বৃষ্টিতে হাবুডুবু বন্দরনগরী

আপডেট : ১৮ জুন ২০২২, ০৫:২৪ এএম

মাত্র ৪০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিতে ডুবে গেছে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। গতকাল শুক্রবার ভোররাত থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত থেমে থেমে বৃষ্টি হয়। এতে নগরীর অধিকাংশ নিম্নাঞ্চল তলিয়ে যায়। দুর্ভোগে পড়েন নগরবাসী। আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালের নিচতলায় পানি ওঠায় ভোগান্তির শিকার হন রোগী ও তাদের স্বজনরা।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানায়, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে কোনো সতর্কবার্তা না থাকলেও নদীবন্দরগুলোর জন্য ১ নম্বর সতর্কসংকেত জারি করেছে। বৃষ্টির কারণে ভূমিধসের আশঙ্কা করছে আবহাওয়া দপ্তর।

এদিকে গতকাল দুপুর ১২টার দিকে হওয়া বৃষ্টিপাতে গাজীপুর শহরেও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। তলিয়ে যায় বিভিন্ন এলাকার সড়ক। নালা উপচে নোংরা পানি ঢোকে বাসাবাড়ি ও দোকানপাটে। আর টানা বৃষ্টিতে হবিগঞ্জ শহরেও দেখা দেয় জলাবদ্ধতা। সেখানেও বাসাবাড়ি ও দোকানপাটে পানি প্রবেশ করে। ভোগান্তিতে পড়ে মানুষ।

চট্টগ্রাম : নগরীর ২ নম্বর গেট, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট মোড়, ফরিদার পাড়া, চকবাজার, বাদুরতলা, কাপাসগোলা, ষোলশহর, মোগলটুলি, আগ্রাবাদ, ট্রাঙ্ক রোড, বাকলিয়া ডিসি রোড, তালতলা, জিইসি মোড়, চান্দগাঁও, খতিবের হাট, সিঅ্যান্ডবি কলোনি, চাকতাই, খাতুনগঞ্জ, নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটি, আগ্রাবাদ, ঈদগাঁও, কাতালগঞ্জ, শুলকবহর, হালিশহর, বিবিরহাট এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। সড়কের পাশাপাশি অলিগলি, নিচু এলাকার বাসাবাড়ি ও দোকানে পানি ঢুকে চরম বেকায়দায় পড়ে মানুষ। মজিদ নুর নামে চকবাজার-কাপাসগোলা এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখেন অলিগলি পানিতে তলিয়ে গেছে। নিচতলার ঘরবাড়িতেও পানি ঢুকেছে। বর্ষাকাল এলে নগরবাসীর দুঃখের সীমা থাকে না। দুর্ভোগ নিরসনে কেউ কোনো উদ্যোগ নেয় না।

বাকলিয়া এলাকার বাসিন্দা প্রত্যয় বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজ চলছে। কিন্তু ঠিকই আমাদের এলাকায় পানি ওঠা কমে না। কী কাজ করে, বুঝি না। গত রাতে বৃষ্টি হলো। আজ সকাল থেকে এলাকার রাস্তাঘাট, অলিগলিতে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি।’

মুরাদপুর এলাকার দোকানি ছগির বলেন, সকাল থেকে রাস্তায় পানি উঠে গেছে। দুপুরে একটু কমলেও বিকেলে আবার বৃষ্টি হওয়ায় আগের অবস্থায় ফিরে গেছে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ ও পূর্বাভাস কর্মকর্তা শেখ হারুন অর রশীদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, চট্টগ্রামে গত বুধবার রাত থেকেই থেমে থেমে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। গতকাল ভোররাত থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ৪০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। মৌসুমি বায়ুর সক্রিয় প্রভাবে আরও দুয়েক দিন ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এ সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বয়ে যেতে পারে। এতে জলাবদ্ধতার পাশাপাশি ভূমিধসেরও আশঙ্কা রয়েছে।

চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে সিডিএর উদ্যোগে তিন বছরের বেশি সময় ধরে একটি মেগা প্রকল্প এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডও একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। কিন্তু এসব প্রকল্প এখনো নগরবাসীর কোনো কাজে আসেনি।

গাজীপুর : প্রবল বর্ষণে গাজীপুরে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গাজীপুর জেলা শহরসহ মহানগরীর বিভিন্ন সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। জলাবদ্ধতার কারণে ভোগান্তির শিকার হয় মানুষ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গাজীপুর জেলা শহরের প্রধান সড়ক রাজবাড়ী রোড, চান্দনা চৌরাস্তা, কোনাবাড়ি, কাশিমপুর, টঙ্গীর বিভিন্ন সড়ক, ভোগড়া বাসন সড়কের প্রায় এক কিলোমিটার অংশ পানিতে তলিয়ে যায়। মধ্য ভোগড়াসহ নগরের বিভিন্ন এলাকায় নালা উপচে নোংরা পানি বাসাবাড়িতে প্রবেশ করে। রাস্তার পাশের দোকানপাটে পানি ঢুকেছে। খেলার মাঠেও পানি জমে গেছে।

ভোগড়া এলাকার বাসিন্দা ইকবাল হোসেন জানান, প্রবল বর্ষণে বিকেলের দিকে সড়ক ডুবে পানি বাড়িতে প্রবেশ করেছে। ঘরের আসবাব পানিতে ভাসছে। ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে নামা যাচ্ছে না। পানি চলাচলের নালাগুলোতে বালু ও ময়লা জমায় ঠিকমতো পানি নামতে পারছে না।

বাসন সড়ক এলাকার বাসিন্দা রিয়াজ মাহমুুদ জানান, রাস্তার দুই পাশে নালা থাকলেও একটি সচল, অপরটি দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণাধীন। একটি  নালা দিয়ে পানি নামতে পারছে না। তাই সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। সেই সঙ্গে বাসন সড়কের এক কিলোমিটার খানাখন্দ ও ভাঙাচোরা হওয়ায় রিকশাসহ সাধারণ যানবাহন চলাচলে ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। এতে করে এলাকার সাধারণ মানুষ চরম বিপাকে পড়েছে।

হবিগঞ্জ : গতকাল ভোর ৪টা থেকে মুষলধারায় বৃষ্টি শুরু হয়। ফলে সকাল ১০টায় শহরের মাস্টার কোয়ার্টার, মুসলিম কোয়ার্টার, নিউ মুসলিম কোয়ার্টার, রাজনগর, ইনাতাবাদ, পুরান মুন্সেফি, পরানবাজার বাসস্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট ডুবে যায়। এসব এলাকার বেশ কিছু বাসাবাড়ি ও দোকানপাটে পানি প্রবেশ করায় বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েন।

জেলা প্রশাসকের বাসভবন, সার্কিট হাউজ, পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ কয়েকটি সরকারি স্থাপনায় পানিতে থইথই করছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পুরনো খোয়াই নদীর অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ ও খনন না করার কারণে পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না। যদিও পৌরসভা গত অর্থবছর বিপুল অর্থ ব্যয়ে শহরের প্রধান সড়কের পাশে উঁচু নালা তৈরি করেছে। কিন্তু পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ থাকায় এর কোনো সুফল পাওয়া যাচ্ছে না।

জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান বলেন, হবিগঞ্জ জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। প্রশাসন ও পৌরসভার উদ্যোগে জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত