‘নাটবল্টু খুলতে সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়েছে’

আপডেট : ২৮ জুন ২০২২, ০৩:৪৭ এএম

পদ্মা সেতুর নাটবল্টু খালি হাতে খোলা সম্ভব নয় দাবি করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) বলেছে, নিশ্চয় কোনো সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়েছে বলে তারা ধারণা করছে।

উদ্বোধনের পরদিন গত রবিবার পদ্মা সেতু যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। ওইদিন এক যুবকের টিকটক ভিডিও ফেইসবুকে ভাইরাল হয়। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, যুবকটি হাত দিয়ে সেতুর রেলিংয়ের নাটবল্টু খুলছে।

এ ঘটনায় দুজনের জড়িত থাকার তথ্য জানায় সিআইডি। বিকেলে রাজধানীর শান্তিবাগ এলাকা থেকে বায়েজিদ তালহা নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল সোমবার ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে সিআইডি তাকে আদালতে পাঠায়। শুনানি শেষে আদালত তার ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।

গতকাল দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে পদ্মা সেতুর নাটবল্টু খোলার বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির সাইবার ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার রেজাউল মাসুদ বলেন, পদ্মা সেতুতে দাঁড়ানো বা ছবি তোলা নিষেধ হলেও প্রথমদিন শিথিলতার সুযোগে বায়েজিদ তালহা নামের এই যুবক অসৎ উদ্দেশ্যে খুলে নিয়েছেন পদ্মা সেতুর নাট-বল্টু।

তিনি বলেন, নাট-বল্টু খোলার দৃশ্য ধারণ করে তার নিজস্ব টিকটক অ্যাকাউন্ট ও ফেইসবুকে আপলোড করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ভিডিও দেওয়া হলে মুহূর্তে টিকটকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। বিভিন্ন অনলাইন নিউজ পোর্টালেও এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

সিআইডি কর্মকর্তা বলেন, ভিডিওতে দেখা যায়, পদ্মা সেতু নিয়ে যুবকটি তুচ্ছতাচ্ছিল্য এবং ব্যঙ্গাত্মক অঙ্গভঙ্গি এবং হাসাহাসি করছে। ভাইরাল ভিডিওতে দেখা গেছে, পদ্মা সেতুর রেলিংয়ের দুটি নাট খুলে, খোলা নাট হাতে নিয়ে তিনি বলেন, ‘এই হলো পদ্মা সেতু আমাদের...পদ্মা সেতু। দেখো আমাদের হাজার হাজার কোটি টাকার পদ্মা সেতু। এই নাট খুইলা এহন আমার হাতে।’ এ সময় পাশে থেকে আরেক ব্যক্তি বলেন, ভাইরাল কইরা ফালায়েন না।

রেজাউল মাসুদ আরও বলেন, ‘টিকটকে ভিডিওটি আপলোড হওয়ার পর তা সিআইডির সাইবার পুলিশের মনিটরিং টিমের নজরে আসে। সিআইডি সাইবার মনিটরিং টিম দ্রুত যুবককে শনাক্ত করে। এরপর বিকেলে রাজধানীর শান্তিনগর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।’

বায়েজিদ তালহার কোনো রাজনৈতিক পরিচয় আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে। কিন্তু আমরা তার অপরাধটাকেই গুরুত্ব সহকারে দেখছি।’ সিআইডি কর্মকর্তা বলেন, ‘পদ্মা  সেতুর নাটবল্টু হাত দিয়ে খোলা সম্ভব নয়। এ বিষয়ে আমরা সেতু কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও আলোচনা করে জেনেছি, এত বড় একটা স্থাপনার নাটবল্টু হাত দিয়ে  খোলা যাবে না। এতে বোঝা যায় নাটবল্টু হাত দিয়ে খোলা হয়নি, নাটবল্টু  খোলার জন্য সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়েছে।’ তবে কী ধরনের সরঞ্জাম দিয়ে নাটবল্টু খোলা হয়েছে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি সিআইডির এ কর্মকর্তা।

সংবাদ সম্মেলনে রেজাউল মাসুদ আরও বলেন, ওই যুবককে গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাটবল্টু খোলার কথা স্বীকার করেছেন। তবে কী দিয়ে খুলেছেন সেটা বলেননি। তারা একটি গাড়ি নিয়ে সেখানে গিয়েছিলেন, এই গাড়িতে এই যুবক ছাড়া আরেকজন ছিলেন।

বায়েজিদের বিরুদ্ধে পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে কী কী আলামত দেখানো হয়েছে, জানতে চাইলে সিআইডি কর্মকর্তা রেজাউল মাসুদ বলেন, তার কাছ থেকে মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়েছে, সেটা মামলার আলামত হিসেবে দেখানো হয়েছে। তবে নাটবল্টু এখনো উদ্ধার করা হয়নি, সে কারণে মামলায় এগুলো আলামত হিসেবে  দেখানো হয়নি। এগুলো উদ্ধার সাপেক্ষে পরবর্তী সময়ে আলামত হিসেবে  দেখানো হবে।

বায়েজিদের গ্রামের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর : পদ্মা সেতুর নাটবল্টু খুলে টিকটক করে গ্রেপ্তার হওয়া বায়েজিদ তালহার পটুয়াখালীর গ্রামের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল সোমবার বিকেল ৫টার দিকে পটুয়াখালীর লাউকাঠি ইউনিয়নের তেলিখালী গ্রামের মৃধাবাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার সময় ঘরে থাকা বায়েজিদের মেজো ভাবি হাদিসা বেগম জানান, আট-নয়টি মোটরসাইকেলযোগে ২০-২৫ সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাড়িতে উপস্থিত হয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় বড় বড় রামদা, দা, কুড়াল দিয়ে ঘরের সামনের ও পশ্চিম পাশের টিনের বেড়া কুপিয়ে ভাঙচুর করে। একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা ঘরে প্রবেশ করে মালামাল তছনছ করে। তিনি জানান, তার স্বামী সোহাগ মৃধা পটুয়াখালী শহরের ফায়ার সার্ভিস অফিসে কর্মরত থাকলেও ঘটনার সময় তিনি ঢাকায় ছিলেন।

পাশের ঘরের জাহেদা আক্তার বলেন, ‘টিন ভাঙচুর ও কোপানোর শব্দ শুনে আমরা দৌড়ে এসে দেখি ২০-২৫ বছর বয়সী অনেক পোলাপান ঘরের টিন ভাঙচুর করছে। তাদের অপরিচিত বলে মনে হয়েছে। তবে তাদের কথাবার্তায় পটুয়াখালীর আঞ্চলিকতা রয়েছে।’ তিনি জানান, হাদিসা ভাবির স্বামী সোহাগের নতুন মোটরসাইকেলটিও ভাঙচুর করে দুর্বৃত্তরা।

ওয়ার্ডের মেম্বার মিজানুর রহমান জানান, মোবাইল ফোনে তার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিষয়টি জানিয়েছেন। তারপর তিনি চৌকিদারকে ওই বাড়িতে পাঠিয়েছেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, যারা এ হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে তারা সবাই অপরিচিত। তবে হাদিসা জানিয়েছেন, সন্ত্রাসীদের কয়েকজনকে দেখলে তিনি চিনতে পারবেন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত সদর থানার এসআই ছলিমুর রহমান বলেন, ‘ওসির নির্দেশে ঘটনাস্থলে এসে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছি। ঘরের টিন কুপিয়েছে, কিছু মালামাল ভাঙচুর করা হয়েছে। সবার সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত পরে জানাতে পারব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত