পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের বহু আকাক্সিক্ষত সেতুটিকে নদীর ভাঙন থেকে রক্ষা করতে নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে নদীশাসন। প্রমত্তা পদ্মার বুক চিরে সগৌরবে জানান দেওয়া সেতুটির জন্য নদীশাসনও ছিল একটি চ্যালেঞ্জ। তাই পদ্মার দুই পাড়কে এক করা দেশের সবচেয়ে দীর্ঘ সেতুটির মাওয়া ও জাজিরা প্রান্তে নদীশাসনের কাজটি করা হয়েছে খুব যত্মসহকারে। পাশাপাশি নদীশাসনের অবকাঠামো ভ্রমণপিপাসুদের নতুন গন্তব্য হয়ে উঠছে। নদীশাসন, সংযোগ সড়ক এবং অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১২ হাজার কোটি টাকা। নদীশাসনের জন্য প্রথমে বালুভর্তি বিশেষ জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে পাড়ে। এরপর আগে থেকে বানিয়ে রাখা চৌকো আকৃতির কংক্রিটের ব্লক একটার পর একটা নদী পাড়ে বিশেষ কায়দায় স্থাপন করা হয়েছে; যা নদীর পাড়ের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণ। এই সেতু প্রকল্পে নদীশাসন হয়েছে দুই পাড়ে ১৪ দশমিক ৩ কিলোমিটার। নদীশাসনের ফলে পুরো প্রকল্প এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে এক মনোরম দৃশ্যের।
আগে প্রতিবছর বর্ষাকালে নদীর এসব পাড়ে ভাঙন দেখা দিত। নদীর উত্তাল ঢেউয়ে নদীগর্ভে চলে যেত বসতবাড়ি, কৃষিজমি। পদ্মা সেতুর নদীশাসন করার পর স্বস্তিতে ওই এলাকার বাসিন্দারা। পদ্মা নদীশাসনের কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিনোহাইড্রো। নদীশাসনের প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো নদীভাঙন রোধ করে মূল সেতু রক্ষা করা। নদীভাঙন রোধ করা না গেলে ভাঙনপ্রবণ এলাকায় নদী তার গতিপথ পরিবর্তন করে নতুন নদী সৃষ্টি করবে। এতে দেখা যাবে সেতু থাকবে এক জায়গায়, নদী থাকবে আরেক জায়গায়।
