কর্মীদের চেষ্টায় ঘুরে দাঁড়িয়েছে জনতা ব্যাংক

আপডেট : ২৭ জুন ২০২২, ০৬:৪৭ এএম

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম মাহফুজুর রহমান বলেছেন, ‘ব্যাংকটি একসময় উল্টো দিকে হেঁটেছে। কিন্তু গত তিন বছরে ব্যাংকের অভূতপূর্ব উন্নতি হয়েছে। এই কৃতিত্ব আমরা পরিচালকরা নিতে চাই না। এজন্য আমি ব্যাংকের সকল পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ দেব। তাদের নিরলস প্রচেষ্টায় এই উন্নতি ঘটেছে।’

গতকাল রবিবার রাজধানীর মতিঝিলে জনতা ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ১৫তম বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) চেয়ারম্যান ড. মাহফুজুর এসব কথা বলেন। এসময় তিনি ব্যাংক কর্মীদের বড় ঋণে না গিয়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতে ঋণ বিতরণ বাড়ানোর তাগিদ দেন। তিনি বলেন, দেশে সম্প্রতি ড্রাগন চাষ শুরু হয়েছে। এই খাতে ঋণ বিতরণ বৃদ্ধি পেলে খাতটি আরও বড় হবে।

এজিএমে জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী (সিইও) কিশোর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুছ ছালাম আজাদ ব্যাংকের বিভিন্ন কর্মকা-ে আর্থিক ফলাফলের বিস্তারিত বিবরণসহ ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংকটের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত আর্থিক খাত পুনরুজ্জীবিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বিগত বছরের ত্রুটি বিচ্যুতিগুলো কাটিয়ে জনতা ব্যাংক ২০২২ সালে আরও সাফল্য দেখাবে আশা করি।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, আগের বছরের তুলনায় ব্যাংকের মোট আমানতের পরিমাণ ২৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেড়ে ১ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। ব্যাংকের ইপিএস (শেয়ারপ্রতি আয়) ২০২০ সালে ছিল ৬৪ পয়সা, ২০২১ সালে তা ২০ গুণ বেড়ে দাঁড়ায় ১২ টাকা ৯৮ পয়সা। ঋণ ও অগ্রিমের পরিমাণ ১৫ দশমিক ৫৮ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে বিগত বছরের চেয়ে পরিচালন মুনাফা ২২ কোটি টাকা বেড়ে  এবার ১ হাজার ২ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। আর নিট মুনাফা অর্জিত হয়েছে ৩০০ কোটি ৩২ লাখ টাকা। অথচ গত বছর এ মুনাফার পরিমাণ ছিল ১৪ কোটি ৩২ লাখ টাকা। কৃষি খাতে বিতরণকৃত ঋণ ২ হাজার ৬৯ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা এবং এসএমই খাতে ঋণ ১১ হাজার ২৭৯ কোটি টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১১ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।

বিনিয়োগ খাতে ৩৪ দশমিক ০৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধিসহ অর্জিত হয়েছে ৩৬ হাজার ৭৬৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি সিকিউরিটিজ খাতে ৩০ হাজার ৮৮৭ কোটি টাকা। মোট সম্পদ ১৯ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেড়ে ১ লাখ ২৪ হাজার ৯৫৪ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

সভায় আব্দুছ ছালাম আজাদ আরও জানান, জনতা ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ২২ দশমিক ৬৯ শতাংশ থেকে ১৭ দশমিক ৬১ শতাংশে নেমে ১২ হাজার ৩১৯ কোটি টাকা হয়েছে। খেলাপি ঋণ থেকে ২৮৩ কোটি টাকা এবং অবলোপনকৃত ঋণ থেকে ৮৭ কোটি টাকাসহ মোট ৩৭০ কোটি টাকা নগদ আদায় সম্ভব হয়েছে। ইতিমধ্যে তদারকি বৃদ্ধি ও ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় বছর শেষে শ্রেণিকৃত ঋণ ক্রমান্বয়ে আরও কমে আসবে আশা করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, আমদানি খাতে ৪৭ দশমিক ৭০ শতাংশ এবং রপ্তানি খাতে ৮৪ দশমিক ০১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে জনতা ব্যাংকের। লোকসানি শাখার সংখ্যা ৫১টি থেকে কমে ৩৯টিতে নেমেছে। ২০২১ সালে ভ্যাট ও আবগারি শুল্ক বাবদ জনতা ব্যাংক সরকারি কোষাগারে মোট ৯০৬ কোটি টাকা জমা করেছে। আগের বছর জমার পরিমাণ ছিল ৭৫০ কোটি টাকা। এ ছাড়া জনতা ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান জনতা ক্যাপিটাল অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড ১১৭ কোটি টাকা পরিচালন মুনাফা অর্জন করেছে, যা পূর্ববর্তী বছর ছিল ১৯ কোটি টাকা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত