ভারতীয় সেনাবাহিনীতে চাকরির নতুন প্রকল্প নিয়ে ক্ষোভ

আপডেট : ১৭ জুন ২০২২, ০২:১২ এএম

ভারতীয় সেনাবাহিনীতে নিয়োগ-সংক্রান্ত ‘অগ্নিপথ’ প্রকল্পের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। গত বুধবার এই ঘোষণা দেওয়া হয়। প্রকল্পের মাধ্যমে ১৭ থেকে ২১ বছর বয়সী যুবকদের চুক্তির ভিত্তিতে সেনাবাহিনীতে নিয়োগ করা হবে। চার বছর চাকরির পর তাদের একাংশ পাকাপাকিভাবে সেনাবাহিনীতে নিযুক্ত হবেন, আর বাকিদের অবসর নিতে হবে। কিন্তু ঘোষণার এক দিনের মধ্যেই বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসে অগ্নিপথ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

ঘোষণার বিরোধিতা করে আরা, নওয়াদা, সহর্সা, জেহানাবাদসহ বিহারের বিভিন্ন জেলায় তরুণরা রাস্তা আটকে ট্রেন ও বাস ভাঙচুর করেছেন। পুলিশকে লক্ষ করে পাথর ছোড়া হয়েছে। সাবেক সেনাকর্তা থেকে শুরু করে চাকরিপ্রার্থী যুবকÑ সবাই অগ্নিপথের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছেন। চাকরিপ্রার্থীদের বক্তব্য, চার বছর পর অগ্নিবীরদের যে সিংহভাগের চাকরি আর থাকবে না, তাদের ভবিষ্যৎ কী হবে? সেনাবাহিনীতে চার বছর কাজ করে অবসর নেওয়ার পর আর কে তাদের চাকরি দেবে?

ভারতের যেসব রাজ্য থেকে বিপুলসংখ্যক তরুণ সেনাবাহিনীর নিচের দিকের কর্মী হিসেবে যোগ দেন, সেগুলোর মধ্যে অন্যতম বিহার, উত্তরপ্রদেশ ও হরিয়ানা। এই তিন রাজ্যে প্রকল্পের বিরোধিতায় বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। বিক্ষোভের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি বিহারে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, মূলত সরকারের কোষাগারের ওপর চাপ কমানোর জন্যই এভাবে সেনা-জওয়ানদের নিয়োগ করা হচ্ছে। এই প্রকল্পে মোট ৪৫ হাজার যুবককে চাকরি দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। চার বছর চাকরির পর এই ৪৫ হাজার যুবকের ২৫ শতাংশ পাকাপাকিভাবে সেনাবাহিনীতে নিযুক্ত হবেন। বাকিরা ১১-১২ লাখ টাকার সার্ভিস ফান্ড প্যাকেজ পাবেন। তাদের তখনই অবসর নিতে হবে।

প্রাক্তন সেনাকর্তাদের একাংশ বলছেন, মাত্র চার বছরের চুক্তির ভিত্তিতে যারা চাকরি পাবেন, তারা সেনাবাহিনীতে কাজে নিজের ১০০ শতাংশ উজাড় করে দেবেন না। তারা যখন জানেনই যে চার বছর পর তাদের চাকরি আর থাকবে না।

এরই মধ্যে একাধিক পর্যবেক্ষক বলেছেন, ভবিষ্যতে সেনাবাহিনীতে স্থায়ীভাবে নিয়োগ না পাওয়া তরুণদের স্থান হবে হিন্দু জাতীয়তাবাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা অনুগামী অন্যান্য হিন্দুত্ববাদী সংগঠনে। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বরাবরই ক্যাডারদের ও সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষকে অস্ত্র, বিশেষ করে আগ্নেয়াস্ত্রের প্রশিক্ষণের ওপর জোর দিয়ে আসছে।

প্রকল্পের সমালোচকদের বক্তব্য, তৎকালীন নাৎসি জার্মানিতে ‘ব্রাউন শার্টস’ বলে যে সামাজিক আধাসামরিক বাহিনী তৈরি করা হয়েছিল, অগ্নিপথ প্রকল্পের মাধ্যমে বিজেপি সরকার সেটাই করতে চাইছে। এই প্রকল্প ভারতকে একটি সামরিক সমাজে পরিণত করবে, যা কাম্য নয়। ভারতীয় সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত অনেক কর্মকর্তাও অগ্নিপথ সম্পর্কে একই মন্তব্য করেছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত