দুই ঘণ্টায় বিশ্বের যেকোনো জায়গায় যাত্রী পরিবহন

আপডেট : ২৮ জুন ২০২২, ০৩:৩৭ এএম

জুলভার্নের লেখা মাত্র ৮০ দিনে বিশ্বভ্রমণ কল্পনাপ্রসূত রোমাঞ্চ গল্প। এত অল্প সময়ে পৃথিবী ঘুরে আসা আপাতত কল্পবিজ্ঞান মনে হলেও অদূর ভবিষ্যতে হতে পারে বাস্তব। ইতিমধ্যে শব্দের চেয়ে দ্রুতগতির হাইপারসনিক বেসামরিক উড়োজাহাজ তৈরির গবেষণায় প্রাথমিক সাফল্য মিলতে শুরু করেছে। শব্দের চেয়ে ৬ গুণ দ্রুতগতিতে যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ উদ্ভাবনের পরীক্ষার প্রথমপর্ব সম্পন্ন করেছে চীন। 

নানকিয়াং নাম্বার ওয়ান নামের ৫০০ কেজি ওজনের একটি হাইপারসনিক উড়োজাহাজের নমুনা পরীক্ষা চালিয়েছেন চীনের বিজ্ঞানীরা। যাত্রীবিহীন এই উড়োজাহাজটি স্বাভাবিক উড়োজাহাজের মতো রানওয়ে থেকে উড়তে সক্ষম। 

২০২৫ সাল নাগাদ এ নিয়ে সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হলে অন্তত ১০ জন যাত্রীকে নিয়ে শব্দের চেয়ে ৬ গুণ বা ম্যাক সিক্স গতিতে ৬ হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিতে পারবে তাদের হাইপারসনিক উড়োজাহাজ।

চীনের যাত্রীবাহী হাইপারসনিক উড়োজাহাজ প্রকল্পের বিজ্ঞানী ইয়িন জেয়ং আশা করেন এই প্রযুক্তি সক্ষমতা উড়োজাহাজে বিশ্বভ্রমণের সময় বহুলাংশে কমিয়ে আনবে। মানব সভ্যতাকে বদলে দেবে। এমনকি হাইপারসনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে মাত্র ২ ঘণ্টায় পৃথিবীর যেকোনো জায়গায় পৌঁছানো সম্ভব হবে।

বিশ্বের পরাক্রমশালী কয়েকটি দেশ হাইপারসনিক প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। চীন এদিক দিয়ে এগিয়ে আছে বলে দাবি করছে চীনা গণমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট। গণমাধ্যমটি        জানিয়েছে, ২০৩৫ সাল নাগাদ মাত্র ১ বা ২ ঘণ্টায় বিশ্বের যেকোনো জায়গায় যাত্রীদের পৌঁছে দিতে সক্ষম হাইপারসনিক উড়োজাহাজ বানানোর পরিকল্পনা আছে চীনের। অনেকটা গোপনেই এই প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছিল দেশটি। 

এতদিন হাইপারসনিক প্রযুক্তি কেবল সামরিক খাতে আটকে ছিল। ইতিমধ্যে হাইপারসনিক মিসাইল বানিয়েছে কয়েকটি দেশের সামরিক বাহিনী। হাইপারসনিক মিসাইল সাধারণ মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কাজ করার আগেই সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত