আওয়ামী লীগে শেখ হাসিনা ছাড়া কেউ নেই : ফখরুল

আপডেট : ২৩ জুন ২০২২, ০২:১৫ এএম

বিএনপিতে নেতৃত্ব সংকট নেই, আওয়ামী লীগে আছে উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘বিএনপির ক্ষমতায় গেলে প্রধানমন্ত্রী হবেন দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। আওয়ামী লীগে শেখ হাসিনা ছাড়া কেউ নেই। শেখ হাসিনা চলে গেলে কী যুদ্ধ হবে তা কেবল আওয়ামী লীগই বলতে পারবে।’

গতকাল বুধবার রাজধানীর গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

‘বিএনপি ক্ষমতায় এলে কাকে সরকার প্রধান করবে’ গতকাল বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় গেলে প্রধানমন্ত্রী হবেন দলের  চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। যিনি সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তার অবর্তমানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকলে দেশে আর কোনো নির্বাচন হবে না। তাকে সরে যেতে হবে। পরে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে। তখনই না কেবল প্রশ্ন আসবে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কে প্রধানমন্ত্রী হবেন।’

সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বন্যায় সরকারি ত্রাণ নেই বললেই চলে। পদ্মা  সেতুর উৎসবে বেশি মনোযোগ দেওয়ায় বন্যা মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়েছে সরকার। ব্যর্থতার দায়ে আমরা সরকারের পদত্যাগ দাবি করছি। বন্যার আগে সতর্কবাণী দিতে ব্যর্থ হয়েছে কর্তৃপক্ষ। বন্যার জন্য দায়ী সরকারের অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ।’

পদ্মা সেতুর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতারা যাবেন না : আগামী ২৫ জুন অনুষ্ঠিতব্য পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে সরকার। আমন্ত্রণপত্র পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে গুলশানে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, যারা মানুষ হত্যা করে, বিশিষ্টদের চুবিয়ে মারতে চান তাদের আমন্ত্রণে বিএনপি নেতাকর্মীরা যাবেন না।

গতকাল সকাল ১১টায় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সেতু বিভাগের উপসচিব দুলাল চন্দ্র সূত্রধর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর কাছে আমন্ত্রণপত্রসমূহ পৌঁছে দেন। আমন্ত্রণপত্রে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান ও ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। এ সময় উপসচিব উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি সেতু বিভাগের পক্ষ থেকে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের কার্ডগুলো দিতে এসেছি।’ কার্ড ৭টি হস্তান্তরের সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আবুল খায়ের ভুঁইয়া, খায়রুল কবির খোকন, আবদুস সালাম আজাদ, আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী প্রমুখ।

‘পদ্মা সেতুর কাজ বিএনপি বন্ধ করে দিয়েছিল’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন অভিযোগের জবাবে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আজও প্রধানমন্ত্রী তার স্বভাবসুলভ বক্তব্য রেখেছেন। তিনি মিথ্যাচার করেছেন। আমাদের কাছে প্রমাণ আছে, বিএনপি-জোট সরকার তখন জাপানের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রাথমিক সমীক্ষা করে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) বৈঠক ছাড়াই ঢাকা-দিল্লি যৌথ পরামর্শক কমিশনের (জেসিসি) বৈঠকে ভারত ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আলোচনা অর্থহীন। জেআরসি বৈঠক ও বৈঠকের সুপারিশ ছাড়া বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বিরাজমান দ্বিপক্ষীয় প্রধান সমস্যাই হচ্ছে দুদেশের অভিন্ন নদীর পানি বণ্টনের সমস্যা। বন্যা ও খরা এই দুই সমস্যাই ভাটার দেশ বাংলাদেশের প্রধান সমস্যা। সরকারের উদাসীনতা, নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণেই এখন পর্যন্ত এই সমস্যার কোনো সমাধান হয়নি। সভা মনে করে ব্যর্থতা স্বীকার করে সরকারের পদত্যাগ করা উচিত।’

গত সোমবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল সভার সিদ্ধান্ত জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত