যুক্তরাজ্যে অসময়ে রংধনু রঙের বর্ণিল এক পাখির দেখা মিলছে। পাখিগুলো দেখতে অনেকটা আমাদের দেশের নীলপুচ্ছ বাঁশপাতি পাখির মতো। এই পাখির পছন্দের খাবার মৌমাছি। তাই ইংরেজিতে একে বি-ইটার বলা হয়। তবে সচরাচর যুক্তরাজ্যে এই পতঙ্গপ্রেমী পাখির দেখা মেলে না। কারণ পাখিগুলো সাধারণত দক্ষিণ ইউরোপ এবং উত্তর আফ্রিকায় দেখা যায়, সেসব জায়গাতেই এদের আবাস।
সম্প্রতি এসব পাখিকে বাসা বানাতে দেখা গেছে যুক্তরাজ্যের নরফোকের ট্রিমিংহাম এলাকায়। সুন্দর এই পাখিগুলোকে হঠাৎ এদিকে বাসা বানাতে দেখে পাখি বিশেষজ্ঞরা আনন্দের চেয়ে আতঙ্কিত হচ্ছেন বেশি। যুক্তরাজ্যের রয়্যাল সোসাইটি ফর দ্য প্রটেকশন অব বার্ডস (আরএসবিপি) বলছে পতঙ্গভুক রংধনু পাখির এই জায়গা পরিবর্তন জলবায়ু পরিবর্তনের সুস্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে।
আরএসবিপি’র বিশেষজ্ঞ মার্ক থমাস বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কা খেয়ে এদিকে চলে আসতে বাধ্য হওয়া পাখিগুলোকে হয়তো গ্রীষ্ম মৌসুমের স্থায়ী পাখি হিসেবে দেখা যাবে। এর ফলে এটা স্পষ্ট যে গত দুই দশকে জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কাটা আমাদের উপকূলে এসে ঠেকেছে।’
এর আগে ২০১৭ সালে নটিংহামশায়ারের হাজারো মানুষ এই প্রজাতির পাখি দেখেছিল। এবার হয়তো একই ব্যাপার ঘটতে যাচ্ছে নরফোকেও।
এদিকে ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনে পাখিদের বাসা তৈরি ও ডিম পাড়ার সময়েও পরিবর্তন এসেছে। অনেক পাখিই এখন স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে এক মাস আগেই ডিম দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরা কয়েকটি অঞ্চলে পাখির বাসা তৈরির স্বভাব এবং ডিমের নমুনা থেকে জানতে পেরেছেন যে পাখিরা এখন আগের সময়ের চেয়ে অন্তত ২৫ দিন আগেই ডিম দিচ্ছে। পাখিদের এমন প্রবৃত্তি গত ১০০ বছরে দেখা যায়নি।
পাখিদের সহজাত আচরণ বদলে যাওয়ার পেছনে কার্বন ডাই অক্সাইডের সংশ্লিষ্টতা পেয়েছেন গবেষকরা। তাদের মতে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইডের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ছে। সাধারণত পাখিরা বসন্তে বাসা বাঁধে, ডিম দেয় কারণ তখন প্রকৃতিতে তাদের জন্য যথেষ্ট খাবার থাকে, কীটপতঙ্গ থাকে। গাছে ফল আসাও নির্ভর করে জলবায়ুর ওপর। সব মিলিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনে প্রাকৃতিক এসব উপাদান যেহেতু আর আগের নিয়মে চলছে না তাই বাধ্য হয়ে পাখিদেরও জীবনাচরণ পরিবর্তন করতে হচ্ছে। এক্ষেত্রে পাখিরা যেন জলবায়ু পরিবর্তনের বার্তা বয়ে বেড়াচ্ছে!
