শুরুটা ভালোই হয়েছিল রহমতগঞ্জের। প্রবল প্রতিপক্ষ বসুন্ধরা কিংসকে রুখতে পুরান ঢাকার দলটির রক্ষণ ভালোই লড়ছিল। তবে ৩৩ মিনিটে তাদের গোলকিপার জিয়াউর রহমানের এক ভুলেই সর্বনাশ। অহেতুক লালকার্ড দেখে মাঠ ছাড়লেন জিয়া। আর তাতেই শেষ তাদের শুরুর সব প্রতিরোধ। কিংসের দুই ব্রাজিলিয়ান মিগেল ফেরেইরা ও রবসন রবিনহো সুযোগ কাজে লাগিয়ে করেন অসাধারণ দুই গোল। প্রথমার্ধের সেই লিড ধরে রেখে মুন্সীগঞ্জের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মতিউর রহমান স্টেডিয়াম থেকে শীর্ষে থাকা কিংস ফিরেছে ৩ পয়েন্টের স্বস্তি নিয়ে। আর রহমতগঞ্জকে থাকতে হচ্ছে অবনমন ঝুঁকিতেই।
দীর্ঘ বিরতির পর শুরু হওয়া লিগে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে বাকিটা পথ আর পা হড়কালে চলবে না কিংসের। ১৬ ম্যাচে ৪১ পয়েন্ট নিয়ে তারা আছে ভালো অবস্থানে। তবে শেষ ছয় ম্যাচে তাদের সামনে ছয় বড় চ্যালেঞ্জ। সে চিন্তা থেকেই কিংস কোচ অস্কার ব্রুজন দুর্বল রহমতগঞ্জকে কোনো ছাড় দিতে চাননি। শুরু থেকেই খেলিয়েছেন আক্রমণাত্মক মেজাজে। যথারীতি আক্রমণের মূল ভূমিকায় রবিনহো। স্বদেশি মিগেলের সঙ্গে রসায়নটাও জমেছিল দারুণ। সামনে নুহা মারং সেভাবে আলো ছড়াতে না পারলেও দৌড়ঝাঁপ করে চেয়েছেন রহমতগঞ্জ রক্ষণকে ব্যস্ত রাখতে। তারপরও সৈয়দ গোলাম জিলানীর শিষ্যদের জমাট রক্ষণে সেভাবে চিড় ধরানো যাচ্ছিল না। ম্যাচের ১১ মিনিটে ভালো সুযোগ বাজেভাবে নষ্ট করেন বিপলু আহমেদ। তিন মিনিট পর রিমন হোসেনের কাটব্যাকে শট নেওয়ার আগেই এনামুলের ট্যাকলে পড়ে যান মিগেল। কিংসের পেনাল্টির দাবিতে কর্ণপাত করেননি রেফারি আলমগীর সরকার। তবে ৩৩ মিনিটে নিরাশ করেননি রেফারি। অভিজ্ঞ জিয়ার শিশুসুলভ ভুলটা চোখ এড়ায়নি তার। বক্সের ডান দিক দিয়ে বল ধরতে দৌড়াচ্ছিলেন নুহা মারং। জিয়া অহেতুক পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে এসে এই স্প্যানিশের চিপ হাত দিয়ে ঠেকিয়ে লালকার্ড দেখেন। সেই ঘটনায় পাওয়া ফ্রি-কিক থেকে বাঁ পায়ের অসাধারণ শটে গোল করেন মিগেল। ওয়ালি ফয়সালের জায়গায় নামা দ্বিতীয় কিপার তুষার সেটার নাগাল পেয়েও রুখতে পারেননি। তুষারের দুর্ভোগটা আরও বাড়িয়ে দেন রবিনহো। রিমনের লো-ক্রস বক্সের ভেতর মিগেল ডামি করে ছাড়েন রবিনহোকে। বডি ডজে দুই ডিফেন্ডারকে ছিটকে লিগে নিজের ১২তম গোলের দেখা পান এই প্লে-মেকার। রহমতগঞ্জ ব্যবধান কমাতে পারত ৪৩ মিনিটে। মাহমুদুল হাসান কিরণের ফ্রি-কিকে নাইজেরিয়ান সানডে চিজোবার জোরালো হেড রুখে দিয়ে কোনো ক্ষতি হতে দেননি কিংসের কিপার আনিসুর রহমান জিকো। বিরতি থেকে ফিরে কিংস বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রাখলেও গোলের জন্য মরিয়া ছিল না। বরং দশজনের রহমতগঞ্জ চেষ্টা করেছে ম্যাচে ফেরার। ৬৩ মিনিটে কিরণের ফ্রি-কিকে আইভরিয়ান ডিফেন্ডার ল্যান্সিং তোরে অনেকটা লাফিয়ে উঠে হেড করেছিলেন। তবে তা সরাসরি জমা পড়ে জিকোর গ্লাভসে। ৭৭ মিনিটে ফের ঝলক দেখিয়েছিলেন মিগেল। বক্সের বেশ খানিকটা বাইরে থেকে তার বাঁ-পায়ের ফ্রি-কিক পরাস্ত করেছিল রহমতগঞ্জ কিপার তুষারকে। তবে পোস্ট বাধা হয়ে দাঁড়ালে ৩-০ হয়নি।
এই জয়ে আবাহনীর সঙ্গে ব্যবধান ৯ পয়েন্ট বাড়িয়ে নিয়েছে কিংস। তবে চারদিন পর তাদের দিতে হবে বড় পরীক্ষা। সেদিন তাদের প্রতিপক্ষ নয়া কোচ জুলফিকার মাহমুদ মিন্টুর অধীনে বদলে যাওয়া শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র। রহমতগঞ্জের জন্য কালকের ম্যাচটা হাফ ছেড়ে বাঁচার মতোই। ১০ পয়েন্ট নিয়ে দশে থাকা দলটি পরের ছয় ম্যাচ খেলবে সমশক্তির দলগুলোর সঙ্গে। অবনমন থেকে বাঁচতে ২৮ জুন উত্তর বারিধারার বিপক্ষে নতুনভাবেই শুরু করতে হবে দলটিকে।
