দুই যমজ সন্তানকে বুকে আগলে জীবন দিলেন মা

আপডেট : ১৯ জুন ২০২২, ০২:৩৯ এএম

মধ্যরাতে যখন ভারী বর্ষণ চলছিল তখন ৬ মাস বয়সী দুই যমজ তাসকিয়া ইসলাম তানহা ও তাকিয়া ইয়াসমিন তিন্নিকে বুকে জড়িয়ে ঘুমাচ্ছিলেন মা শাহীনুর আক্তার (২৬)। হঠাৎ পাহাড় ধসে ঘরের ওপর এসে পড়ে মাটির স্তূপ। এতে প্রাণ হারান শাহীনুর ও তার বোন মাইনুর আক্তার (২৪)। প্রাণে বেঁচে যায় মায়ের বুকে আগলে থাকা যমজ দুই বোন। তাদের কোনো ক্ষতি হয়নি। তারা জানে না যে তাদের জন্মদাত্রী মা আর নেই; তাদের রেখেই না ফেরার দেশে চলে গেছেন।

চট্টগ্রাম নগরীর আকবর শাহ এক নম্বর ঝিলের বরিশাল ঘোনায় পাহাড়ের পাদদেশে ফিরোজশাহ কলোনির ছোট্ট একটি সেমিপাকা ঘরে থাকতেন শাহীনুর আক্তার ও তার পরিবার। পাশেই ঘুমাচ্ছিলেন শাহীনুরের বাবা-মা ফজল হক (৭০) ও মোশারা বেগম (৬৫) এবং শাহীনুরের বোন মাইনুর আক্তার।

টানা বৃষ্টিপাতের কারণে গত শুক্রবার রাতে নগরীর আকবর শাহ থানা এলাকায় পৃথক দুটি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। এতে শাহীনুর আক্তার ও তার বোন মাইনুর আক্তারসহ চারজন নিহত হন। আহত হন ৭ জন।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, যমজ দুই সন্তানকে মায়ের বুকে অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। পাহাড় ধসের সময় মা তাদের বুকে আগলে ধরে রেখেছিলেন। 

মা শাহীনুরের মৃত্যুর পর দুই যমজ কন্যা তানহা ও তিন্নির এখন জায়গা হয়েছে পাশর্^বর্তী নার্গিসের বাসায়। তাদের এখন মাও নেই, খালাও নেই। নানা-নানি থাকলেও তারা এখন হাসপাতালে ভর্তি।

গতকাল শনিবার দুপুরের দিকে নার্গিসের বাসায় গিয়ে দেখা যায়, তারা আপনমনে খেলছিল। নার্গিস ও নার্গিসের মায়ের কোলে তারা বসে আছে। তবে তাদের চোখে যেন মা না থাকার শূন্যতা।

জানতে চাইলে নার্গিস দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তানহা ও তিন্নির বাবা জয়নাল আবেদীন আমাদের দূরসম্পর্কের আত্মীয়। জয়নাল রাতে চার বছর বয়সী ছেলে তানিমকে নিয়ে আমার বাসায় চলে আসছিল। রাতে আমাদের বাসায় ঘুমিয়ে পড়েছিল। প্রায় সময় বৃষ্টি হলে ওরা আমাদের বাসায় এসে রাতে থাকত।’

শাহীনুরের স্বামী জয়নাল আবেদীন বলেন, নার্গিসের বাসায় আসার সময় শাহীনুরকেও আসতে বলেছিলেন। যারা শাহীনুরকে উদ্ধার করেছে, তারা বলেছে শাহীনুরের বুকে নাকি তাদের যমজ দুই মেয়ে ছিল। মা নিজে মরে মেয়ে দুটোকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। অনুতপ্ত জয়নাল বলছিলেন, ‘আমি এখন মা হারা তিন সন্তানকে কীভাবে আগলাব?

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত