গাজীপুরের কালিয়াকৈরের মৌচাক ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দুটি ওয়ার্ডের কেন্দ্রে ঘোষিত ফল রাতে পাল্টে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। এই নির্বাচনে সদস্য পদে (মেম্বার) প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী দু’জনের দাবি, মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ফল পাল্টে তাদের প্রতিপক্ষ পরাজিত সদস্য প্রার্থীদের বিজয়ী ঘোষণা করেছেন সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী কর্মকর্তারা। এ ঘটনায় কেন্দ্রে ঘোষিত ফল অনুসারে বিজয়ী দুই সদস্য প্রার্থী তাদের সমর্থকদের নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা নির্বাচন অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন। এ ছাড়া সংবাদ সম্মেলন করেও কেন্দ্রে ঘোষিত ফল পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন তারা।
কেন্দ্রে ঘোষিত ফল অনুযায়ী বিজয়ী দুই সদস্য প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের ভাষ্য মতে, গত বুধবার মৌচাক ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয়। কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা ছাড়াই সারা দিন ভোটগ্রহণ ও গণনা শেষে বিকেলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে ফল ঘোষণা করা হয়। ওই সময় জনসম্মুখে প্রত্যেক প্রার্থীর পোলিং এজেন্টদের ঘোষিত ফলের শিট বুঝিয়ে দেন প্রিসাইডিং অফিসাররা। পরে বিজয়ী প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা স্ব-স্ব নির্বাচনী এলাকায় বিজয় উল্লাস করেন। ওই ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের তিনটি ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের ঘোষিত ফল অনুযায়ী ২৪২ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হন আপেল প্রতীকের প্রার্থী মোশারফ হোসেন। কিন্তু গভীর রাতে কেন্দ্রে ঘোষিত ফল পাল্টে তার প্রতিদ্বন্দ্বী মোরগ প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল বাতেনকে বিজয়ী ঘোষণা করেন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা। অন্যদিকে ২নং ওয়ার্ডে একমাত্র ভোটকেন্দ্রের ঘোষিত ফল অনুযায়ী ৫৮ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হন আপেল প্রতীকের প্রার্থী আমিনুল ইসলাম। কিন্তু ওই ওয়ার্ডের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তার গভীর রাতে কেন্দ্রে ঘোষিত ফল পাল্টে দেন। পরে আমিনুল ইসলামের প্রতিদ্বন্দ্বী মোরগ প্রতীকের প্রার্থী মোশারফ হোসেনকে বিজয়ী ঘোষণা করেন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা।
এর প্রতিবাদে পরদিন গতকাল সকালে কেন্দ্রে ঘোষিত ফলে বিজয়ী দুই সদস্য প্রার্থী তাদের সমর্থকদের নিয়ে উপজেলা নির্বাচন অফিস ঘেরাও করেন। এ সময় তারা বিভিন্ন সেøাগান দিয়ে বিক্ষোভ মিছিলও করেন। এরপর দুপুরে কালিয়াকৈর প্রেস ক্লাবের হলরুমে ওই দুই প্রার্থী সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে ৮নং ওয়ার্ডের আপেল প্রতীকের প্রার্থী মোশারফ হোসেন বলেন, ‘১০ লাখ টাকার বিনিময়ে আমার ফল পাল্টানো হয়েছে।’
অন্যদিকে ২নং ওয়ার্ডের আপেল প্রতীকের প্রার্থী আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘টাকার বিনিময়ে আমার ফলও পাল্টানো হয়েছে।’ এ সময় কেন্দ্রে ঘোষিত ফল পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে ওই দুই প্রার্থী বলেন, গত ৩০ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ৭টি ইউপি নির্বাচনেও টাকার বিনিময়ে ফল পাল্টানোর ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে একাধিক মামলাও চলছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ২নং ওয়ার্ডের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘কেন্দ্রে যে ফল ঘোষণা করেছিলাম, সেটা যোগ-বিয়োগে একটু ভুল হয়েছিল। পরে উপজেলায় এসে পুনরায় যোগ দেওয়ার পর ভুলটা ধরা পড়েছে। এরপর সঠিক ফল দেওয়া হয়।’
অন্যদিকে ৮নং ওয়ার্ডে ছিল তিনটি ভোটগ্রহণ কেন্দ্র। এরমধ্যে অভিযোগের বিষয়ে জানতে মাজুখান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার রফিকুল ইসলাম এবং রতনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার মনিরুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তারা রিসিভ করেননি। বাকি একটি মাজুখান উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার আবু সাঈদ মিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা তো ঠিকভাবেই গণনা করে ফল উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দিয়েছি। পরে ওখানে কী হয়েছে তা আমার জানা নেই।’
আর নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এ এম শামসুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ফল নিয়ে যদি কারও সমস্যা থাকে তাহলে ট্রাইব্যুনালে মামলা করতে পারেন। আর প্রিসাইডিং অফিসারের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কালিয়াকৈরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদ বলেন, ‘খোঁজ নিয়ে দেখেছি তারা (সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী কর্মকর্তারা) একটু ভুল করে ফেলেছিলেন। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
