রাজস্ব আয় প্রতিমাসে গড়ে ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ার পরও চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা কমতে পারে। এই ঘাটতির পরিমাণ এক মাসে আহরিত রাজস্বের সমান। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্যমতে মে মাস পর্যন্ত ২ লাখ ৫২ হাজার ৯২০ কোটি টাকা কর সংগ্রহ করেছে এনবিআর, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি।
আনুমানিক হিসাবে বলা যায়, চলতি অর্থবছরের ৩০ জুনের মধ্যে ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল এনবিআরের। অর্থবছর শেষে আদায় হতে পারে ৩ লাখ কোটি টাকা। অর্থবছরের শেষ মাস জুনে এনবিআরকে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ৭৭ হাজার ৮০ কোটি টাকা কর রাজস্ব সংগ্রহ করতে হবে। বিগত পাঁচ বছরের আদায়ের প্রবণতা অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা কঠিন।
তবে পেট্রোবাংলাসহ রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান থেকে বড় অঙ্কের বকেয়া রাজস্ব আদায় করা গেলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আশাবাদী কর্মকর্তারা। এনবিআর ২০২২ সালের মে মাসে ২৫ হাজার ১৬৪ কোটি টাকা কর রাজস্ব সংগ্রহ করেছে। যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২২ হাজার ৪৮৯ কোটি টাকা।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, আগামী অর্থবছরের জন্য ৩ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। চলতি বছর রাজস্ব বৃদ্ধিতে অবদান রেখেছে আমদানি বৃদ্ধি এবং মূল্য সংযোজন কর। আগামী বছর কর ব্যবস্থা সংস্কারে যথাযথ উদ্যোগ না নিলে, সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধি ১২ থেকে ১৫ শতাংশের বেশি হবে না বলে তিনি মনে করেন।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, কর সংগ্রহ সাধারণত অর্থবছরের শেষ মাসে বৃদ্ধি পায়, যা এই বছরও হবে। এনবিআর করপোরেট ট্যাক্স জমা দেওয়ার সময় বাড়িয়েছে এবং বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকা- থেকে হোল্ডিং ট্যাক্স সংগ্রহ করা হবে।
তারা আরও বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বৃদ্ধি এই বছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কর রাজস্ব আহরণে করতে সহায়তা করেছে। রাষ্ট্রায়ত্ত পেট্রোবাংলা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান থেকে রাজস্ব আদায় করতে পারলে এনবিআর চলতি অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করতে সক্ষম হবে।
গত পাঁচ-ছয় বছরে, সরকার অর্থবছরের শেষের আগে মূল কর রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা সংশোধন করত। এই বছর, লক্ষ্য অপরিবর্তিত রয়েছে, কারণ এনবিআর তার সব প্রচেষ্টার মাধ্যমে লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌঁছাতে আশাবাদী। মে মাস পর্যন্ত, আমদানি কর আদায় ২৬ দশমিক ২৯ শতাংশ, আয়কর ১৮ শতাংশ এবং ভ্যাট ১০ দশমিক ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
