পদ্মা সেতুর উদ্বোধনে একসময়ের অবহেলিত জনপদের সাধারণ মানুষ ও প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে থাকা ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হলো। ঢাকার খুব কাছের জেলা শরীয়তপুর, তবু বাতির নিচে যেমন অন্ধকার ঠিক তেমন অবস্থা ছিল জেলার পরিবহনব্যবস্থার। একদিকে সড়কের বেহাল দশা, অন্যদিকে প্রমত্তা পদ্মার কারণে যাতায়াতব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও সময়সাপেক্ষ। তাই পদ্মা সেতুর উদ্বোধনকে ঘিরে নতুন করে জেগে উঠেছে শরীয়তপুরের পরিবহন খাত। বিনিয়োগ হয়েছে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। দীর্ঘ প্রায় সতের বছরের অচলাবস্থা কাটিয়ে শরীয়তপুরের পরিবহন খাতও ডানা মেলেছে স্বপ্ন ছোঁয়ার। ইতিমধ্যে জেলার ৪টি পরিবহন কোম্পানি শুরু করেছে আধুনিকায়নের কাজ। নতুন সাজে অত্যাধুনিক দুই শতাধিক এসি-ননএসি বাস প্রস্তুতে দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন শ্রমিকরা।
শরীয়তপুর সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপ ও পরিবহন ব্যবসায়ীরা জানান, পদ্মা সেতুর উদ্বোধনকে ঘিরে যাত্রীদের আধুনিক সেবা নিশ্চিত করতে শরীয়তপুর সুপার সার্ভিস প্রাইভেট কোম্পানি, শরীয়তপুর পদ্মা ট্রাভেলস, শরীয়তপুর পরিবহন ও গ্লোরি এক্সপ্রেসসহ আরও অনেক কোম্পানিই এ খাতে নতুনভাবে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। মালিকপক্ষও দিন গুনছে পরিবহনের সোনালি দিনের। পদ্মা সেতু চালুর খবরে শরীয়তপুর সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপ ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে সরাসরি বাস চালানোর উদ্যোগ নেয়। শরীয়তপুর থেকে ঢাকার গুলিস্তান, কমলাপুর, সায়েদাবাদ, ভুলতা, গাউছিয়া ও নারায়ণগঞ্জে বাসগুলো চলাচল করবে।
শরীয়তপুর সুপার সার্ভিস প্রাইভেট কোম্পানি ৫০টি নতুন বাস প্রস্তুত করেছে। এ ছাড়া পদ্মা ট্রাভেলস, শরীয়তপুর পরিবহন ও গ্লোরি পরিবহন ঢাকার সঙ্গে সরাসরি বাস চালাতে প্রস্তুত। প্রতিটি কোম্পানি নতুন বাস এনেছে। তাদের মধ্যে পদ্মা ট্রাভেলস ও শরীয়তপুর পরিবহনের কয়েকটি বাস ইতিমধ্যে ঢাকা থেকে মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া পর্যন্ত চলাচল করছে। কোম্পানিগুলো প্রাথমিকভাবে ৩০০টি বাস চালু করছে। যার একেকটিতে খরচ পড়ছে ৮০-৯০ লাখ টাকা।
শরীয়তপুর সুপার সার্ভিস প্রাইভেট কোম্পানির মালিক পক্ষের সাইম মোল্লা বলেন, পদ্মা সেতু চালু হবে এই স্বপ্ন নিয়ে দীর্ঘদিন লোকসানে থেকেও ব্যবসা টিকিয়ে রেখেছি। আমি পরিবহন খাতে বিনিয়োগ করেছি। পদ্মা সেতু চালুর দিন থেকেই আমরা ঢাকায় যাত্রী পরিবহন করতে চাই। আমাদের কোম্পানির এসি ও নন-এসি বাস চলবে।’
গাড়ি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান আইশারের বিক্রয় কর্মকর্তা নকুল চন্দ্র হালদার বলেন, পদ্মা সেতু ঘিরে ঢাকায় নতুন বাস চালাতে পরিবহন মালিকরা তাদের কাছ থেকে ইঞ্জিনসহ চেসিস কিনছেন। ভালো সাজসজ্জার পাশাপাশি বডি বানিয়ে নিচ্ছেন। যাত্রীরা নতুন সেতু দিয়ে আধুনিক বাসে আরামদায়ক ভাবে যাতায়াত করতে পারবেন।
