পদ্মা সেতুতে যানবাহন চলাচল শুরুর প্রথম দিনেই ঢল নামে মোটরসাইকেলের। তবে টোল প্লাজায় মোটরসাইকেল চালকদের বিশৃঙ্খলা ও রাতে বেপরোয়া গতির কারণে সেতুর ওপর দুর্ঘটনায় দুজনের মৃত্যুর পর মোটরসাইকেল ওঠা বন্ধ করে দেওয়া হয়। ভোগান্তিতে পড়তে হয় হাজার হাজার বাইকারকে। কেউ কেউ সেতুর ওপর দিয়ে পিকআপে মোটরসাইকেল পার করেন। তবে পরে সেটিও বন্ধ করা হয়, যা নিয়ে ক্ষোভ দেখা গেছে মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় সমালোচনা। এর প্রেক্ষিতে গতকাল নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেল আবার চলবে কি না, সে বিষয়ে রাডার স্পিড গান ও সিসি ক্যামেরা বসানোর পর সিদ্ধান্ত নেওয়া
হবে। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে একথা জানান প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এটা যে অনির্দিষ্টকালীন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, ব্যাপারটা তা নয়। এটা এখন বন্ধ আছে।...মোটরবাইকের সম্পর্কে যেটা বলা হয়েছে, সেখানে এখন স্পিড গান, সিসি টিভি বসানো হবে। সেগুলো স্থাপনের পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত।’
পদ্মা সেতু খোলার পর রেলিংয়ে নাট খোলার বিষয়টি নিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা। নাট খোলার টিকটক ভিডিও তৈরিতে যুক্ত এক যুবককে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখন নাট খোলার সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি যে একজন নেত্রী, যিনি এতিমের টাকা আত্মসাতের জন্য কারাবরণ করে আছেন, তিনি নিজেই বলেছেন পদ্মা সেতুতে কেউ যাবেন না ভেঙে পড়বে, এটার নাট-বল্টু জোড়াতালির। জোড়াতালির রাজনীতির অবস্থা তো এরকমই হবে। তাকে যারা ফলো করেন, তারা তো এটাকে সত্যই মনে করবেন।’
গত শনিবার উদ্বোধনের পর রবিবার সকাল ৬টায় খুলে দেওয়া হয় বহু প্রতীক্ষিত পদ্মা সেতু। সেতুতে উঠতে ভোরেই শুরু হয় লাইন। সেতুতে ওঠার এই মিছিলে সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি ছিল মোটরসাইকেল। ১০০ টাকা টোল দিয়ে সেতুতে উঠে বাইকারদের অনেকেই নিয়ম না মেনে হুল্লোড়ে মাতেন। সন্ধ্যায় সেতুতে মোটরসাইকেলে চড়ে মোবাইলে ভিডিও করার সময় দুর্ঘটনায় পড়ে প্রাণ যায় দুই তরুণের। তারপর সেতুতে মোটরসাইকেল ওঠা নিষিদ্ধের ঘোষণা দেয় সেতু বিভাগ। সে সময়ে সেতু বিভাগের সচিব মো. মনজুর হোসেন বলেছিলেন, পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এ নিষেধাজ্ঞা তোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে গতকাল সেতুর সামনে কোনো যানজট ছিল না। মাঝে মাঝে কোনো কোনো টোল প্লাজার কাউন্টার অনেকক্ষণ ধরে ফাঁকা থাকতে দেখা গেছে বলে বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। সংবাদমাধ্যমটি বলছে, মাওয়া বা জাজিরাউভয় প্রান্তে প্রথম দিনের তুলনায় যানবাহনের সংখ্যা এক-চতুর্থাংশে নেমে এসেছে। এর কারণ হিসেবে কর্মকর্তারা বলছেন, মোটরসাইকেল বন্ধ করে দেওয়ার কারণে যানবাহনের চাপ ৭০ শতাংশ কমে গেছে। আবার কড়াকড়ির কারণে এবং সেতুতে দাঁড়াতে না দেওয়ার কারণে সেতু দেখতে আসা পর্যটকদের সংখ্যাও কমেছে।
সেতু কর্র্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী তোফাজ্জল হোসেন বলছেন, প্রথম দিন মোটরসাইকেলই ছিল মোট যানবাহনের মধ্যে ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ। সেটা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গাড়ির চাপ কমেছে।
