোষা জন্তু-জানোয়ারদের মাত্র ৫০ ডলারের বিনিময়ে ডক্টরেট ডিগ্রি দিতে শুরু করেছে। কাজেই ডক্টরেট শোনা মাত্রই বিভ্রান্ত হওয়ার কারণ নেই। কোনো সূত্রে ডক্টরেট এবং কততম ডক্টরেটধারী সবই জানা প্রয়োজন।

ডক্টরেট ডিগ্রিধারীদের ব্যাপারে সাবধান

হালে একজন ডক্টরেট বিক্রেতা জার্মান আদালতে পাঁচ বছরের কারাদ- লাভ করেছেন। এই বিক্রেতা একজন চিত্রশিল্পী। ডিগ্রি বিক্রিতে তাকে সহায়তা করার জন্য দন্ডিত হয়েছেন, দুবছরের কারাদ-। তারা ভুয়া কোনো বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা কালো তালিকাভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে ডিগ্রি দেননি। খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিই দিয়েছেন। টাকা জমা দিয়ে ডিগ্রিপ্রাপ্তিতে খানিকটা বিলম্ব ঘটায় একজন ব্যবসায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘অফিস ফর দ্য অ্যাকাডেমিক অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেস’-এ এলেন। কম্পিউটার টেপাটিপি করে ডক্টরেটের জন্য নিবন্ধনকৃত ছাত্র কিংবা তার অধ্যাপকের নাম পাওয়া গেল না। ওদিকে রীতিমতো পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে নিবন্ধন করা হয়েছে। ঘটনাটি ফাঁস হওয়ার পর অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় সতর্ক হয়ে উঠেছে। ডক্টরেট ডিগ্রিধারী পেলেই ভালো করে চেক করিয়ে নিচ্ছে জেনুইন না দুনম্বরি।

অপ্রকৃত ডক্টরেট শনাক্ত করার জন্য ডগস্কোয়াড গঠন করে উন্নতর প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে কুকুরদের। দেখা যাক এ প্রক্রিয়ায় দুনম্বরি ডক্টরেটদের প্রকৃত সংখ্যা বেরিয়ে আসে কি না। বাংলাদেশেও পিএইচডি-স্নিফার ডগ পপুলেশন বাড়াতে পারলে দেশের ভেতরে পিএইচডি দেখামাত্র বিভ্রান্ত হওয়ার প্রবণতা কমত, কিছুসংখ্যক কুকুর বিদেশেও রপ্তানি যেত।

ডক্টর আইনুন নিশাত, খ্যাতিমান পানিবিশেষজ্ঞ পিএইচডি নিয়েও গবেষণা করেছেন। ডক্টরেটধারীদের ৬ ভাগে ভাগ করেছেন পিএইচডিপ্রাপ্তির পদ্ধতি বিশ্লেষণ করে। খয়রাতি পিএইচডি

তৃতীয় বিশে^র দারিদ্র্য ভাঙিয়ে ভিক্ষেটিক্কে করে অর্জন করা যায়। তেজারতি পিএইচডি বাণিজ্যিক লেনদেনের সাক্ষ্য দেয়। মেহনতি পিএইচডিতে গায়ে গতরে রীতিমতো খাটাখাটনি করতে হয়। মারফতি, তেলেসমাতি ও জালিয়াতি পিএইচডিও উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করা যায়। ডক্টর নিশাত তার চেনাজানা পিএইচডি ডিগ্রিধারীদের আর খোলামেলা চিনিয়ে দেননি। কুদরতি, ভানুমতি, ভীমরতি ডক্টরেটও রয়েছে। শরিয়তি, বেশরিয়তি এ রকম আরও কিছু পিএইচডি থাকার কথা। বিল ক্লিনটন যখন বাংলাদেশে এসেছিলেন তাকে এদেশি পিএইচডি সাধা হয়েছিল কিন্তু কোন শ্রেণির পিএইচডি বুঝতে না পারায় খালি হাতেই ফিরে গেছেন।

তিন সপ্তাহে পিএইচডি!

ধর্মমন্ত্রীকে পিএইচডি ডিগ্রিধারী হতে হবে এমন বাধ্যবাধকতা পৃথিবীর কোনো দেশেই নেই। কোনো মন্ত্রীর বেলাতেই নেই। তাহলে ডিগ্রির জন্য মন্ত্রী এত উতলা কেন? তিনি ডিগ্রির ভার দিয়ে কাকে মোহিত করতে চান? সচিবদের বোঝাতে চান, আমি তোমাদের চেয়ে কম কীসে; পেশাজীবীদের বলতে চান, হাইকোর্ট দেখাবে না, আমিও জানি; মন্ত্রিসভার সহকর্মীদের বলতে চান তিনি বিদ্যার জাহাজ; স্ত্রী ও স্বজনদের বোঝাতে চান পড়াশোনা করেছি বলেই এতদূর এসেছি; শ্যালিকা কিংবা পর্দার আড়ালের একজন নারীকে বলতে চান, তার তুলনীয় মেধাবী আর কেউ নেই, তিন সপ্তাহেই মহাকামেল।

তিনি পাকিস্তানের সাবেক ধর্মবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আমির লিয়াকত হোসেন। তিনি পারভেজ মোশাররফের সঙ্গে জোটে এমকিউএম দলের টিকিটে এমপি হয়েছেন, পরে প্রতিমন্ত্রী।

অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, ২০০২ সাল পর্যন্ত তিনি বিএ পাসও ছিলেন না। কিন্তু ব্যাকডেটে তিনি স্পেনের ট্রিনিটি কলেজ অ্যান্ড ইউনিভার্সিটি থেকে ১৭ মার্চ, ১৯৯৫ ‘ব্যাচেলর অব আর্টস ইন ইসলামি স্টাডিজ’ ডিগ্রি অর্জন করেছেন। একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৫ মার্চ, ২০০২ অর্জন করেছেন ‘মাস্টার অব আর্টস ইন ইসলামিক স্টাডিজ’। আর পুরো পাকিস্তানসহ বিশ্বের শিক্ষাঙ্গনকে হতবাক করে দিয়ে ৫ এপ্রিল, ২০০২ সালে তিনি ট্রিনিটি ইউনিভার্সিটি অ্যান্ড কলেজ থেকে ‘ডক্টর অব ফিলসফি ইন ইসলামিক স্টাডিজ’ পেয়ে গেলেন।

সংবাদপত্রে খবর বের হয়, যদি প্রতিমন্ত্রী আমির লিয়াকতের পিএইচডিকে বিশ্বাস করতে হয়, তাহলে এটাও বিশ্বাস করতে হবে যে, তিনি তিন সপ্তাহে পিএইচডি অর্জন করেছেন। দ্রুততম সময়ে পিএইচডি লাভের কৃতিত্বের জন্য তার নাম গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে ঠাঁই পাওয়ার কথা।

জেনুইন পিএইচডি থিসিস জালিয়াতি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক যথাযথভাবেই থিসিস জমা দিয়েছেন। যথাযথভাবে থিসিস ডিফেন্ড করে পিএইচডি ডিগ্রিও পেয়েছেন। সমস্যাটা দাঁড়াল পদোন্নতির সময় পদোন্নতিপ্রত্যাশী আরও কয়েকজন শিক্ষক রজারদার অভিযোগ করে বসলেন, তার থিসিসে ভেজাল আছে, জালিয়াতি আছে, নকল আছে ইত্যাদি। অভিযোগকারীরা শক্তিশালী হওয়ায় অভিযোগ কর্তৃপক্ষের আমলে নিতেই হয়েছে। আরও শক্তিশালী একটি বোর্ড থিসিস পরীক্ষা করেছে এবং অনেক অভিযোগ তাদের কাছে যথার্থ মনে হয়েছে। থিসিসটির নাম সম্ভবত মার্ক্সবাদ চর্চা ও আধুনিক বিশ্বে তার প্রভাব। গবেষক-শিক্ষক ১৩ লাখ রেসপন্ডেন্টের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এবং তা বিশ্লেষণ করে থিসিস প্রতিষ্ঠা করেছেন। ১৩ লাখ! বোর্ডের সুপারিশ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের পিএইচডি প্রত্যাহার করেছে।

গাঁজার তরী পাহাড়ের ওপর দিয়েও যায়; যিনি সুপারভাইজার ছিলেন, তিনিও কি গাঁজার তরীতে চেপেছিলেন ১৩ লাখ রেসপন্ডেন্টের সাক্ষাৎকার নিতে কয় বছর লাগার কথা তিনি নিশ্চয়ই হিসাব করেননি। যারা পরীক্ষা করেছেন, সেসব অধ্যাপক একই ঘোরে ছিলেন বলে সম্ভবত অভিসন্দর্ভের পাতাও ওল্টাননি, কিন্তু একবাক্যে পিএইচডি দিতে সম্মত হয়েছেন। এই না হলে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড!

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরই অন্য একজন শিক্ষক, যিনি পরে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর হয়েছিলেন, তিনি সেই চাকরিটি খুইয়েছেন। কারণ তার পিএইচডির সার্টিফিকেটটি ভুয়া! ব্যাপারটা ধরা পড়ে গেছে। ধরা না পড়লে হয়তো একসময় তিনি ভাইস চ্যান্সেলরও হয়ে যেতেন। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের একজন সদস্য বলেছেন, এটা তার জানা যে বেশ কিছু ভুয়া পিএইচডিধারী পুলিশ, বেসরকারি ব্যাংক, ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করছেন। কিন্তু মঞ্জুরি কমিশনের আইন প্রয়োগের সামর্থ্য নেই বলে ভুয়া প্রতিষ্ঠান ও ভুয়া ডিগ্রিধারীদের ব্যাপারে কিছু করতে পারছেন না। তিনি এটাও বলেন, এ পিএইচডিধারীদের কেউ কেউ বড়জোর আইএ পাস। এটাই বা কম কীসে?

ইন্টারভিউতে ৪০ জন পিএইচডি-ই বাদ!

২০১৭-এর জুনের ঘটনা। কর্ণাটক সরকারি কলেজের প্রভাষকরা পদোন্নতির জন্য ইন্টারভিউতে যাবেন। যাদের প্রয়োজনীয় সব যোগ্যতা নেই, তাদের ক্ষেত্রে পিএইচডি থাকলেই চলবে। কর্ণাটক এক্সামিনেশন অথরিটি পরীক্ষা নিল; পিএইচডি, নন-পিএইচডি অনেকেই পরীক্ষা উতরে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির জন্য মনোনীত হলেন। আগেরবারের দু-একটি পিএইচডি কেলেঙ্কারির কারণে উত্তীর্ণ সব পিএইচডির সার্টিফিকেট ভেরিফিকেশনের জন্য পাঠানো হলো। শেষ পর্যন্ত ৪০ জন ডক্টরেটপ্রাপ্ত শিক্ষক বাদ পড়ে গেলেন। ভেরিফিকেশনে দেখা গেল, তারা ভুয়া সার্টিফিকেট জমা দিয়েছেন। এই ভুয়া পিএইচডিরা কোন কোন বিষয়ের শিক্ষক? সবচেয়ে বেশিসংখ্যক ইংরেজির শিক্ষক; গণিত, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও কম্পিউটার সায়েন্সের বাকিরা।

বাংলাদেশেও বাবা চেয়ারম্যান, ছেলে ভাইস চ্যান্সেলর, স্ত্রী ট্রেজারার এক অ্যাপার্টমেন্টেই গোটা ইউনিভার্সিটির সন্ধান পাওয়া যায়। ভুয়া পিএইচডি, অন্যের থিসিস দাখিল করা পিএইচডি, নকল করা পিএইচডি, খাতির-জমার পিএইচডির অধিকারী বিভিন্ন চাকরিতে তো আছেনই, এমনকি পাবলিক ইউনিভার্সিটিতেও মিলবে।

লেখক : সরকারের সাবেক কর্মকর্তা ও কলামিস্ট

[email protected]

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত