পদ্মা সেতু চালুর প্রথম দিন থেকেই দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া ঘাটে কমেছে যানবাহনের চাপ। দুই ঘাটের সড়কও ছিল অনেকটা ফাঁকা। অন্যান্য সময়ের মতো ঘাটে দেখা যায়নি অপেক্ষমাণ যানবাহনের দীর্ঘ সারি। উল্টো দুই ঘাটে যানবাহনের অপেক্ষায় থাকতে দেখা গেছে ফেরিগুলোকে।
ঘাট সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ধারণা করা হচ্ছে আনুষ্ঠানিকভাবে সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ায় এই রুটের ব্যবহারকারী উৎসুক মানুষ বেশিরভাগ বহুমুখী পদ্মা সেতু দিয়ে পারাপার হয়েছে, যার ফলে দুই দিন ধরে অনেকটা ফাঁকা পড়ে আছে ঘাট।
তবে বিআইডব্লিউটিসি ঘাট সূত্র বলছে, এখনই ঘাটের পরিস্থিতি বোঝা যাচ্ছে না। সেতু চালু হয়েছে বলে অনেকেই সেখান দিয়ে পারাপার হচ্ছেন। যার কারণে ঘাট কিছুটা ফাঁকা, চালুর যে প্রভাব কিছুটা হলেও এই দিকে পড়বে, তবে এই প্রভাব বুঝতে হলে সপ্তাহ বা মাস হলে এর বাস্তব চিত্র ফুটে উঠবে।
গত দুই দিনে দৌলতদিয়া ঘাট ঘুরে দেখা যায় ঘাটের জিরো পয়েন্টে অপেক্ষমাণ যানবাহনের সংখ্যা অনেকটা কম। অন্যান্য সময়ে যেখানে জিরো পয়েন্ট হতে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ৩ থেকে ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট লেগে থাকত সেখানে পদ্মা সেতু যানবাহন পারাপারের দিন থেকেই ঘাট ফাঁকা যাচ্ছে, ফেরিগুলোকে দেখা গেছে যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করতে।
প্রায় একই অবস্থা দেখা গেছে পাটুরিয়া ঘাটেও। চার দিন আগে ২৪ ও ২৫ জুন দুই দিন এই নৌরুটে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা সব সময় সহস্রাধিক যানবাহন ফেরি পারাপারের অপেক্ষায় ছিল। আর সেই চিত্র পদ্মা সেতু উদ্বোধনের দিন থেকেই পাল্টে গেছে। পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের দ্বিতীয় দিন ২৬ জুন পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুট দিয়ে ছোট-বড় মিলিয়ে পার হয়েছে পাঁচ হাজার ৩৬৩টি যানবাহন। সোমবার ভোর ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ছোট-বড় মিলিয়ে পারাপার হয়েছে মাত্র ৭৭৫টি যানবাহন। বলা হচ্ছে, ৩-৪ দিন আগে যেখানে পণ্যবাহী ট্রাকের ন্যূনতম ৫-১০ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতো ফেরির জন্য। আর যাত্রীবাহী বাস ও ব্যক্তিগত যানবাহনগুলোকে ২-৩ ঘণ্টা বসে থাকতে হতো নদী পারের জন্য। সোমবার সকাল থেকে ছোট-বড় মিলে ২১টি ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। ফলে ফেরি এখন অপেক্ষা করছে যানবাহনের জন্য। গত রবিবার ও সোমবার দিনভর ঘাট ছিল সম্পূর্ণ ফাঁকা। টার্মিনালে ছিল না কোনো ট্রাক। ঘাট এলাকায় আসা মাত্রই ফেরিতে উঠতে পারছে।
এদিকে ঘাটে জট না লাগায় বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, হোটেল মালিক ও হকাররা। তাদের ব্যবসার মূল আয় আসত এই যানবাহন ও তাদের যাত্রীদের কাছে খাবার, বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করে। তারা বলছেন, যানবাহন কমে গেলে, যাত্রী কমে গেলে, তাদের আয়ও কমে যাবে।
বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শিহাব উদ্দিন বলেছেন, পদ্মা সেতু চালুর প্রথম দিন ঘাট কিছুটা ফাঁকা থাকলেও এর কেমন প্রভাব পড়বে তা এখনই বলা যাচ্ছে না।
বিআইডব্লিউটিসির আরিচা কার্যালয়ের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) শাহ মো. খালেদ নেওয়াজ বলেন, দেশের উন্নয়নের প্রতীক পদ্মা সেতু। যেখানে আমাদের এই পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে যানবাহনগুলোকে ফেরি পার করতে হিমশিম খেতে হতো, সেখানে পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর কোনো প্রকার ভোগান্তি ছাড়াই নদী পার হতে পারছে।
