শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলা

২২ বছর পর মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার

আপডেট : ২০ জুন ২০২২, ০১:৫২ এএম

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় বোমা পুঁতে রেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় মৃত্যুদ-প্রাপ্ত আসামিকে ২২ বছর পর গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। তার নাম শেখ মো. এনামুল হক ওরফে শেখ মো. এনামুল করিম (৫৩)। গত শনিবার রাতে রাজধানীর উত্তরা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

র‌্যাব জানায়, এনামুল গাজীপুরের একটি মসজিদে আট বছর ইমামতি করেন। এরপর একটি হোমিও কলেজে শিক্ষকতা করতেন। পরে চলে আসেন রাজধানীতে। ভুয়া চিকিৎসক সেজে থাকতেন উত্তরা ও বনশ্রী এলাকায়।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী হত্যাচেষ্টা ও রমনা বটমূলে বোমা হামলা মামলার মৃত্যুদ-প্রাপ্ত আসামি জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের (হুজি-বি) প্রতিষ্ঠাতা আমির মুফতি আব্দুল হাইকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

উল্লেখ্য, ২০০০ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর কোটালীপাড়ার জনসভার অদূরে জঙ্গি শেখ মো. এনামুল করিমসহ অন্য জঙ্গিরা প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার উদ্দেশ্যে ৭৬ কেজি ওজনের বোমা পুঁতে রাখেন। এ ঘটনায় কোটালীপাড়া থানায় হত্যাচেষ্টা, হত্যার ষড়যন্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৩টি মামলা হয়। গত বছর ২৩ মার্চ এনামুল হকসহ ১৪ জনকে মৃত্যুদ-ের আদেশ দিয়ে রায় ঘোষণা করে আদালত।

গতকাল রবিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে গ্রেপ্তারকৃত এনামুল সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার এনামুল জানায়, ব্যবসায়িক সূত্র ধরে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী ও তৎকালীন নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হুজির আমির মুফতি আব্দুল হান্নানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। তিনি ২০০০ সালে গোপালগঞ্জ শহরে বিসিক শিল্প নগরীতে মুফতি হান্নানের ছোট ভাই আনিসের সঙ্গে যৌথভাবে প্লট বরাদ্দ নিয়ে ‘সোনার বাংলা কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ’ নামে টুথপেস্ট, টুথপাউডার, মোমবাতি ও সাবান তৈরির একটি কারখানা খোলেন। মুফতি হান্নানসহ জঙ্গি নেতারা ২০০০ সালের জুলাই মাসে বেশ কয়েকবার তার কারখানায় যান। মুফতি হান্নানসহ অন্যান্য জঙ্গি নেতার সঙ্গে গোপন বৈঠক এবং সমাবেশে অংশ নিতেন এনামুল। কোটালীপাড়ায় প্রধানমন্ত্রীর সভাস্থলে বোমা হামলার পরিকল্পনায়ও ছিলেন তিনি।

পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এনামুল ও মুফতি হান্নানের ভাই আনিসের কারখানায় সাবান তৈরির উপকরণ সংগ্রহের আড়ালে বিস্ফোরক দ্রব্য, বোমা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম আনা হয়। সেখানে লোহার ড্রামের ভেতর ৭৬ ও ৪০ কেজি ওজনের দুটি শক্তিশালী বোমা তৈরি করা হয়। দুটি বোমা জনসভাস্থলের অদূরে পুঁতে রাখা হয়। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় ষড়যন্ত্র ফাঁস হয়ে যায়। সেনাবাহিনী বোমা দুটো নিষ্ক্রিয় করে।

খন্দকার আল মঈন বলেন, ঘটনার পর এনামুল রাজধানীর মোহাম্মদপুরে আত্মগোপনে চলে যান। এরপর ক্বারী সেজে গাজীপুরের একটি মসজিদে আট বছরের বেশি সময় ইমামতি করেন। গাজীপুরে থাকতেই তিনি ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে একটি জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করেন। সেখানে একটি হোমিওপ্যাথি কলেজে দুই বছর প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি নিজেকে গাজীপুর হোমিও কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ বলে দাবি করতেন। ২০১০ সালে এনামুল ঢাকার উত্তরা ও বনশ্রীতে বাসা ভাড়া করে আত্মগোপনে ছিলেন। উত্তরায় ২০১৫ সালে ‘আই কে হোমিও কলেজ, উত্তরা’ নামে একটি ভুয়া প্রতিষ্ঠান খোলেন তিনি। ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে ক্যানসার নিরাময় কেন্দ্র নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠান খুলে ক্যানসারের ভুয়া হারবাল চিকিৎসা শুরু করেন। এ ছাড়া তিনি নিজেকে হেপাটাইটিস ভাইরাস, প্যারালাইসিস, ডায়াবেটিস, মেদ, বন্ধ্যত্ব, টিউমার, হার্ট, কিডনি, যৌন, মানসিক রোগসহ বহুবিধ রোগের সফল চিকিৎসক হিসেবে দাবি করতেন।

মৃত্যুদন্ডের আসামি এনামুল কীভাবে পেশায় যুক্ত হলেন এবং এনআইডি পরিবর্তন করে ২২ বছর আত্মগোপনে থাকলেন জানতে চাইলে র‌্যাব কর্মকর্তা মঈন বলেন, বিভিন্ন সময় তিনি বিভিন্ন স্থানে থেকেছেন। গাজীপুরে থাকতেই ২০১০ সালে তিনি নামের কিছু অংশ পরিবর্তন করে সেখানকার ঠিকানা ব্যবহার করে এবং নামে পরিবর্তন এনে এনআইডি করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত