পদ্মা সেতু উদ্বোধনের বাকির আর ৮ দিন। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। প্রতিদিনই সেতু এলাকায় পরিদর্শন করছেন সরকারের মন্ত্রীসহ কর্মকর্তারা। পাশাপাশি উদ্বোধনের দিন আওয়ামী লীগের মহাসমাবেশ সফল করতে দলটির নেতারা বিভিন্ন সভা ও পরিকল্পনা করছেন।
ওই দিনের জনসভা সফল করতে গতকাল বৃহস্পতিবার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) অডিটরিয়ামে আওয়ামী যুবলীগ দক্ষিণবঙ্গের ২২টি জেলার প্রতিনিধিদের নিয়ে প্রস্তুতি সভার আয়োজন করে। সভায় যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ বলেন, ‘পদ্মা সেতু নির্মাণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ রাষ্ট্র হিসেবে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়েছে।’
তিনি বলেন, বাঙালির ইতিহাসে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বিজয় হচ্ছে সবচেয়ে বড় অর্জন, আমাদের গর্বের প্রতীক। এর মধ্য দিয়ে আমরা পেয়েছি গণতন্ত্র, সংবিধান, জাতীয় সংগীত, জাতীয় পতাকা, আমাদের ভূখণ্ড এবং বাঙালি হিসেবে আমাদের পরিচয়। কিন্তু স্বাধীনতা-উত্তর আমাদের যা যা অর্জন, যেসব বিষয়ে বাঙালি হিসেবে আমরা গর্ববোধ করি, যেমন পোশাক শিল্প, ক্রিকেট ইত্যাদির মধ্যে আমাদের শ্রেষ্ঠ অর্জন হচ্ছে পদ্মা সেতু। পদ্মা সেতু নির্মাণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ রাষ্ট্র হিসেবে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়েছে। এ আত্মবিশ্বাস অর্জন সম্ভব হয়েছে শুধু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদূরপ্রসারী নেতৃত্বের কারণে। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম। সভা সঞ্চালনা করেন যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিল।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ডা. খালেদ শওকত আলী, মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন, মো. রফিকুল ইসলাম, মো. নবী নেওয়াজ, সুভাষ চন্দ্র হাওলাদার, ইঞ্জিনিয়ার মৃণাল কান্তি জোদ্দার, তাজউদ্দিন আহম্মেদ, জসিম উদ্দিন মাতুব্বর, মো. আনোয়ার হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিশ্বাস মতিউর রহমান বাদশা, সুব্রত পাল, মুহা. বদিউল আলম, ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নাঈম, সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মো. মাজহারুল ইসলাম, ডা. হেলাল উদ্দিন, মো. সাইফুর রহমান সোহাগ, মো. জহির উদ্দিন খসরু, আবু মুনির মো. শহিদুল হক চৌধুরী রাসেল, মশিউর রহমান চপল, অ্যাডভোকেট ড. শামীম আল সাইফুল সোহাগ, ঢাকা মহানগর যুবলীগ উত্তরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকির হোসেন বাবুল, সাধারণ সম্পাদক মো. ইসমাইল হোসেন, দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক এইচ এম রেজাউল করিম রেজা, কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রচার সম্পাদক জয়দেব নন্দী, দপ্তর সম্পাদক মো. মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ প্রমুখ।
এদিকে গতকাল বিকেলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন তার দপ্তরে বলেন, পদ্মা সেতুকে নিয়ে কল্পিত দুর্নীতির অভিযোগ তোলায় বিশ্বব্যাংকের ক্ষমা চাওয়া উচিত। যাদের গায়ে দুর্নীতিগ্রস্তের কালিমা লেগেছে তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া উচিত।
তিনি বলেন, কানাডার কোম্পানি এসএনসি-লাভালিনের কর্মকর্তার দ্বারা দুর্নীতির মাধ্যমে পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজ পাওয়ার চেষ্টা চালায়Ñএমন অভিযোগ তুলে ২০১২ সালে পদ্মা সেতু নির্মাণে অর্থ সহায়তা দেওয়া থেকে সরে আসে বিশ্বব্যাংক।
প্রসঙ্গত, গত ২০১৭ সালে কানাডার আদালত এসব অভিযোগ মিথ্যা হিসেবে রায় প্রকাশ করলেও তার অনেক আগেই দুর্নীতির অভিযোগে পদ ছাড়তে হয় তৎকালীন যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেন ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মসিউর রহমানকে। আর দুর্নীতির মিথ্যা অভিযোগ মাথায় নিয়ে জেল খাটতে হয় তখনকার সেতু সচিব মোশাররফ হোসেনকেও।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এসব ঘটনার এক দশক না পেরোতেই চিত্র এখন ভিন্ন। সব গুজবকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে উদ্বোধনের অপেক্ষায় স্বপ্নের পদ্মা সেতু। এমন পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে বিশ্বব্যাংকের অন্যায়ের জন্য ক্ষমা চাওয়া উচিত।
মিথ্যাচারের কারণে যাদের সম্মানহানি হয়েছে তাদের বিশ্বব্যাংকের ক্ষতিপূরণ দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
