গ্যারান্টি স্কিমের ৬ শতাংশ ব্যবহার আড়াই বছরে

আপডেট : ১৫ জুন ২০২২, ১১:৫১ পিএম

কুটির, অতিক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্র (সিএমএস) খাতের উদ্যোক্তাদের জামানতবিহীন ঋণ দিতে গিয়ে ব্যাংকগুলোকে যাতে খুব বেশি ঝুঁকি না নিতে হয়, সে লক্ষ্যে আড়াই বছর আগে ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিম চালু করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এই সময়ে দেশের ৪০ শতাংশ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এই সুবিধা নেওয়ার জন্য অংশগ্রহণ চুক্তি করেছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্রেডিট গ্যারান্টি সুবিধার সীমা (পিজিএল) প্রায় ১ হাজার ৯০৫ কোটি টাকা। কিন্তু সেই তুলনায় পিজিএল’র ৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ গ্যারান্টি সুবিধা নিতে পেরেছে প্রতিষ্ঠানগুলো।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, ব্যাংকগুলো এই সুবিধা নেওয়ার ক্ষেত্রে কাক্সিক্ষত মাত্রা আগ্রহ দেখাচ্ছে না। এতে সিএমএস খাতের প্রতিষ্ঠানে কাক্সিক্ষত ঋণপ্রাপ্তি বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে মনে করছেন নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির কর্মকর্তারা।

পরিসংখ্যান ঘেঁটে দেখা যায়, ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত আড়াই বছরে ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিমের আওতায় গ্যারান্টি সুবিধা পেতে ৪১টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে অংশগ্রহণ চুক্তি করেছে। কিন্তু এর মধ্যে ২১টি ব্যাংক এখন পর্যন্ত ক্রেডিট গ্যারান্টি সুবিধা নেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে কোনো আবেদন করেনি। এই ব্যাংকগুলো হলো জনতা, রূপালী, বেসিক, মেঘনা, মার্কেন্টাইল, মধুমতি, মিউচুয়্যাল ট্রাস্ট, এনসিসি, প্রিমিয়ার, সাউথবাংলা, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া, সাউথইস্ট, আল-আরাফাহ, এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ইউনিয়ন, ব্র্যাক ও সিটি ব্যাংক। এর মধ্যে ব্র্যাক ও সিটি ব্যাংক গত এপ্রিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে অংশগ্রহণ চুক্তি করে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অংশগ্রহণ চুক্তি করেও কোনো সুবিধার জন্য আবেদন করেনি আইপিডিসি ও অগ্রণী এসএমই। অংশগ্রহণ চুক্তি করা অন্য ২০টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান তাদের সিএমএস প্রতিষ্ঠানের ঋণের বিপরীতে প্রায় ১১০ কোটি টাকার ক্রেডিট গ্যারান্টি সুবিধার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে আবেদন করেছে।

এর মধ্যে আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইডিএলসি একাই প্রায় ৬৬ কোটি টাকার গ্যারান্টি সুবিধা নিয়েছে। ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্যারান্টি সুবিধা নিয়েছে ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড, সুবিধার পরিমাণ ১১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক ক্রেডিট গ্যারান্টি সুবিধা নিয়েছে ৮ কোটি ৪৬ লাখ টাকার। ইসলামী ব্যাংক নিয়ে ৫ কোটি টাকার গ্যারান্টি সুবিধা।

সরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে অগ্রণী ব্যাংক ৪ কোটি ৫২ লাখ টাকার ক্রেডিট গ্যারান্টি সুবিধা নিয়েছে। যমুনা ব্যাংক ৩ কোটি ৯৮ লাখ টাকার গ্যারান্টি সুবিধা নিয়েছে। ইউসিবিএল গ্যারান্টি সুবিধা নিয়েছে ৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকার। কৃষি ব্যাংক প্রায় ২ কোটি টাকার গ্যারান্টি সুবিধা নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওই স্কিমের আওতায়।

এছাড়া এনআরবি ব্যাংক ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, বিডি ফাইন্যান্সি ১ কোটি ৭৩ লাখ টাকা, রাকাব ২৩ লাখ টাকা, ব্যাংক এশিয়া ১৭ লাখ টাকা, ডাচ্-বাংলা ৯৭ লাখ টাকা, এনআরবি কমার্শিয়াল ৩০ লাখ টাকা, ওয়ান ব্যাংক ৯৭ লাখ টাকা, পূবালী ব্যাংক ২ লাখ টাকা, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ১৭ লাখ টাকা, ট্রাস্ট ব্যাংক ৫২ লাখ টাকা, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ১৫ লাখ টাকা, সিভিসি ফাইন্যান্স ২৫ লাখ টাকা এবং আইআইডিএফসি ৫০ লাখ টাকার গ্যারান্টি সুবিধা নিয়েছে। ২০২০ সালের পর সিভিসি ফাইন্যান্স ও আইআইডিএফসি চুক্তি নবায়ন করেনি।

এ যাবৎ মোট এক হাজার ৭০টি প্রতিষ্ঠানের ঋণের বিপরীতে এই গ্যারান্টি সুবিধা ইস্যু করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বর্তমানে দেশে ৬১টি ব্যাংক ও ৩৪টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সেই হিসেবে, ক্রেডিট গ্যারান্টির জন্য অংশগ্রহণ চুক্তি করেছে ৪০ শতাংশ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান।

এই প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্রেডিট গ্যারান্টি সুবিধার সীমা (পিজিএল) প্রায় ১ হাজার ৯০৫ কোটি টাকা। সেই হিসেবে এখন পর্যন্ত পিজিএল’র ৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ গ্যারান্টি সুবিধা নিতে পেরেছে প্রতিষ্ঠানগুলো।

জানা গেছে, ২০২০ সালের ২৭ জুলাই সিএমএস শিল্পের উদ্যোক্তাদের জামানতবিহীন ঋণ দেওয়ার জন্য ২ হাজার কোটি টাকার ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিম চালু করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সব ধরনের সিএমএস ঋণের ক্ষেত্রে এই গ্যারান্টি সুবিধা পাওয়া যায়।

শুরুতে কেবল চলতি মূলধন ঋণ এই গ্যারান্টি সুবিধার আওতায় থাকলেও সম্প্রতি মেয়াদি ঋণকেও এই সুবিধার আওতায় নিয়ে এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই স্কিমের আওতায় বিতরণ করা ঋণের সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ ভর্তুকি সুবিধার আওতায় থাকবে। জামানতহীন ঋণ আদায় না হলে ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিম থেকে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে লোকসানের সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ ভর্তুকি দেওয়া হয়। তবে এ ধরনের গ্যারান্টি সুবিধা পেতে প্রতিটি ঋণ পোর্টফোলিওর বিপরীতে ১ শতাংশ হারে গ্যারান্টি ফি দিতে হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত