দুই দফা মেয়াদ বাড়িয়েও অগ্রগতি ৬৫%

আপডেট : ১৬ জুন ২০২২, ১২:৫০ এএম

চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ শেষ হয়নি গত পাঁচ বছরেও। দুই দফায় প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ বাড়িয়ে চট্টগ্রাম নগরীর লালখানবাজার থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত সাড়ে ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ৫৪ ফুট প্রস্থের এই এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের বর্তমান অগ্রগতি ৬৫ শতাংশ। এমন পরিস্থিতিতে বাকি নির্মাণকাজ শেষ করতে আরও দুই বছর সময় বাড়িয়েছে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষ (সিডিএ)।

এদিকে ৩ হাজার ২৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য এই এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণকাজের কারণে প্রকল্প স্থানে যানজটের কারণে জনভোগান্তি লেগেই আছে। সিডিএর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এক্সপ্রেসওয়ের ১৬ কিলোমিটারের মধ্যে ইতিমধ্যে ১০ কিলোমিটার অংশের নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। জনভোগান্তি কমাতে এই ১০ কিলোমিটার অংশ আগামী ডিসেম্বরে যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে।

সম্প্রতি নগরীর টাইগারপাস, দেওয়ানহাট, চৌমুহনী, আগ্রাবাদ, বারিক বিল্ডিং, ইপিজেড ও সল্টগোলা ক্রসিং এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন জায়গায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পিলার ও গার্ডার বসানো হয়েছে। মূল সড়কের মাঝখানে টিনের ঘেরা দিয়ে এসব নির্মাণকাজ চলছে। কিন্তু এসব পিলারের দুই পাশের সড়কের বিভিন্ন অংশের কার্পেটিং উঠে গেছে। সড়কে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। সড়কের মাঝখানে বড় বড় পিলার বসানোর কারণে রাস্তা সংকুচিত হয়ে যান চলাচলে বিঘœ ঘটে অধিকাংশ সময়ই যানজট লেগে থাকছে।

দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়ে আগ্রাবাদ চৌমুহনী এলাকার বাসিন্দা মো. ফোরকান আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দীর্ঘ সময় ধরে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ চলছে। পুরো এলাকায় যানজট লেগেই থাকে। বিশেষ করে বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত যানজটে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। যেহেতু এ সড়কটিতে যান চলাচল বেশি, সেহেতু গুরুত্ব দিয়ে এ প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। মাঝখানে কিছুদিন কাজ করছে, আবার কিছুদিন বন্ধ ছিল। এ কারণে এখনো কাজ শেষ হচ্ছে না। জানি না কখন নির্মাণকাজ শেষ হবে?’

ইপিজেড এলাকার একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত রানা বলেন, ‘এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার আগে বহদ্দারহাট থেকে ইপিজেড যেতে সময় লাগত ২০-৩০ মিনিট। এখন এক ঘণ্টা সময় লাগে। মাঝেমধ্যে যানজট লেগে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা সময় লেগে যায়।’

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক ও সিডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান জানান, ইতিমধ্যে প্রায় সাড়ে ১৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে মধ্যে ১০ কিলোমিটারেরও বেশি অংশের কাজ শেষ হয়েছে। প্রকল্পের ৩৭৯টি পিলারের মধ্যে তিনশোর বেশি পিলার বসানোর পাশাপাশি চারশোর বেশি গার্ডার বসানো হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘প্রকল্পের ৬৫ শতাংশ নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। বাকি কাজ শেষ করতে প্রকল্পের মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়ানো হয়েছে। ২০২৪ সালের জুন মাসের মধ্যে বাকি কাজ শেষ হয়ে যাবে। আর আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে পতেঙ্গা থেকে নিমতলা পর্যন্ত নির্মাণকাজ শেষ হওয়া ১০ কিলোমিটার অংশ খুলে দিতে চাই।’

সিডিএর তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম নগরীর যানজট নিরসনে ২০১৭ সালের ১১ জুলাই ৩ হাজার ২৫০ কোটি ৮৩ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন পায়। পরে অনুমোদনের দেড় বছর পর ২০১৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পটির পিলার পাইলিং কাজের উদ্বোধন করেন। এই প্রকল্পের অধীনে ৯টি জংশনে ২৪টি র‌্যাম্প (গাড়ি ওঠানামার পথ) নির্মাণের কথা রয়েছে। এর মধ্যে টাইগারপাসে চারটি, আগ্রাবাদে চারটি, বারিক বিল্ডিং মোড়ে দুটি, নিমতলা মোড়ে দুটি, কাস্টমস মোড়ে দুটি, সিইপিজেডে চারটি, কেপিজেডে দুটি, কাঠগড়ে দুটি ও পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় র‌্যাম্প থাকবে দুটি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত