রেকর্ড ৮৪১ কোটি ডলারের ঋণ পেল বাংলাদেশ

আপডেট : ২৪ জুন ২০২২, ১২:৫৬ এএম

শ্রীলঙ্কার বিদেশি ঋণ নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই চলতি অর্থবছরে রেকর্ড পরিমাণ ঋণ সহায়তা পেয়েছে বাংলাদেশ। উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও অস্বাভাবিক আমদানি ব্যয়ের জোগানে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ নিয়ে যখন শঙ্কা তৈরি হয়েছে, ঠিক সে সময়ে দেশের রেকর্ড ঋণগ্রহণের তথ্য প্রকাশ পেল। চলতি অর্থবছরের ১১ মাস (জুলাই-মে) পর্যন্ত বিশে^র বিভিন্ন দেশ ও উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে দেশে বিদেশি ঋণ এসেছে ৮৪১ কোটি ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ ঋণের পরিমাণ ছিল ৫৭২ কোটি ডলার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ-ইআরডি গতকাল বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে।

ইআরডির হালনাগাদ তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশের ইতিহাসে এর আগে কোনো অর্থবছরের পুরো সময়েও এত বেশি বিদেশি ঋণ আসেনি। এর আগে ২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বিদেশি ঋণ আসে। ওই বছর ৭৩৮ কোটি ডলার ঋণ পাওয়া গিয়েছিল। এরপর গত ২০২০-২১ অর্থবছরে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ৭১০ কোটি (৭.১ বিলিয়ন) ডলার ঋণসহায়তা পেয়েছিল বাংলাদেশ।

প্রতিবেদন ঘেঁটে দেখা যায়, অর্থবছরের ১১ মাসে বিভিন্ন দাতা দেশ ও সংস্থার কাছ থেকে ৮৪১ কোটি ৬০ লাখ ডলারের ঋণসহায়তা পেয়েছে বাংলাদেশ। বর্তমান বিনিময় হার হিসাবে (প্রতি ডলার ৯২ টাকা ৯৫ পয়সা) টাকার অঙ্কে এ অর্থের পরিমাণ ৭৮ হাজার ২২৭ কোটি; যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৪৭ শতাংশ বেশি। আর গত অর্থবছরের পুরো সময়ের চেয়ে বেশি ১৪ শতাংশ। চলতি অর্থবছর শেষে ঋণের অঙ্ক ৯ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা করছেন ইআরডি কর্মকর্তারা। চলতি অর্থবছরে যে ঋণ এসেছে তার প্রায় ৯৮ শতাংশই এসেছে প্রকল্প সহায়তা হিসেবে।

মে মাসের হালনাগাদ তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১১ মাসে সবচেয়ে বেশি ঋণ এসেছে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) থেকে। এ সংস্থার কাছ থেকে এসেছে ২০৭ কোটি ৯২ লাখ ডলার। এছাড়া দেশ হিসেবে সবচেয়ে বেশি ঋণ এসেছে জাপানের কাছ থেকে, ১৭৭ কোটি ৯৪ লাখ ডলার। তবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর কাছ থেকে ঋণ এসেছে সবচেয়ে কম, মাত্র ১০ কোটি ডলার। ইউরোপীয় দেশগুলোর কাছ থেকে এসেছে ১২৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার।

এদিকে ঋণপ্রাপ্তির পাশাপাশি ঋণ পরিশোধের পরিমাণও বেড়েছে। চলতি অর্থবছরে আগের নেওয়া ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধের পরিমাণ বেড়েছে ১০ শতাংশ। এ সময়ে সরকার আসল ও সুদ বাবদ উন্নয়ন সহযোগীদের ১৮৮ কোটি ৬৭ লাখ ডলার শোধ করেছে। এর মধ্যে আসল ১৪১ কোটি ৮৩ লাখ ডলার ও ঋণের সুদ হিসেবে ৪৬ কোটি ৮৩ লাখ ডলার পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ। গত অর্থবছরে একই সময়ে এ অঙ্ক ছিল ১৭১ কোটি ৫৬ লাখ ডলার। ইআরডির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাংলাদেশে বিদেশি ঋণ বাড়তে থাকে ২০১৭-১৮ অর্থবছর থেকে। ওই বছরই এক লাফে অর্থছাড় ৩০০ কোটি থেকে ৬৩৭ কোটি ডলারে উন্নীত হয়। তারপর ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আসে ৬৫৪ কোটি ডলার। শ্রীলঙ্কায় অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের পর বাংলাদেশের বিদেশি ঋণ নিয়েও নানা কথা হচ্ছে। যদিও দুই দেশের তুলনা নাকচ করছেন অর্থনীতি বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, বাংলাদেশের জিডিপির তুলনায় বৈদেশিক ঋণ এখনো ১৩ শতাংশের নিচে আর শ্রীলঙ্কার ক্ষেত্রে তা ৫০ শতাংশের কাছাকাছি।

ইআরডি গতকাল বিদেশি ঋণসহায়তার প্রতিশ্রুতি ও ছাড়ের হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, ২০২১-২২ অর্থবছরের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত বাংলাদেশকে ৫৯১ কোটি ডলার ছাড় করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল উন্নয়ন সহযোগীরা। পাওয়া গেছে ৮৪১ কোটি ৬০ লাখ ডলার। এ হিসাবে এই ১০ মাসে দাতারা বাংলাদেশকে যে ঋণ দিতে চেয়েছিল তার থেকেও ৪২ দশমিক ৪০ শতাংশ বেশি ছাড় করেছে। অবশ্য আগের বছরের প্রতিশ্রুতির অর্থও এ সময়ে এসেছে।

ছাড় করা ঋণের মধ্যে ৮২২ কোটি ৭৫ লাখ ডলার পাওয়া গেছে প্রকল্প সাহায্য হিসেবে। ১৮ কোটি ৮৫ লাখ ৪০ হাজার ডলার পাওয়া গেছে অনুদান। এর মধ্যে ২৫ লাখ ৩০ হাজার ডলার খাদ্য অনুদান এবং ১৮ কোটি ৬০ লাখ ১০ হাজার ডলার প্রকল্প অনুদান হিসেবে পাওয়া গেছে। ইআরডির তথ্য বলছে, ২০২০-২১ অর্থবছরের জুলাই-মে সময়ে ৫৩৬ কোটি ২৭ লাখ ডলারের ঋণসহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল দাতারা। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে ঋণের প্রতিশ্রুতি ১০ দশমিক ২০ শতাংশ বেড়ে ৫৯১ কোটি ডলার হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত