উজান থেকে নেমে আসা পানি ও বৃষ্টির কারণে ভয়াবহ বন্যায় ভাসছে সিলেট। পুরো সুনামগঞ্জ শহর বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। সিলেট-সুনামগঞ্জের পর হাওরের আরেক জেলা নেত্রকোনাও ডুবছে। এই পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান। গতকাল শনিবার সচিবালয়ের নিজ দপ্তরে দেশের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।
মন্ত্রী জানান, পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের প্রস্তুতি রয়েছে।
সিলেট অঞ্চলে বন্যা উপদ্রুত মানুষকে রক্ষায় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড উদ্ধার কার্যক্রম চালাচ্ছে। আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার মতো সুযোগও নেই অনেকের। ফলে পানিবন্দি অবস্থায় খেয়ে-না খেয়েই দিন পার করছেন লাখো মানুষ। অনেকে ছোট নৌকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যাচ্ছেন। বন্যার কারণে সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের পাশাপাশি মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ রয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী জানান, সিলেট ও সুনামগঞ্জে আগামী দুই দিনে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে। মঙ্গলবার ও বুধবার থেকে হয়তো সিলেট ও সুনামগঞ্জে পানি কমতে শুরু করবে। তবে ওই সময়ে দেশের মধ্যাঞ্চলে বন্যা দেখা দেবে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আরও জানান, উজান থেকে নেমে আসা পানি ও বন্যায় দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় ১০ জেলার ৬৪ উপজেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১২২ বছরের রেকর্ড ভেঙেছে এবারের বন্যা ও পাহাড়ি ঢল। এবারের বন্যায় সিলেটের ৬০ শতাংশ প্লাবিত হয়েছে। আর সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সুনামগঞ্জ। সুনামগঞ্জের ৯০ শতাংশ এলাকা পানিতে ডুবে গেছে। গত দু’দিনে চার পুট করে আট ফুট পানি বেড়েছে ওই এলাকায়, যা চিন্তাতীত। মন্ত্রী জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনী, কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী একসঙ্গে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করছে। শনিবার রাতের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্তদের আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে আনা সম্ভব হবে। এরই মধ্যে সিলেট ও সুনামগঞ্জে ৮০ লাখ করে নগদ অর্থ দেওয়া হয়েছে। যা দিয়ে শুকনা খাবার কিনে বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া দুই এলাকায় দেড় হাজার টন চাল পাঠানো হয়েছে। হাতে পাঁচ কোটি টাকা রয়েছে। আরও ২০ কোটি টাকা জিআর থেকে চাওয়া হয়েছে।
দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ভারতের বেশ কয়েকটি অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা হচ্ছে। যে কারণে আমাদের দেশে আগামী দুই দিনে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটবে। তারপরের দু’দিন পানি নামতে শুরু করবে। তিনি বলেন, ‘বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটলেও সবধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। উদ্ধারকাজ চলছে। পর্যাপ্ত অর্থ ও খাদ্য রয়েছে। আশা করি একটা টেকসই অবস্থানে থাকতে পারব।’
ভয়াবহ বন্যার শিকার লোকজন আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়েও জায়গা পাচ্ছেন না। শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে রয়েছেন সিলেটের বানভাসি মানুষ। এছাড়া জেলার কৃষকরা তাদের গৃহপালিত পশু নিয়ে পড়েছেন বিপাকে। এমন পরিস্থিতিতে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠকরা মানবিক সংকট মোকাবিলায় সবাইকে সাধ্য অনুযায়ী এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
