নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা

কর্ণফুলীতে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা খুন

আপডেট : ১৮ জুন ২০২২, ০৫:২৮ এএম

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় ছুরিকাঘাতে রমজান আলী (৩৭) নামে স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক নেতা খুন হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের ইছানগর ভাসুর গোষ্ঠী বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রমজান আলী মধ্যম ইছানগর ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বাদশা মিয়ার ছেলে। তিনি কর্ণফুলী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের পাঠাগার সম্পাদক। দুই ছেলে ও এক মেয়ের জনক রমজান আলী এস আলম পাওয়ার প্ল্যান্টে ইলেকট্রিশিয়ান পদে কর্মরত ছিলেন।

জানা গেছে, গত বুধবার অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে সাধারণ সদস্য (মেম্বার) পদে ৯ ভোটের ব্যবধানে মো. ইসহাককে পরাজিত করে সাইদুল হক নির্বাচিত হন। নিহত রমজান আলী পরাজিত প্রার্থী মো. ইসহাকের সমর্থক ছিলেন। নির্বাচনের দিন নিহত রমজানের সঙ্গে সাইদুল হক সমর্থকদের কথা কাটাকাটি হয়। এর জেরে বৃহস্পতিবার রাতে রমজানকে ধাওয়া করে ছুরিকাঘাত করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় দোকানদার নুর মোহাম্মদ জানান, বিজয়ী সদস্য প্রার্থী সাইদুল হকের সমর্থক শহীদুল, কালাম, আরিফ, মানিক, খোরশেদ ও পারভেজ তিন দিক থেকে রমজানকে ধাওয়া করে ধরে ফেলে। এরপর শহীদুল রমজানকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের চাচাতো ভাই সেলিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা কয়েকজন মিলে আড্ডা দিচ্ছিলাম। পরে রমজান উঠে বাজারের দিকে যাওয়ার সময় ৪-৫ জন এসে তাকে ছুরি মেরে    চলে যায়। ওই সময় তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’

নিহতের পরিবারের সদস্যদের দাবি, নির্বাচনে মো. ইসহাকের পক্ষে কাজ করায় মেম্বার সাইদুলের লোকজন রমজানকে খুন করেছে। তারা এই হত্যার বিচার চান।

কর্ণফুলী থানার ওসি দুলাল মাহমুদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ইছানগরে রমজান আলী নামে একজনকে ছুরিকাঘাত করে আহত করে প্রতিপক্ষের লোকজন। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। ইউপি নির্বাচনের জেরে এই হত্যাকাণ্ড বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আটকের চেষ্টা চলছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত