সয়াবিন তেলে আরও ১ বছর ভ্যাট অব্যাহতি

আপডেট : ১৭ জুন ২০২২, ০২:১৩ এএম

দেশের বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে পরিশোধিত সয়াবিন ও পাম তেলের স্থানীয় উৎপাদন ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) অব্যাহতি সুবিধা আরও এক বছর বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন ও পাম তেলের মূল্য স্থিতিশীল না হওয়ায় অপরিশোধিত সয়াবিন ও পাম তেলের আমদানি পর্যায়ে ৫ শতাংশ ভ্যাট সুবিধাও আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত বহাল রাখার জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

ট্যারিফ কমিশনের এই প্রস্তাবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সম্মতি দিলে আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত পরিশোধিত, অপরিশোধিত সয়াবিন ও পাম তেল আমদানিকারক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা পাবেন।

এর আগে আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্য তেলের মূল্য ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বিবেচনায় চলতি বছরের ১৪ মার্চ স্থানীয় উৎপাদন ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে আরোপিত ৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার করে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ। পরে ১৬ মার্চ আরেকটি প্রজ্ঞাপন জারি করে অপরিশোধিত সয়াবিন ও পাম তেলের আমদানি পর্যায়ে ভ্যাট ১০ শতাংশ অব্যাহতি দিয়ে ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত এই সুবিধা দেওয়া হয়।          সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়ে বর্তমান সুবিধা আরও এক বছর অর্থাৎ ২০২৩ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বহাল রাখার অনুরোধ করেছেন বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের উপ-প্রধান মো. মাহমুদুল হাসান।

চিঠিতে তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত সয়াবিন, পরিশোধিত-অপরিশোধিত পাম তেলের মূল্য এখনো স্থিতিশীল অবস্থা পরিলক্ষিত হচ্ছে না। বিশ্ব খাদ্য সংস্থার পূর্বাভাসে স্বল্প মেয়াদে ভোগ্যপণ্যের মূল্য স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তাই দেশের বাজারে সয়াবিন ও পাম তেলের মূল্য ও সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে ভ্যাট অব্যাহতি-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন দুটির মেয়াদ ২০২৩ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করছে ট্যারিফ কমিশন।

এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদস্য জাকিয়া সুলতানা দেশ রূপান্তরকে বলেন, সয়াবিন ও পাম তেল আমদানিতে ১০ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) অব্যাহতি ও স্থানীয় উৎপাদনকারী-ব্যবসায়ীদের সমুদয় ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা আরও এক বছর বাড়ানোর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মালয়েশিয়ায় শ্রমিকের অভাবে পাম তেল উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, ইন্দোনেশিয়া অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে রপ্তানি বন্ধ করায় দেশে সয়াবিন ও পাম তেলে সংকট তৈরি হয়। ঈদুল ফিতরের পর ৬ মে ও গত ৯ জুন দুই দফায় বোতলজাত সয়াবিনের লিটারে দাম বাড়ে ৪৫ টাকা। তেলের দাম ভোক্তার নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভ্যাট অব্যাহতিসহ সরকার সরিষা, রাইস ব্র্যান ও ক্যানোলা তেল ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে। অবৈধ মজুদদারের দোকান ও গুদামে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সয়াবিন তেল জব্দ করা হয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশে বছরে প্রায় ২০ লাখ টন ভোজ্য তেলের চাহিদা রয়েছে। রমজান মাসের চাহিদা ২ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ টন। স্থানীয় উৎপাদন হয় ২ লাখ ৩ হাজার টন। আমদানি করা হয় ১৮ লাখ টন। অপরিশোধিত সয়াবিন তেল আমদানি করা হয় প্রায় ৫ লাখ টন। এ ছাড়া ২৪ লাখ টন সয়াবিন বীজ আমদানি করা হয়, সেখান থেকে ৪ লাখ টন অপরিশোধিত তেল হয়। অপরিশোধিত পাম তেল আমদানি করা প্রায় ১১ লাখ টন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত