পদ্মা সেতু নির্মাণ নিয়ে দুর্নীতির মিথ্যা ও কাল্পনিক অভিযোগ সৃষ্টির নেপথ্যের ব্যক্তিদের খুঁজতে কমিশন গঠন প্রশ্নে হাইকোর্টের দেওয়া রুলের ওপর শুনানি হতে পারে আজ সোমবার। গতকাল রবিবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের হাইকোর্ট বেঞ্চে রাষ্ট্রপক্ষ বিষয়টি শুনানির জন্য উপস্থাপন করলে আদালত এটি আজকের কার্যতালিকায় রাখার আদেশ দেয়।
রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক। দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, ‘রুলটি শুনানির জন্য আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলাম। আদালত বলেছেন এটি আজকের কার্যতালিকায় থাকবে।’
২০১৭ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি একটি জাতীয় দৈনিকে ‘ইউনূসের বিচার দাবি : আওয়ামী লীগ ও সমমনা দলগুলো একাট্টা’ শীর্ষক শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশের পর এটি হাইকোর্টের নজরে আনা হয়। এতে বলা হয়, পদ্মা সেতু নির্মাণে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন থেকে সরে যাওয়ার কারণ পর্দার আড়ালে নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস কলকাঠি নাড়ছেন বলে মনে করে সরকার। কানাডার আদালত পদ্মা সেতু দুর্নীতির মামলা খারিজ করে দেওয়ার পর সরব হয়ে উঠেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও সমমনা দলগুলো। পদ্মা সেতু ইস্যুতে দুর্নীতির মিথ্যা অভিযোগ তুলে বাংলাদেশের সরকারের ভাবমর্যাদা নষ্ট করায় ড. ইউনূসকে বিচারের মুখোমুখি করা উচিত বলে মনে করে আওয়ামী লীগ ও সমমনা দলগুলো।
বিষয়টি আমলে নিয়ে হাইকোর্ট প্রকৃত ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজতে একটি কমিশন গঠন এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল দেয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, যোগাযোগ সচিব, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান এবং পুলিশ মহাপরিদর্শককে রুলের জবাব দিতে বলা হয়।
একই সঙ্গে এ বিষয়ে একটি কমিশন গঠনের ব্যাপারে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তাও জানতে চায় আদালত। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানান, সরকারের একাধিক দপ্তর থেকে রুলের জবাব এসেছে। ওই বছরেই কমিশন গঠনের বিষয়ে একজনের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে বলে হাইকোর্টকে অবহিত করেছিল সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়।
