পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলছেন, পাকিস্তান প্রতিবেশী দেশ শ্রীলঙ্কার পথে হাঁটছে। পাকিস্তানে মুদ্রাস্ফীতি আরও বাড়বে এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতির বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে দেশটি পরবর্তী শ্রীলঙ্কা হতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন। দেশটির জনগণকে মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে রাস্তায় নামার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন তেহরিক-ই-ইনসাফ পার্টির এই নেতা। ইমরান খান এমন এক সময় এই আহ্বান জানালেন যখন যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের বিপরীতে পাকিস্তানের রুপির অবনমন অব্যাহত রয়েছে। ডলারের বিপরীতে প্রায় প্রতিদিনই মান হারাচ্ছে দেশটির মুদ্রা। আর এতেই নামতে নামতে কার্যত তলানিতে ঠেকেছে পাকিস্তানি রুপির দর। অন্যদিকে রুপির বিপরীতে ডলার তার ঊর্ধ্বমুখী অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখেছে।
দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটিতে বর্তমানে আন্তঃব্যাংক বাজারে এক ডলার কিনতে গুনতে হচ্ছে ২১০ রুপিরও বেশি। অবশ্য খোলাবাজারে এই হার আরও বেশি। ইতিহাসে এর আগে কখনো পাকিস্তানের মুদ্রার মান এত নিচে নামেনি। গত সোমবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডন। প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, পাকিস্তানি রুপির বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের ডলার সোমবারও ঊর্ধ্বমুখী অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখেছে। এদিন সকালে পাকিস্তানের আন্তঃব্যাংক বাজারে প্রতি ডলার বিক্রি হয়েছে ২১০ রুপিরও বেশি দরে। তবে খেলা বাজারে ডলার বিক্রি হচ্ছে আরও বেশি দামে।
ফরেক্স অ্যাসোসিয়েশন অব পাকিস্তানের (এফএপি) তথ্য অনুসারে, গত শুক্রবার এক ডলারের বিপরীতে পাকিস্তানি মুদ্রার দাম ছিল ২০৭.৭৫ রুপি। তবে এরপর রুপির মান দ্রুত কমতে থাকে এবং সোমবার সকালে আগের তুলনায় ২.৫৫ রুপি মূল্য হারিয়ে ডলারপ্রতি পাকিস্তানি মুদ্রার দর নেমেছে ২১০.৩০ রুপিতে। তবে সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় পাকিস্তানের খোলা বাজারে ডলার বিক্রি হচ্ছিল ২১২ রুপিতে। মেটিস গ্লোবালের পরিচালক সাঈদ বিন নাসির ডন ডটকমকে বলেন, সপ্তাহের প্রথম দিনেই ডলারের বিপরীতে পাকিস্তানি রুপি চাপে রয়েছে। কারণ পাকিস্তানের ব্যাংকগুলো ডলার সংকটে রয়েছে বলে গত সপ্তাহের শেষে খবর ছড়িয়ে পড়েছিল। তিনি বলছেন, ‘ব্যাংকগুলোতে ডলারের ঘাটতি রয়েছে এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও কমে যাচ্ছে। এতে করে ডলারের বিপরীতে রুপির মানে নেতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে।’
সাঈদ বিন নাসির আরও বলছেন, ‘আইএমএফের কাছ থেকে ঋণ কর্মসূচির পুনরুজ্জীবন বা চীন থেকে অর্থ প্রবাহের আপডেট সংক্রান্ত ঘোষণা দেওয়া হলে সেটি মুদ্রাবাজারকে স্থিতিশীল করতে সাহায্য করতে পারে।’ মেটিস গ্লোবালের তথ্য অনুযায়ী বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে আমদানি খরচ কমানোর মাধ্যমে সরকারকে অবিলম্বে রুপির অবমূল্যায়নের বিষয়ে মনোযোগ দিতে হবে। আর তা না হলে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে চুক্তির অনুপস্থিতিতে পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমতে থাকবে বলেও সতর্ক করে দিয়েছেন তারা।
এদিকে এক্সচেঞ্জ কোম্পানিজ অ্যাসোসিয়েশন অব পাকিস্তানের সাধারণ সম্পাদক জাফর পরচা বলছেন, পাকিস্তানের মুদ্রাবাজার মারাত্মক দুরবস্থার মধ্যে থাকলেও কর্র্তৃপক্ষকে এ সম্পর্কে উদাসীন বলে মনে হচ্ছে। তার অভিযোগ, ‘মনে হচ্ছে যেন আইএমএফের আরেকটি শর্ত হলো রুপির অবমূল্যায়ন করতে হবে। কারণ কেউ এটিকে পাত্তা দেয় না এবং সর্বত্রই এ বিষয়ে নীরবতা রয়েছে।’ তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে পাকিস্তান শ্রীলঙ্কার মতো পরিস্থিতির দিকে যেতে পারে। এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া সরকারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নয়তো দেশ খেলাপি হয়ে যাবে।’
